দার্জিলিং এ মিরিক ভ্রমণের সময় জোঁকের সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে মিরিক ভ্রমণের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে পরের মুহূর্তটুকুনি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। নতুন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে সমস্ত কিছুই নতুনের মতো লাগে ।তবে ওখানকার আদব কায়দা আমাদের কোন কিছুই জানা থাকে না। পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়লে সবকিছুই জানা যায় ।তবে দার্জিলিংয়ে ঘুরতে যাওয়ার কোন প্রিপারেশন আমার ছিল না। তাই তেমন কোন কিছু কেনাকাটা করে উঠতে পারিনি। একদিনের মধ্যেই সমস্ত কিছু এরেঞ্জ করে পুরনো যত জামা কাপড় ছিল সবকিছু নিয়েই বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল ।কিন্তু আমাদের সাথে যারা গিয়েছিল তারা সমস্ত কিছু প্রস্তুতি নিয়ে তবেই বেড়াতে গিয়েছিল ।যাই হোক সমস্ত জায়গায় খুব ভালোভাবেই ঘুরেছিলাম ।তবে যখন আমরা ভালো ভাবে মিরিক ভ্রমণের জন্য স্পটে পৌঁছেছিলাম।
তখন নিচে থেকেই দেখছি দূরের পাহাড় গুলো একেবারে মেঘে ঢেকে রয়েছে। কিন্তু আমরা যখন পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠেছিলাম তখন একেবারে পরিষ্কার আবার ঝলমলে রোদ উঠেছিল। সকলে মিলেই চারিদিকে খুব আনন্দ সহকারে ঘোরাঘুরি করেছিলাম। এরপর সকলে যে যার মত ছবি তুলে নিয়েছিল ।আমার যেহেতু কাছের মানুষজন সকলেই আমাকে রেখে চলে এসেছিল। তাই আমি ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে ঘোরাঘুরি করছিলাম। তারাই আমার কিছু ছবি তুলে দিয়েছিল। তবে ওখানে আমার একজন পরিচিত মানুষ ছিল ওখানে গিয়েই উনার সাথে পরিচয় হয়েছিল। ওই মামিটার সাথেই আমি সারাক্ষণ ছিলাম।
আমরা যখন চা বাগানে উঠলাম তখন ওই মামিটার পা দিয়ে হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে রক্ত বের হচ্ছিল। আমরা মনে করেছিলাম হয়তো কিছুতে কেটে গিয়েছিল তাই হয়তো রক্ত বেরোচ্ছে। ওই অবস্থাতেই আমরা ওখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছিলাম। ঘোরাঘুরি করেছি। এরপর ঘোরাঘুরি শেষ হলে আমরা অন্য আরেক জায়গায় যাব বলে গাড়িতে উঠে বসে ছিলাম। তবে আমাদের সাথে যারা গিয়েছিল তারা অন্য গাড়িতে ছিল। তারা এসে উপস্থিত হয়নি বলে বেশ কিছুক্ষণ আমাদের ওখানে গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছিল। এর মধ্যেই মামিটা যেখানে পা কেটে গিয়েছিল সেখানে খুবই জ্বলছিল। কারণ পরে দেখে পায়ের ভিতর জোঁক বলে একটি পোকা কামড়ে ধরেছিল।
জোঁক যখন কামড়ায় তখন নাকি কেউ বুঝে উঠতেই পারে না । এই পোকাটি যখন কামড়ে ধরে তখন পুরো রক্ত খাওয়া না হওয়া পর্যন্ত কামড়ে ধরে থাকে। এই পোকাটি একমাত্র লবণ দিলে তবে ছেড়ে দেয়। যাই হোক পোকাটি যখন রক্ত খাওয়া সম্পন্ন হয়েছিল তখন আপনা আপনি পা থেকে পড়ে গিয়েছিল। আমাদের তো এর আগে কখনোই জানা ছিল না চা বাগানের ভিতর জোঁক থাকে। এরপর সকলে যখন শুনল তখনই অবাক হয়েছিল ।যে যার পায়ের দিকে তাকাতেই ব্যস্ত ।আমিও তো ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। জোঁক যখন যে জায়গা থেকে রক্ত খেয়ে ছেড়ে দিল সেখান থেকে আবার অঝোরে রক্ত বের হচ্ছিল ।যাই হোক এই বিপদের সম্মুখীন ওই মামিটা হয়েছিল ।দেখে ভীষণ খারাপ লাগছিল। ওনার অসাবধানতার জন্য ওই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল।
কোথাও বেড়াতে গিয়ে যদি এরকম ছোটখাটো বিপদের মুখে পড়তে হয় তাহলে ভীষণই খারাপ লাগে। যাই হোক মিরিকে ঘুরে ভীষণ ভালো লেগেছিল ।কারণ এই প্রথমবার খুব কাছে থেকে চা গাছগুলো দেখেছিলাম ।এছাড়া চা গাছের ফুল গুলো দেখেছিলাম ।পুরো যেন লেবু ফুলের মত লাগছিল। আমি একটা ফুল ছিড়ে নিয়েছিলাম। হাতে নিয়ে দেখছিলাম ঠিক যেমন লেবু গাছে ফুল আসলে যেমন ফুল হয় দুটো ফুলই একই রকম দেখতে লাগছিল। আরো অনেক কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে।সব কিছুই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানে শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏