দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে নেপালের বর্ডারে ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব দার্জিলিং এর শেষ প্রান্তে ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত। দার্জিলিং আমাদের দেশ ভারতবর্ষের মধ্যেই পড়ে। তারপরেই নেপালের লম্বা বর্ডার। বর্ডারের পরেই এক মস্ত পাহাড়। দার্জিলিং এ চারিদিকেই পাহাড়। পাহাড় কেটে সমস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।পাহাড়ের ওপারে নেপাল দেশ শুরু।মানে দার্জিলিং এর শেষ প্রান্তে রয়েছে নেপাল। একটি দেশের শেষ আর একটি দেশের সূচনা। শেষ দিন আমরা গিয়েছিলাম নেপালের বর্ডার দেখতে। দূর থেকে কিছুটা দেখেছিলাম। কারণ বেশিরভাগ সময়ই ওখানে কুয়াশায় ভরা থাকে। বেশিরভাগ সময় পাহাড় দেখা যায় না। আমরা সেদিন সকালের দিকেই যখন গাড়ি থেকে নেমেছিলাম তখন চারিদিকে কুয়াশায় ভরা ছিল। কোন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। যখন গাড়ি থেকে নেমেছিলাম তখন বর্ডারের সামনে খানিকক্ষণ গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম আস্তে আস্তে কুয়াশা কেটে গিয়েছিল।
পাহাড়ে হালকা রোদ উঠেছিল। রোদের ছটায় পাহাড়ের গায়ে বাড়িগুলো দেখতে অপূর্ব লাগছিল। দার্জিলিং এর মতো নেপালের পাহাড়ের গায়ে বাড়ি গুলো কি সুন্দর ভাবে তৈরি। পাহাড়ি এলাকায় বাড়িগুলো এই রকম হয়।আমাদের দেশের শেষ প্রান্ত দেখতে পেয়ে বেশ ভালোই লেগেছিল ।সব কিছুরই শেষ আছে।আসলে সব জায়গায় যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই তো বর্ডার এলাকা শুরু হয়। আমরা যখন জলপাইগুড়িতে নেমে দার্জিলিং এ রাস্তায় সবেমাত্র ঢুকছিলাম ।তখনই ওখানকার ড্রাইভাররা আমাদের দেখিয়েছিল।যে রাস্তা দিয়েই নাকি নেপালের বর্ডারের সমস্ত জিনিস পারাপার হয়। তখনই শুনে শুনে মনে একটা কৌতুহল জেগেছিল। যাই হোক নেপালের বর্ডার দূর থেকে দেখে সেই কৌতূহলটা পূরণ হয়েছিল। এছাড়া আমরা পুরো নেপালের বর্ডারের পাশ দিয়ে আমাদের দার্জিলিংয়ের রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম।দূর থেকেই দেখতে পেয়েছিলাম এক বিশাল পাহাড়। তবে ওই পাহাড়ের কাছে ও কালো মেঘ ঘোরাঘুরি করছিল ।যখন তখন বৃষ্টি চলে আসতো। আমরা দূর থেকে দাঁড়িয়েই দেখছিলাম নেপালে বৃষ্টি হচ্ছিল। আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোদ উঠছিল।আমাদের দেশের শেষ প্রান্তে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল। এরপর আমরা সকলে মিলে কিছু ছবি তুলে নিয়েছিলাম ।কিন্তু ওখানে ছিল প্রচুর ফুল গাছ। ফুল দেখলেই সকলেরই নজর কারে।
ওখানকার ফুলের সৌন্দর্য কেউ ছিড়ে নষ্ট করে না। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের মধ্যে একজনের সেই ফুল হাতে লেগে যায়। সেজে কি জ্বলনি সেটা না হলে বোঝা যায় না ।উনি তো পুরো ছটফট করছিল। ফুলটি দেখতে এত সুন্দর। কিন্তু হাতে লাগলে জল বিছুটি পাতার মতো জ্বালাপোড়া করবে সেটা কেউ ভাবেনি। উনার হাতটা বেশ সাথে সাথে অনেকটা ফুলে উঠেছিল। এরপর তো সকলেই সাবধান হয়ে গিয়েছিলাম ।আমরা অনেকটা উঁচু থেকেই নেপালের বর্ডার দেখেছিলাম। ওখান থেকে কেউ অসাবধানত অবলম্বন করলেই পড়ে গেলে হয়তো পাহাড়ের নিচেই পড়ে যেত। তবে যেখান থেকে দেখেছিলাম সেখান থেকেই নেপালের বর্ডারের দূরত্ব অনেকটাই।
দূর থেকে নেপালের বর্ডার দেখে মনে মনে ভাবছিলাম হয়তো যদি যেতে পারতাম তাহলে আরেকটু স্বপ্ন স্বার্থক হতো ।আমাদের মত সকল পর্যটক যাত্রীরা শেষে নেপালের বর্ডার দেখে তারপরে বর্ডারের পাশ দিয়ে দেশে ফেরার পথে রওনা দিচ্ছিল। ওখানে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলাম। এছাড়া কুয়াশা ভরা রাস্তাতে বেশ কিছু ছবিও তুলে নিয়েছিলাম। তবে প্রথমবার বেড়াতে গিয়ে এত কিছু দর্শন করব বাড়ি থেকে প্রথমে ভাবিনি। তবে নিজের দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে অনেক শান্তি পেয়েছিলাম। কারণ আমি নিজের দেশকে ভীষণ ভালোবাসি। আমার দেশ নিয়ে আমার গর্ব হয়।আমি গর্বিত আমি ভারতবর্ষে বাস করি।আজকে এই সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবার হয়তো কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏