বরের তরফ থেকে দ্বিতীয় দিনে জন্মদিনের আয়োজন

in Incredible India12 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260601103713.jpg
বরের তরফ থেকে আয়োজন

গতকালকে আপনাদের মাঝে জন্মদিনের সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম ।ব্যস্ততা মানুষকে সমস্ত কিছু ভুলিয়ে দেয়। আমি সত্যিই গত এক মাস ধরে প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে সময় কাটাচ্ছি। তবে আনন্দ মানুষকে সবকিছু উৎসাহ দেয়। ভেবেছিলাম এ বছরে হয়তো জন্মদিনটা কারোর মনে নেই । আমি নিজে থেকে কাউকে মনে করিয়ে দিই না। জোর করে কোনো কিছু কেউ আমার জন্য করুক সেটা একদমই আমি চাই না। আসলে যেটা মানুষের ভিতর থেকে আসে সেটাই আমাকে আনন্দ দেয়। জন্মদিনের দিন আমি ঘুম থেকে ওঠার পরেই শাশুড়ি মা বলেছিল আজকে তো তোমার জন্মদিন তবে বাড়িতে সেভাবে অ্যারেঞ্জ করতে পারছি না। তার পেছনে অবশ্য প্রচুর কারণ রয়েছে। আমার একটুও রাগ হয়নি।এদিকে বর ঘুম থেকে উঠে ওর মাকে বকাবকি করছিল আর বলছিল ওর জন্মদিনের সমস্ত আয়োজন করোনি কেন। ছেলেরা একটু অবুঝ হয়।যাই হোক সেই দিনটা আমি দুপুর বেলায় দিদার কাছেই কাটিয়েছিলাম।এই মানুষ টা আমার জীবনে একদম খাঁটি মানুষ।এনার ভালোবাসা একদম খাঁটি। উনার ভালোবাসা কারোর সাথে তুলনা করা যায় না। উনি যতটুকু পারে মন থেকে করেন।কিন্তু পরের দিনকে সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠেই বর বলেছিল আমি আজকে সমস্ত কিছু বাজার করে নিয়ে আসবো। আমি রান্না বান্না করব।

IMG20260601115729.jpg

বাড়িতে যেহেতু কাজকর্ম চলছে তাই আমি বারবার বারণ করছিলাম। কিন্তু আমার বারণ না শুনে ও চলে গিয়েছিল বাজারে। বাজার থেকে মাংস পছন্দমত কেক কিনে নিয়ে এসে হাজির হয়েছিল। আমাকে বলেছিল সমস্ত কিছু রেডি করে দিতে রান্নাবান্না ও নিজের হাতেই করবে, বউর জন্মদিন বলে কথা নিজের হাতে যেটুকুনি পারবে সেইটুকুনি রান্না করে খাওয়াবে। তবে প্রত্যেক বছর যতটুকু পারে নিজে আয়োজন করবার চেষ্টা করে।এরকম সৌভাগ্য কেউ মিস করে না। তাই আমিও আর কিছু বলিনি। আমি সমস্ত কিছু জোগাড় করে দিয়েছিলাম ও নিজের হাতে মাংস রান্না করেছিল ।ওর তরফ থেকে দুপুর বেলায় মাংস আর ভাত রান্না করে খাইয়েছিল। আসলে পুরুষ মানুষদের সাধ্যের মধ্যে যেটুকুনি পারে সেটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা ভালো। যাই হোক ওর হাতে রান্না মাংস ভাত খেয়ে দুপুর বেলায় ভীষণ খুশি হয়েছিলাম।

IMG20260531141743.jpg

এরপর ও কেক নিয়ে এসেছিল সেই কেকটা কাটার জন্য প্রচন্ড জোর করছিল আর পাশের বাড়ির ঈশা ঈশান আরো কাউকে বলার জন্য বলেছিল। কিন্তু আমি ওদের একেবারেই বলতে চাইনি। তার পিছনে প্রচুর কারণ রয়েছে। সেটা পরের পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। যাইহোক ও বারবার রিকোয়েস্ট করার পর কেকটা কেটেছিলাম।কেকের সাথে প্রচুর জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিল।সেগুলো আর রাগ করে অ্যারেঞ্জ করা হয়নি। এ বছরের জন্মদিনটা বেশিরভাগ সময় রাগে রাগেই কেটে গেছে। কারণ প্রত্যেক বছরে মা আসে আমার জন্মদিনের দিন ।এ বছরে মায়ের বিভিন্ন সমস্যার জন্য আসতে পারিনি। এই বছরের একটা দিন নিজের প্রিয় মানুষকে কাছে পেতে ভীষণ ইচ্ছে করে। দ্বিতীয় দিনে শশুর শাশুড়ি বরের সাথে বরের তরফ থেকে জন্মদিন সেলিব্রেশন করেছিলাম। দ্বিতীয় দিনে বরের তরফ থেকে আয়োজনে ভীষণ খুশি হয়েছিলাম।আজ এই পর্যন্তই।


আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির আগামী কাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।