বিবাহ বার্ষিকী পালনের সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।।
দিনটা ছিল 24 শে ডিসেম্বর।ওই দিনটিতে পালন করা হয়েছিল আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান। বিবাহ বার্ষিকীতে অনেক মেয়েরই অনেক আশা স্বপ্ন দেখে। আমিও ঠিক তেমনি প্রত্যেক বছরের এই দিনটা সকলের সাথে কাটাতে ভীষণ পছন্দ করি। অন্যান্য বছরে মন্দিরে পূজা দিতে যাই। কিন্তু এ বছরে যেহেতু পূজো দেওয়া যাবে না ।তাই আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এ বছরে সেইরকম আমার ছোট্ট স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। নিজের সব প্রিয়জনদের একসাথে নিয়ে এভাবে সেলিব্রেশন করতে পারব সেটাও ভাবতে পারিনি। প্রথম থেকেই ভেবেছিলাম খুব অল্প সংখ্যক মানুষজন নিয়ে সেলিব্রেশন করব। কিন্তু কোথাও যেন একটা আটকে যাচ্ছিলাম। হয়তো নিজেদের প্রিয় মানুষদের বাদ দিচ্ছিলাম বলেই এই রকমটা মনে হচ্ছিল। শেষে আসতে আসতে প্রায় অনেক লোক বেড়ে গিয়েছিল। তখন বর নিজে থেকেই শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেককে নিমন্তন্ন করেছিল।
আসলে এই প্রথমবার আমি আর আমার বর নিজে দায়িত্ব নিয়ে একটা ছোটখাটো অনুষ্ঠান করেছিলাম। এর আগে কখনোই আমরা নিজের দায়িত্বে কিছুই করিনি। তাই প্রথম থেকেই ভয় পাচ্ছিলাম। নিজেদের কাছের কয়েক জনকে নিয়ে তাও প্রায় ৮০ জন লোক হয়ে গিয়েছিল। সমস্ত খাবার বাইরে থেকে অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু বাড়িতে রান্না-বান্না করলে প্রচন্ড ঝামেলা তাই এই দায়িত্বটা আমরা নিতে চায়নি। আগের পোস্টটিতে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি, আমাদের আশেপাশের সকলেই প্রচন্ড হেল্প করেছিল পার্লারের লোক ঠিক করা থেকে প্যান্ডেল সমস্ত কিছু ওরা আরেঞ্জ করেছিল। এদিকে বিকেল বেলায় ডেকোরেশন শুরু হওয়ার সময়ই চলে এসেছিল আমাকে পার্লার থেকে সাজাতে। অর্ধেক ডেকোরেশন দেখে আমি নিজে সাজতে বসে পড়েছিলাম।
সত্যি সেদিনকে ভীষণ ভালো লাগছিল ।শুধু বিয়ের দিনের কথায় মনে পড়ে যাচ্ছিল। এদিকে বাড়ির সমস্ত আত্মীয়-স্বজন আস্তে আস্তে আসা শুরু করে দিয়েছিল। কাছের প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে কি যে ভালো লাগছিল সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। ঠাকুরমা শাশুড়ি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে এসেছিল আমার বিবাহ বার্ষিকীর দিন। আমি প্রচন্ড পরিমানে খুশি ছিলাম সেদিন। বড়দের সকলের আশীর্বাদ নিয়েই সেদিনটা শুরু করেছিলাম। বাড়ির বড়রা প্রত্যেকে চলে আসার পর রাত নটা নাগাদ শুরু করেছিলাম কেক কাটার অনুষ্ঠান ।এখন যেকোনো সেলিব্রেশন এর জন্যই প্রথমে কেক কাটা হয়। আমরাও সেই মতো দুজনে কেক কেটে শুভ দিনটা শুরু করেছিলাম। কেক কাটার পর সকলে মজা করে মালা নিয়ে এসেছিল।
সকলকে আনন্দ দিতে আমরাও সেদিন মালাবদল পর্ব সেরে ফেলেছিলাম। ওরা এত আয়োজন করেছে আমরা বুঝে উঠতেই পারিনি। এরপর দেখি ওরা নিজেদের টাকা খরচ করে প্রচুর বাজি কিনে এনেছিল ।সেগুলো ফাটাচ্ছিলো। নিজেকে মনে হচ্ছিল যেন ছোটখাটো স্বপ্নের জগতে বাস করছিলাম। আসলে এগুলো টিভিতে সিরিয়াল কিংবা সিনেমাতে দেখি। এখনকার মানুষ সকলেই ফোন দেখে দেখে এই সব কিছু শিখছে।এতটা বাড়াবাড়ি করবে ওরা আমি ভেবে উঠতেই পারিনি। আসলে আমার বৌভাতের দিন এইরকম ভাবে আমি একদমই আনন্দ পাইনি। সব থেকে আনন্দ হয়েছিল ঠাকুরমা শাশুড়ি অত দূর থেকে আমার জন্য এসেছিল ।এছাড়াও কিছুদিন হলো সেজো কাকা শ্বশুর কারো বাড়িতে কোন নিমন্তন্ন খেতে যায় না। সকলের বাড়িতে যাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছে বললেই চলে।সেই মানুষটা আমার বিবাহ বার্ষিকীর দিন আমাদের বাড়িতে এসেছিল ।এছাড়াও আমার জেঠি শাশুড়ি সেও অসুস্থতার জন্য কারুর বাড়িতে যাই না। তিনিও আমার বাড়িতে এসেছিল ।আমি তো ভীষণ খুশি হয়েছিলাম।
ছোটখাটো অনুষ্ঠান করে এতটা খুশি হব এমনকি পরিবারের সকলকে এতটা আনন্দিত দিতে পারব সেটা একেবারেই বুঝে উঠতে পারিনি। এই অনুষ্ঠানের জন্য সকলে যেন আমায় প্রথম থেকেই উৎসাহ দিয়েছিল ।এছাড়া দিদার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল অনুষ্ঠান করবার জন্য। যাই হোক আজ এখানেই শেষ করলাম। আরো অনেক কিছু মুহূর্ত রয়েছে সেগুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏