বৃষ্টিতে কাটানো দিন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকাল থেকেই প্রায় অনেক জায়গাতেই শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টি আমি ভীষণ পছন্দ করি, বৃষ্টি ভেজা প্রত্যেকটা দিনই আমার ভীষণ ভালো লাগে। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে যখন দেখি আকাশ মেঘলা ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া দেখে মনটা একেবারেই শান্ত হয়ে যায়। তবে আমার মত প্রত্যেকটা মানুষের দিন তো একই রকম কাটেনা। আমরা বাড়ির ভিতরে থাকি। তাই বাড়ির ভিতরে থেকে বাইরের কষ্টটা অনুভব করতে পারি না। এই বৃষ্টির মধ্যে বহু মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য বাইরে বের হয়। তবে বৃষ্টির দিনে আমার খিচুড়ি আলুর দম খেতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে আমি পছন্দ করলেও আমার বাড়ির কেউ সেই রকম ভাবে পছন্দ করে না। তাই বৃষ্টি হলেই যে খিচুড়ি আলুর দম রান্না হবে। এমনটা হয় না। বর্ষাকাল চলে গেলেও নিম্নচাপের কারণে গতকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
গতকাল সারাদিন বৃষ্টি হলেও আজকে সকাল বেলায় খানিকক্ষণ রোদ উঠেছিল।ভাবলাম হয়তো বৃষ্টিটা এবারে থেমে যাবে। সেই আশাতেই ছিলাম। কারণ চারিদিকে যে ভাবে দুর্যোগ শুরু হয়েছে।ভয় ও লাগে।আসলে গতকালকে বৃষ্টিমুখর একটি দিনে পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ভেবেছিলাম কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। তাই আজকেই আপনাদের মাঝে এই বৃষ্টির দিনে কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে নিচ্ছি। বৃষ্টিতে ভিজতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু এখন আর সেভাবে ভেজা হয়ে ওঠে না। বৃষ্টির দিনে কিছু মুহূর্ত যেন একটু অন্যরকমই হয়। বৃষ্টি হলেই পুরনো বহু স্মৃতি চোখের সামনে ঘোরাফেরা করে ।সেই স্কুল থেকে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফেরা আবারো কখনো বৃষ্টি আসলে পড়তে না যাওয়ার বাহানা। বিভিন্ন স্মৃতি আমাদের সাথে জড়িত। আমার মত হয়তো প্রত্যেক মেয়েদেরই এক রকম বহু স্মৃতি রয়েছে।
বৃষ্টির দিনে বাগানের গাছপালাদের ভিজতে দেখে ভীষণ ভালো লাগে, বৃষ্টি মাটিতে পড়তে সেই মাটির মিষ্টি গন্ধ ভীষণ ভালো লাগে।। বৃষ্টি শুধু প্রকৃতিকে ভিজায় এমনটা নয়। বৃষ্টি আমাদের অস্থির মনটাকেও শান্ত করে দেয়। বৃষ্টিতে ভিজে পাখিদের কিছুর কোলাহলের শব্দ বেশ ভালো লাগে। কিন্তু তাদেরও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়তো ভালোই লাগে। বৃষ্টির জল মাটিতে পড়ে মাটির ভিতর থেকে যে পোকাগুলো বের হয় সেগুলো তারা ছুটে ছুটে খুব আনন্দসহ কারে খাই। আমি জানলার ধারে বসে বসে এই সবই অনুভব করি। আসলে বৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে একদল পাখি পাচিলের ওপারে এসে অপেক্ষা করে কতক্ষণে মাটির তলায় থেকে ঝিঁঝিঁ বা বাদলা পোকা গুলো বার হবে ওরা আনন্দসহকারে খাবে।
যাইহোক আজকে দুপুরের পর থেকেই শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি ।বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ চলছিল ।ঘন অন্ধকার মেঘ করে রয়েছে ।তাই যেখানে কাজ হচ্ছে সেখানে তাদের কাজ করতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিল। সেখানে লাইটের ব্যবস্থা করবার জন্য মিস্ত্রিরা বারবার বলছিল। কিন্তু বাড়িতে লাইট না থাকার কারণে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে আবারও ছুটতে হয়েছিল মামার বাড়িতে। সেখান থেকে লাইটের কিছু জিনিসপত্র আনতে। রাস্তায় দেখি প্রায় অনেকটা করেই জল বয়ে চলেছে ।তবে আমাদের রাস্তাতে জল জমার জায়গা নেই।গত কালকের তুলনায় আজকে মুষল ধারে বৃষ্টি হয়েছে। সারাদিন বৃষ্টি ছাড়বার কোন নাম নেই। বৃষ্টির জল সর্বদা ড্রেন দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে বৃষ্টির দিনে বাইরে পা ভেজাতে ভালোই লাগে। বৃষ্টির মধ্যে আবারো মামার বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রওনা দিয়েছিলাম বাড়িতে।
বৃষ্টি যেমন ভালো লাগে ঠিক তেমনি ভয় করে। কারণ কিছুদিন আগে নেপালে হঠাৎ হরপা বানে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ।এক নিমিষেই যেভাবে সব তছনছ করে দিয়েছে। এদিকে আমাদের পাশে নদীতে প্রচন্ড জল বেড়ে গেছে। যদি আরো জল বেড়ে থাকে তাহলে হয়তো আমাদের এদিকেও জল ঢুকে পড়তে পারে। এখন অনেক জায়গা তে প্রচুর পরিমাণে জল ঢুকে পড়েছে।নদীর ধারে সমস্ত মানুষই ভয়ে ভয়ে রয়েছে। কারণ যখন তখনই এখনকার দিনে মানুষের সাথে দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। একদিকে জল ছাড়ছে আর অন্য দিকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আজকে বৃষ্টি মুখর একটি দিনে কিছুটা দুশ্চিন্তা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



