এই প্রথমবার দার্জিলিং এ বেড়াতে গিয়ে দূর্গা পুজোর কিছু দিন কাটানোর মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন।আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব দার্জিলিং এ বেড়াতে গিয়ে দুর্গাপূজোতে সময় কাটানোর কয়েকটা দিনের মুহূর্ত। আমাদের বাঙ্গালীদের শ্রেষ্ঠ উৎসব হল দুর্গাপুজো। দূর্গা পূজা হল বাঙালিরদের কাছে আবেগ।এই দুর্গা পুজোকে ঘিরে আমাদের অনেক আনন্দ, মজা, হই-হুল্লোড় করে থাকি ।এছাড়া দুর্গাপূজার সময় আমাদের প্রচুর প্ল্যান থাকে চারিদিকে ঘোরার। তবে দুর্গাপূজার সময় হয়তো এক একদিন বেরোনো হয়। ঠাকুর দেখতে যাওয়ার জন্য।তাছাড়া ঠাকুর বিসর্জন দেখতে যাওয়ার তেমন কোন ব্যাপার থাকে না। তবে গত কয়েক বছর ধরেই আমি আমার শ্বশুরবাড়িতে দুর্গাপূজার সময় কাটিয়ে থাকি। গত দু'বছর ধরে আর সেভাবে যাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে এ বছরে দার্জিলিঙে যাব সেটা প্রথম থেকে একেবারেই ঠিক ছিল না। একদিনের মধ্যেই সমস্ত কিছু প্ল্যান হয়েছিল।আমি বেড়াতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।তাই সেদিন হঠাৎ করেই রওনা দিয়েছিলাম দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে।
আমরা দার্জিলিং গিয়েছিলাম তখন চলছিল সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে। এ বছরে মানে 2025 সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকেই দুর্গাপুজো পড়েছিল। তবে কিছু কিছু জায়গাতেই দুর্গাপূজা প্রথমা থেকেই শুরু হয়ে যায়। আবার কোথাও মহালয়া থেকে দুর্গাপুজোর শুভারম্ভ হয়ে যায়। আমরা যেদিন দার্জিলিং এ পৌঁছেছিলাম সেদিনকেই বিকেলের পরে ওখানকার মল বলে একটা মার্কেটে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল পুরো কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিল। প্যান্ডেলটা করেছিল কাপড়ের। কিন্তু পুরো কেদারনাথ মন্দিরের মতো করেছিল। এছাড়া মাইক বাজানো শুরু হয়ে গিয়েছিল ।শুধুমাত্র সেদিন ঠাকুর আনা হয়নি। তবে পরের দিন যখন বিকেল বেলায় আবারও গিয়েছিলাম ওখানে ঘুরতে।
তখনও দেখেছিলাম ঠাকুর নিয়ে আসা হয়নি। তবে যেদিন মহাকাল মন্দির দর্শন করতে গিয়েছিলাম সেদিন সকাল বেলায় দেখি মণ্ডপে ঠাকুর আনা হয়ে গিয়েছিল । হয়তো রাতের বেলায় মন্ডপে ঠাকুর আনা হয়েছিল।এছাড়াও সকালবেলায় মন্ডপে ঠাকুর গুলো সাজানোর কাজ চলছিল। মা দুর্গার মূর্তি দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিল। ঠিক আমাদের শহরে যেইরকম মিষ্টি দেখতে হয় ঠিক সেই রকমই মূর্তিগুলো সাজানো ছিল। ওখানে মন্ডপে ঠাকুর দেখে মনে হচ্ছিল আমাদের শহরে ও হয়তো পুজো শুরু হয়ে গেছে।সকালবেলাতে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছিল। জীবনে প্রথমবার পাহাড়ি এলাকাতে গিয়ে মা দুর্গার পুজো দেখেছিলাম। এমনকি সময়ও পাঠিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে পুজো দেখব এটা স্বপ্নেও কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি। তবে সেদিন মহাদেবের দর্শনের আগে মা দূর্গার দর্শন পেয়ে সকাল বেলায় মনটা ভরে গিয়েছিল।
ঐরকম শান্ত পরিবেশে পুজো দেখতে ভীষণ ভালো লেগেছিল। তবে আমরা যে হোটেলে ছিলাম সেখান থেকে ওই এক জায়গাতেই পুজো দেখেছিলাম। এছাড়াও যখন দূরে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছিলাম তখন দেখছিলাম চারপাশে প্রচুর দুর্গাপুজো হচ্ছিল। এমনকি সমস্ত মণ্ডপেই আগে থেকেই পুজো শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে আমাদের এখানকার মতো খুব বড় প্যান্ডেল না করলেও ওরা ওদের ওখানে ছোট ছোট প্যান্ডেল করে মা দুর্গার আরাধনা করেছিল। এছাড়াও রাস্তাতে দেখছিলাম ওখানকার গাছপালা দিয়েও অনেক প্যান্ডেলের গেট করেছিল। সেগুলো গাড়ি থেকেই দেখেছিলাম। আমাদের হোটেল থেকে পূজা মন্ডপের গানের শব্দ সমস্ত কিছু শোনা যাচ্ছিল।
তবে আমরা যখন দার্জিলিঙে গিয়েছিলাম তখন সেখানেও শরতের ছোঁয়া ছিল। কারণ সবসময় যে বৃষ্টি কিংবা কুয়াশায় ভরা একেবারেই আবহাওয়া ছিল না। সারাদিন প্রচন্ড রোদ করতো আবারো শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়াতেও দেখা যেত। তবে যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন প্রচন্ড হারে বৃষ্টি হয়েছিল। ভেবেছিলাম দিনগুলো হয়তো বৃষ্টিতেই কাটাতে হবে। কিন্তু সেই রকমটা একেবারেই হয়নি। ওখানে গিয়ে যেন এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করেছিল। একদিকে দুর্গাপুজো আর অন্যদিকে চারিদিকে ঘোরার আনন্দ। সব মিলিয়ে যে কয়েকদিন ছিলাম সেই কয়েকদিন প্রচন্ড আনন্দ করে দিন গুলো কাটিয়ে ছিলাম। আজ এইখানেই শেষ করলাম।
আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।






