মাসির বাড়িতে নিমন্ত্রণ

in Incredible India4 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260113151841.jpg

মানুষের জীবনে যেমন আনন্দের মুহূর্ত থাকে ঠিক তেমনি বিভিন্ন ধরনের দুঃখের স্মৃতিও থাকে।সুখ দুঃখ আনন্দ মিলিয়ে আমাদের জীবন।সেটা নিজের হোক কিংবা কোন আত্মীয়র। বেশ কয়েকদিন আগে সকালবেলায় আমি আমার দরকারের জন্য দিদার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন হঠাৎই দেখি আমার এক মাসতুতো সম্পর্কের দাদার ছেলে আমাকে দিদার বাড়িতে ডাকতে এসেছে। প্রথমে আমার শ্বশুর বাড়িতে ডাকতে গিয়েছিল। তারা বলেছে যে দিদার বাড়ি গিয়েছে সে সাথে সাথে ছুটে গিয়েছিল আমার দিদার বাড়িতে। গিয়ে বলে পিসি তোমাকে ঠাকুমা ডাকছে। কি কারনে সেটা আমাকে জানায়নি। মাসি হলো আমার দূর সম্পর্কের নিজের নয় ।অনেক সময় রক্তের সম্পর্ক হলেই যে ভালবাসা যায় এমনটা নয়। আমার এমন অনেকে রয়েছে যে রক্তের সম্পর্ক নয় তবুও আমি তাদের ভীষণ ভালোবাসি। যতটা সম্ভব হয় তাদেরকে উপকার করার চেষ্টা করি কিংবা আর্থিক দিক থেকে হলেও সাহায্য করার চেষ্টা করি।

IMG20260113151849.jpg

আমি ওর কথা শুনে তখন বললাম আমার তো এখন যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমাকে আবার বাড়ি ফিরতে হবে ।আমার কথা শুনে ছেলেটি সাথে সাথে চলে গিয়েছিল। ওকে মুখের উপর বলে আমার ভীষণ খারাপ লাগছিল। তাই আমি আবার দিদাকে বলে মামার মেয়েকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম মাসির সাথে দেখা করতে। আমার শাশুড়ি মা সত্যিই ভীষণ ভালো। তাই আমি এইসব জিনিস গুলো করে বেড়াই আমাকে কিছুই বলে না। হয়তো নিজের মা হলেও বাঁধা দিত শাসন করতো কিন্তু শাশুড়ি মা খুবই ভালো মনের মানুষ। তাই কোনদিন আমার কোন কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না। যাই হোক মাসির বাড়িতে গিয়ে দেখি সকলে কান্নাকাটি করছে। গিয়ে শুনি মাসির বেয়ান মানে বড় দাদার শাশুড়ি মারা গিয়েছিল। তাই কোন রকমে সেদিন তাদের একটু থামিয়ে তাদের সাথে খানিকক্ষণ কাটিয়ে আবারও বাড়ি চলে এসেছিলাম।

IMG20260113151332.jpg

বৌদি যেহেতু তিন দিনে কাজ করবে ।ওই সূত্রেই আমাকে আর আমার বরকে নেমন্তন্ন করেছিল।এই সব ক্ষেত্রে আমি খুব একটা নেমন্তন্ন খেতে একেবারেই পছন্দ করি না। আর এইসব অনুষ্ঠানে আমার একদম যেতে ইচ্ছে করে না। এইসব দুঃখের দিনগুলো খেতে যেতে খুবই খারাপ লাগে ।কিন্তু না গেলে আবারো দাদা তার ছেলেকে পাঠাবে। আমাকে ডেকে পাঠানোর জন্য। তাই প্রথম দিন গিয়ে বৌদির মায়ের জন্য মিষ্টি আর মালা দিয়ে এসেছিলাম। যখন আমি গিয়েছিলাম তখন অলরেডি শ্রাদ্ধের কাজ সমস্ত সম্পন্ন হয়ে গেছে ।পরের দিন ছিল খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান সেখানে আমি আর আমার মামার মেয়ে গিয়েছিলাম কারণ বর কাজের সূত্রে বেরিয়ে গিয়েছিল। আমার মামার মেয়েকে ও নিমন্ত্রণ করেছিল।

IMG20260113152028.jpg

সেদিন আমি আর আমার মামার মেয়ে দুজনে খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ করে আবারো বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলাম। মাসি বেশ কিছু দিন হলো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাঁটা চলার একেবারে ক্ষমতা নেই। ছোট থেকেই মাসি আমাকে ভীষণ ভালোবাসে।মাসির নিজের কোন মেয়ে নেই। সেদিন দাদা আমাকে অনেক সকালবেলায় যেতে বলে ছিল।যাতে ওদের হাতে হাতে কিছু কাজ করতে পারি। কিন্তু বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সেরে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। সেদিন অনুষ্ঠানের সমস্ত রান্নাবান্না ওরা নিজেরাই করেছিল।এই জন্যই যেতে ইচ্ছে না করলেও খুব কাছের মানুষের কাছে থেকে এগুলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। মাসির বাড়িতে রয়েছে রংবেরঙের ফুলের গাছ। সেদিন ছিল পৌষ সংক্রান্তিতে কালী পুজো। তাই বারোয়ারী থেকে মায়ের দর্শন করে সোজা বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।


আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  

Congratulations @mou.sumi! Your post was upvoted by @supportive. Accounts that delegate enjoy 10x votes and 10–11% APR.

 4 days ago 

Thank you 🙏

Loading...