দার্জিলিং এ থাকাকালীন ভোরের দৃশ্য অনুভব করার মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে দার্জিলিংয়ের থাকাকালীন ভোরের কিছু দৃশ্য অনুভব করেছিলাম সেটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। বাড়িতে থাকাকালীন সচরাচর ভোর বেলায় ঘুম থেকে ওঠা হয় না। কিন্তু যদিও বা ওঠা হয় আমাদের শহরের চারিদিকে সব কিছুই চেনা জানা অজানা কোন কিছুই নেই ।তাই তেমন কোন প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়ে না। তবে কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানে তো ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠতেই হয়। সেখানে এক এক সময়ের দৃশ্য একেক রকম। সমস্ত কিছুই দেখার জিনিস তাই হয়তো সমস্ত পর্যটকরা এত টাকা পয়সা খরচ করে ছুটে যায় পাহাড়ের রানী দার্জিলিং এর কাছে। আমাদের মধ্যবিত্তদের কাছে একটা স্বপ্নের জায়গা সবকিছুই ওখানে স্বপ্নের মত।
আমি প্রত্যেকদিনই ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে আগে হোটেল থেকে বাইরের দৃশ্যটা অনুভব করতাম। তাই ভীষণ ভালোও লাগতো। আমি ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে ছুটে আগেই হোটেলে জানলা দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্যটাকে দেখতাম ।তবে আবার রুমে যেতাম রেডি হবার জন্য। দার্জিলিং শহর অনেকটাই উঁচুতে অবস্থিত। এদিকে আমরা প্রায় দেড়শটা সিঁড়ি ভেঙে উঁচুতে উঠতে হতো । হোটেলের রুমে যাওয়ার জন্য। তারমানে কতটা উঁচু হয়তো আপনারাও আন্দাজ করতে পারবেন। অত উঁচু থেকে অনেক কিছুই দেখা যেত ।সবথেকে ভালো দেখা যেত কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া। এ যেন এক আশ্চর্য দৃশ্য। সত্যি ভীষণ ভালো লেগেছিল ভোরবেলায় টাইগার হিল দর্শন করার সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করেছিলাম। কিন্তু যদি কুয়াশা কিংবা মেঘে ঢাকা না থাকতো তাহলে প্রথম দিনেই আমরা হোটেল থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা সরাসরি দর্শন করতে পারতাম। এমনকি আমরা যে কয়েকদিন ছিলাম সেই কয়েক দিনই আমরা আমাদের হোটেল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করে নিয়েছিলাম।
এছাড়াও ভোর বেলায় যখন আধো আধো অন্ধকার তখনও চারিদিকে নিস্তব্ধ। পাহাড়ের গায়ে দূরের বাড়ি গুলোতে ও ঠিক তারার মত জ্বলজ্বল করছে আলো গুলো। কিছু মানুষ ভোরবেলাতে দেখছিলাম ওখানকার স্থায়ী বাসিন্দায় হবে। তারা মর্নিং ওয়ার্ক করতে বেরিয়ে পড়েছিল। এত ঠান্ডার মধ্যে মর্নিং ওয়ার্ক করতে বেরিয়ে পড়েছিল দেখেও ভীষণ ভালো লাগছিল। আসলে ওখানকার মানুষরা নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতন বিষয়ে খুবই সচেতনশীল। তবে আমাদের ভোরের বেলায় ভীষণ কষ্ট হতো কারণ প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল।কিন্তু বেড়ানো নাম শুনলে সবকিছুই এক নিমেষের মধ্যেই চলে যেত। ভোরের বেলায় বাইরে তেমন দোকানপাট খোলা থাকতো না। শুধুমাত্র রাস্তা দিয়ে কিছু গাড়ি যাতায়াত করত ।তবে গাড়ির প্রচণ্ড শব্দ সেটা ও ছিল না। আমাদের গাড়ি গুলো ভোর বেলায় এসে নীচে দাঁড়িয়ে থাকত।
এরপর ভোরের আধো আধো অন্ধকার কেটে গেলেই যখনই হালকা রোদ উঠত তখন ওই সোনালী আলোয় ছটায় যেন চারিদিক ঝলমল করে উঠতো। চারিদিকে প্রকৃতি যেন আরো অন্যরকম হয়ে যেত ।তখন আরো সুন্দরভাবে আমরা প্রত্যেকদিন হোটেল থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা সরাসরি দর্শন করতে পেরেছিলাম। শেষ দিন কে আমরা বাড়ি ফিরব সেদিন ভোরবেলাতেই কাকু ,কাকিমা, ভাই তিনজনে বেরিয়ে পড়ার পর আমি তো আমাদের হোটেলে ঘরে একাই ছিলাম। আমি বারবার বের হয়ে শুধু হোটেলের জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য অনুভব করেছিলাম। কারণ সেই দিন ছিল আমাদের শেষ দিন ।আবার যেতে পারবো কি পারবো না তাই প্রচন্ড মন খারাপ করছিল ।আর আমি বারবার হোটেলে জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করছিলাম। কারণ এই দৃশ্য আর তো দেখবে পারব না।যাইহোক দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়ে সমস্ত জায়গায় তে আমরা ভীষণ আনন্দ মজা করে কাটিয়েছিলাম। কিছু কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিচ্ছি। আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগছে। ফোনের ক্যামেরা ভালো না তাই দৃশ্য গুলো খুব ভালো বোঝা যাচ্ছে না।
আজ এখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



