বান্ধবীর মেয়ের জন্মদিনের মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত কাল ছিল ৩১ শে ডিসেম্বর। গতকালকে ছিল আমার এক বান্ধবীর মেয়ের জন্মদিন। বিয়ের পর থেকে আমার তেমন কোন বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ ছিল না ।সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার পর কিছু কিছু বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ হয়েছে। তাদের সাথে শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে কথা হয় ।এছাড়া দু'একজন হয়তো মাঝে মাঝে বাড়িতে আসে ।কিন্তু গত এক বছর ধরে এই বান্ধবীর সাথে আরও বেশি বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। ছোটবেলার বন্ধুত্ব মাঝে হারিয়ে গিয়ে আবার যখন ফিরে আসে তখন যেন সম্পর্ক আরো গভীর হয় ।সেই সূত্রেই বান্ধবী মেয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বায়না করেছে মাসিমণি আমার জন্মদিনের দিন তুমি সকাল সকাল আমাদের বাড়িতে চলে আসবে। এখনকার বাচ্চাদের জন্মদিন নিজেরাই তারিখ মনে রেখে দেয়। কষ্ট করে আর মায়েদের মনে রাখতে হয় না।
বান্ধবী আর বান্ধবীর বর নেমন্তন্ন করার আগেই তার মেয়ে নেমন্তন্ন করা হয়ে গিয়েছিল। গতকালকে সকাল থেকেই ছিল ওদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ। আমার কোথাও যাওয়ার কথা শুনলেই যেন বিরক্তি শুরু হয়ে যায়। বাড়িতে তেমন কোন কাজ না থাকলেও সারাদিন শুয়ে বসে কাটিয়ে দিই। বেশ কয়েকদিন ধরে কাজের চাপ কিছুটা কম রয়েছে। তাই প্রথমে ভেবেছিলাম গতকালকে সকাল সকালই চলে যাব ওদের বাড়িতে ।কিন্তু এই সময়ের আবহাওয়া একদমই অন্যরকম লাগে ।কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে হলেও মনে হয় দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে একটু ঘুমিয়ে নিতে ইচ্ছে করে। যাই হোক এই করতে করতে দুপুর প্রায় তিনটে বেজে গিয়েছিল ।তখন হঠাৎ করেই বর বলল চলো দুপুর বেলায় ওদের বাড়িতে গিয়ে খেয়ে আসি ।
গতকালকে আমার বর কাজে বেরোয়নি। এরপর রেডি হতে হতে প্রায় সাড়ে তিনটে বেজে গিয়েছিল। এদিকে খালি হাতে যাব তেমন কিছু কেনাকাটাও করা হয়নি। তাই পাশের বাড়ির ভাইটাকে কিছু চকলেট নিয়ে আসতে বলেছিলাম ।চকলেট দিয়ে একটা ট্রে সুন্দর করে সাজিয়ে নেব। আমার কথা মতো ও কিছু চকলেট কিনে এনে দিয়েছিল ।তাই একটা সুন্দর ট্রে সাজিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম সোজাসুজি ওদের বাড়িতে ।ওদের বাড়িতে গিয়ে ওরা তো আমাকে দেখে চমকে গিয়েছিল ।ভেবেছিল আমি হয়তো দুপুর বেলায় আর যাব না। বাচ্চাটাকে চকলেট দিলাম। ওতো ভীষণ খুশি হয়েছিল ।বাচ্চারা তো সকলেই চকলেট খেতে ভীষণ পছন্দ করে। তাতে আবার সুন্দর করে সাজানো ছিল। এছাড়া কিছু কেনাকাটা করার সময় পায়নি বলে কিছু টাকা দিয়ে ছিলাম জামা কিনে নেওয়ার জন্য।
এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি চলে এসেছিলাম। দুপুর বেলায় গিয়ে সমস্ত বেলুন ফুলিয়ে কিছুটা ডেকোরেশন করে এসেছিলাম।আবারও সন্ধ্যার সময় যাবার কথা ছিল। কিন্তু গিয়েছিলাম রাত নটা নাগাদ ।তখন কেক কাটা অলরেডি হয়ে গিয়েছিল ।এদিকে তেমন কোন লোকজন এসে পৌঁছায়নি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর লোকজন আসতে শুরু করল। আমরা নিজেরা সকলেই মিলে ওদের আত্মীয়-স্বজনকে খাবার পরিবেশন করেছিলাম। সকলের খাওয়া শেষ করতে করতে প্রায় রাত বারোটা বেজে গিয়েছিল।এরপর আমরা নিজেরা খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম ।কারণ আমাদের আবার অনেকটা পথ ফিরতে হতো। আমাদের খেতে খেতে প্রায় রাত সাড়ে বারোটা বেজে গিয়েছিল। এরপর আবারো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম ।আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় গাড়িতে তিন থেকে চার মিনিটে রাস্তা।
গতকালকে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছিল। আর ওদের বাড়ি একেবারেই নদীর ধারে ।ওখানে তো আরও ঠান্ডা। যাই হোক ঠান্ডার মধ্যে গাড়িতে করে আবারো বাড়ি চলে এসেছিলাম ।বাড়ি চলে আসতে প্রায় অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল। বান্ধবীর মেয়ের জন্মদিনের সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়ে ছিলাম। সেই মুহূর্ত টাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।





Thank you 🙏