আমার জন্মদিন- ৩ য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন ।আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার জন্মদিনের তৃতীয় পর্ব । গতকাল যেখানে শেষ করেছিলাম ,তারপর থেকেই আজকে শুরু করছি।।
আমার হবু বর- আমার পার্টনার- আমার বন্ধু -আমার সব থেকে প্রিয় মানুষ একেবারে পরিবারের পারমিশন সহকারে আমার সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বহু ছবি তুলল সেদিন। সেই দৃশ্য সত্যিই আমাকে ভাবিয়ে তোলে, আমার মা রীতিমতো আমাকে ওর সাথে দাঁড় করিয়ে কত যে ছবি তোলালো। সবার সামনে আমারই কেমন একটা লাগছিল। কিন্তু আমি দেখছি আমার মা ই সাহস জোগাচ্ছে। হাহাহা ।আমি নিজেই অবাক। একটা সময় যে মা পাশে কোন ছেলে দাঁড়িয়ে থাকলে রীতিমত রেগে যেত, সেই ছবি দেখে ,সেই মা ,কি সুন্দর হবু জামাইয়ের সাথে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলাচ্ছে।
তবে এইসব ব্যাপারে কিন্তু আমার বাবা এখনো খুব পজেসিভ। মাঝেমধ্যে বাবাকে বলি ,বাবা তুমি আমার এনগেজমেন্ট আর বিয়েতে কি করবে বলতো। ফটোগ্রাফার তো বরের সাথে দাঁড় করিয়ে বহু ছবি তোলাবে, বিভিন্ন পোস দিয়ে, তখন তোমার কি হবে। আমি কখনো যদি আমার পার্টনারের সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে যাই ,আমার বাবা হা করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। সে তাকানোর মধ্যে একটা বিশাল তিক্ততা রয়েছে, যেন মনে হয় এই বুঝি ছেলেটাকে রেগে মেগে কিছু বললো। পৃথিবীর সব বাবা বোধহয় এরকমই হয়।
যাই হোক সবাই মিলে আমাকে খুব উৎসাহ দিয়ে ওর সাথে ছবিগুলো তোলালো। আর বেচারা খুব সুন্দর পোস দিয়ে আমার সাথে অনেক ছবি তুলল। ছবিগুলো ভীষণ মিষ্টি এসেছে।
কেক কাটার সময় আমার পাশের বাড়ির ভাই শুভ মৌসুমী বৌদিকে ভিডিও কল করে ভার্চুয়ালি কেক খাওয়াচ্ছিল। বেচারা বৌদি সেদিনকে সকালবেলায় ঘুরতে বেরিয়েছিল, বলেছিল সঠিক সময় সন্ধ্যেবেলায় আমার বাড়িতে এসে হাজির হবে। কিন্তু যেখানে গিয়েছিল সেখান থেকে ফিরতে এতই দেরি হয়েছে যে বাড়ি অব্দি পৌঁছতে পারেনি। তাই শেষ দিকে আমাকে ফোন করে রীতিমত ক্ষমা প্রার্থনা করে, কিন্তু আমি ভীষণ রেগে গেছিলাম।
আচ্ছা বলুন তো, নিজের এই স্পেশাল দিনগুলোতে যাদের আমরা ভালোবাসি তারা যদি কাছে না থাকে! কেমন রাগ হয়।!! মৌসুমী বৌদি @mou.sumi আমার কাছে এরকমই প্রিয় একজন। তাই ও আমার জন্মদিনে থাকবে না যখন আমি শুনলাম ,আমি ভীষণ ক্ষেপে গিয়েছিলাম। কথা দিয়েছিল আসবে। রাত হচ্ছে দেখে আমিও নিজের রাগটা একটু থামালাম। কারণ অত রাতে বাড়ি অব্দি পৌঁছাতে কোন সমস্যা হবে। তাই সেদিনকার মতন ওকে মাফ করে দিয়েছি। পরেরবার জন্মদিনে যদি আমার সাথে না থাকে , তাহলে ও জানে না ওর কি হবে!!!।
কেকটা অসাধারণ খেতে ছিল। এতটা ভালো কেকটা খেতে হয়েছে আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না ।এর আগে আমার ওই বোনের কাছ থেকে আর একবার অর্ডার করেছিলাম ঈশানের জন্মদিনের সময়। কিন্তু সেদিনকে অতটা আমার পছন্দ হয়নি। তবে আমার জন্মদিনে ও এত ভালো কেক বানাবে আমি ভাবতে পারিনি। চকলেট কেক ছিল ,আর ক্রিমটা ভীষণ ফ্রেশ ছিল। আমি নিজে যেহেতু কেক বানাতে পারি, তাই কেক বিষয়ে আমি ভীষণ খুঁতখুঁতে। সেদিন আমার কেক নিয়ে নালিশের জায়গা ছিল না।
যাইহোক আজকের মত এখানেই শেষ করছি আবার আগামীকাল বাকি কথা শেয়ার করব।




