ষষ্ঠী উপলক্ষে বাপের বাড়িতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
জামাইষষ্ঠী কেটে গেছে বেশ কিছুদিন হয়ে গেল ।এ বছরে জামাইষষ্ঠী অনেকটা দেরি করেই পড়েছিল। আষাঢ় মাসের ৫ তারিখে ছিল জামাই ষষ্ঠী। এই অনুষ্ঠান বরাবরি জামাইদের নিয়েই হয়। তবে এ বছরে বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ চলছে। তাই আমার একেবারেই যাবার ইচ্ছে ছিল না। এদিকে দিদার বাড়িতে দিদাদের অশৌচ চলছিল। তাই দিদার বাড়িতে এবছরে ষষ্ঠীর কোন কিছুই পালন করা হয়নি। তাই পরের দিন মা-বোনেরা সকলেই আমাকে যেতে বাধ্য করেছিল । ষষ্ঠীর পরের দিন মায়ের কাছে ষষ্ঠী পালন করতে চলে গিয়েছিলাম। যাইহোক আমি যেখানেই বলি যাব না সেখানেই আমাকে ছুটতে হয়। এটা যেন আমার বরাবরের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ষষ্ঠীর পরের দিন দুপুরবেলায় বরের সাথে রাগারাগি করে বেরিয়ে পড়েছিলাম ষষ্ঠী খেতে বাপের বাড়িতে।
ষষ্ঠীর পরের দিন কোন নিয়ম পালন করা হয় না। এদিকে আমার বরের সময় জ্ঞান একটু কম ।তাই যেকোনো জায়গাতে যাওয়ার আগে আমাদের মনোমালিন্য শুরু হয়ে যায়। যাই হোক আমি যাবার পরে ও আবার একা একাই গিয়েছিল। আমি রাগ করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাপের বাড়ি যাবো বলে বাস ধরে নিয়েছিলাম। বাসের রাস্তা তে যেতে আমার বোর লাগে। তবুও বাপের বাড়ি বলে কথা। চার বোন এক জায়গায় হব। আনন্দই আলাদা ছিল। কাঠফাটা রোদে বাসে করে যেতে একেবারেই অস্বস্তি লাগে। তাতে আবার একা একা তবুও কিছু করার ছিল না।কৃষ্ণনগর থেকেই ষষ্ঠীর কিছু বাজার করে নিয়েছিলাম ।যাতে বাড়ি গিয়ে সকলে মিলে আনন্দে খেতে পারে।
আমি বাপের বাড়িতে না গেলে মা বোনের সকলেরই রাগ হয়। এ বছরে সেজ বোনের নতুন বিয়ে হয়েছিলো । অনেক দিন পর চার বোন এক জায়গায় হব। সেই আনন্দে আরো যাওয়া হয়েছিল। যাই হোক বাসে করে যেতে প্রায় পৌনে দু'ঘণ্টা সময় লেগে যায়। পৌনে দুই ঘন্টা বাসে বসে থাকতে থাকতে বোর হয়ে যায় । বাস থেকে নেমে আবারো কয়েক কিলোমিটার টোটো করে যেতে হয়। তবেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো যায়। বাসে থেকে মোড়ের মাথায় একটা দোকান থেকে সকলের জন্য একটা করে আইসক্রিম নিয়ে নিয়েছিলাম ।এই গরমে আইসক্রিম খেতে সকলের ভীষণ ভালো লাগবে। এরপর সামান্য দূরে হেঁটে গিয়ে টোটো ধরেছিলাম। আসলে টোটো ধরতে গেলে একেবারে বাজারে নামতে হয়। আমি বাজার থেকে একটু আগেই নেমেছিলাম।
এরপর টোটো তে উঠেই বোনেদের ফোন করেছিলাম এগিয়ে নিতে আসার জন্য ।বোনেরা তো সকলে ভীষণ খুশি ।যাই হোক টোটো করে যেতে প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিট সময় লাগে। টোটো থেকে নেমেই দেখি সেজ বোন আর মেজ বোনের মেয়ে দুজনে একদম আনন্দের মেজাজে আসছে দিদিকে নিতে। টোটো থেকে নেমে ওদের হাতে একটা করে আইসক্রিম ধরিয়ে দিয়েছিলাম। ওরা তো ভীষণ খুশি। যাই হোক বাড়িতে গিয়ে সকলকে একটা করে আইসক্রিম দিয়েছিলাম। গরমের মধ্যে আইসক্রিম খেতে সকলের ভালো লেগেছিল। আর আমার মায়ের তো আগেই জামাইয়ের খোঁজ জামাই কেন আসেনি। যেহেতু রাগারাগি করে এসেছিলাম ।তাই মা আমাকেই বকাবকি করেছিল। বাড়িতে পৌঁছে মা সাথে সাথে আমার বরকে ফোন করেছিল চলে আসবার জন্য।
যাইহোক মায়ের কথা শুনে বর রাজি হয়ে গিয়েছিল ষষ্ঠী খেতে আসবার জন্য ।এমনিতেই আমার বর শ্বশুর বাড়ি যেতে ভীষণ পছন্দ করে । তাই মায়ের কথা মতো ও বেরিয়ে পড়েছিল। বাড়িতে এসে পৌঁছেছিল প্রায় সন্ধ্যা নাগাদ। সবাই মিলে একসাথে হৈ হৈ করে সময় গুলো কাটিয়েছিলাম ।সমস্ত কিছুই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। আসলে এইসব মুহূর্তগুলোই আমাদের জীবনে স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। এখন সকলে নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। চাইলেই সবাই এক জায়গায় হতে পারি না।
আজ এইখানে শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏