আমাদের বাড়ি বোনকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে ।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বোনের আইবুড়ো ভাতের সুন্দর মুহূর্ত। বাঙ্গালীদের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর অনেকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খাওয়া। আমার বেলাতেও বেশ অনেক জনের বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খেয়ে বেরিয়েছিলাম। গ্রামের দিকে আবার বিয়ের আগের দিন প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি থেকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়। মানে যারা নিমন্ত্রিত অতিথি থাকে তাদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি খেয়ে আসতে হয়। কিন্তু আমাদের শহরে ভাত, তরকারি, পাঁচ রকমের ভাজা, মিষ্টি , আরো অনেক পদ এই সমস্ত কিছু রান্নাবান্না করেই খাওয়ানো হয়। মা সেদিন হঠাৎ করেই না বলে চলে এসেছিল ।না হলে হয়তো একদিন নেমন্তন্ন করে বোনকে খাওয়ানো হত। প্রথম দিন কেনাকাটা করেই মা বলছিল বাড়ি চলে যাবে ।আবারো পরে একদিন আসবে। কিন্তু পরে বোন আসবে কি আসবে না এই ভেবেই শাশুড়ি মা প্রথমেই বলেছিল একদিন আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর জন্য।
পরের দিন ছিল শনিবার। তাই আমরা আইবুড়ো ভাত খাওয়াতে রাজি হচ্ছিলাম না। কারণ শনিবারে আমরা নিরামিষ খাই। নিরামিষ ভাত খাওয়াতে একটু কেমন লাগে। নিরামিষ অনেক রকম পদ রান্না করতে হয়। কিন্তু মা বারবারই বলছিল বাড়ি চলে যাব। তাই শাশুড়ি মা শনিবার দিন বাধ্য হয়ে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানো বন্দোবস্ত করেছিল। আমার সব বোনেদের শাশুড়ি মা ভীষণ ভালোবাসে। ভীষণ স্নেহ করে। আর এই বোন আমার সব সময়ের ছায়া সঙ্গী ছিল। সব সময় আমাদের বাড়িতেই থাকতো। এমনকি সব জায়গাতে আমার সাথে যেত। তাই ওকে আমার বাড়ির সকলেই ভীষণ ভালোবাসে। আমার মা বোনকে না জানিয়ে আইবুড়ো ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম । শাশুড়ি মা সমস্ত রান্না নিজের হাতে করে ছিল।রান্না যখন শেষের দিকে তখন বোনকে বললাম কোন শাড়িটা পড়বি দেখ।
আগে থেকেই বেশ কয়েকটা শাড়ি কিনে রেখেছিলাম। সেই মতো একটা শাড়ি ও পছন্দ করে নিয়েছিল ।আর জিজ্ঞেস করছিল কেন শাড়ি পরবো কেন। তখন বলেছিলাম যে আজকে তোকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানো হবে। যাই হোক ও তো শুনে ভীষণ খুশি হয়েছিল।মা তখনও জানে না। কারণ মা ছিল দিদার বাড়িতে। দুপুরে কাঠফাটা রোদে আমি চলে গিয়েছিলাম দই, মিষ্টি কিনতে। তখন মাকে বলেছিলাম আমাদের বাড়িতে এসো ।তখন ও মা সেভাবে কিছুই জানত না। যখন আমার বাড়িতে আসলো তখন আইবুড়ো ভাতের সমস্ত কিছু সাজানো গোছানো চলছিল। মা তো দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। সমস্তটাই মাকে না জানিয়ে করে ফেলেছিলাম।
এরপর সমস্ত খাবার সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে বোনকে বসিয়ে যে যার মত ছবি তুলে নিয়েছিলাম। এরপর আমার শাশুড়ি মা ,আমার বর আর আমি আশীর্বাদ পর্ব সেরে ফেলেছিলাম। শাশুড়ি মা যেহেতু বোনকে খুব ভালোবাসে। তাই বোন বারবার বলছিল আমাকে খুব ভালো করো আশীর্বাদ করো যাতে আমি ভালোভাবে সংসার করতে পারি। সব মেয়েরাই চাই সংসার ভালোভাবেই করতে। কিন্তু অনেক বাধা বিপত্তির কারণে হয়তো মেয়েরা সংসার ছাড়তে বাধ্য হয়। যাইহোক আশীর্বাদ হয়ে যাওয়ার পর এরপর বোন সমস্ত খাবার খেয়ে নিয়েছিল। শাশুড়ি মা অনেক রকম পদ রান্না করেছিল।আমার বাড়িতে এ প্রথম আইবুড়ো ভাত খেয়েছিল। আমারও প্রথম থেকে ইচ্ছে ছিল আমার বাড়িতে প্রথম আইবুড়ো খাওয়ানোর।
তবে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর সাথে সাথে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল ।আর কয়েকটা দিন পর বোন চলে যাবে অন্য কারোর বাড়িতে। অন্য কারো সংসারে। সেখানে নিজের মতো সংসার গড়ে তুলবে ।যেখানে ওকে আমি এক ডাকেই কাছে পেয়ে যেতাম। ওর সাথে কত আনন্দ মজা, খুনসুটি করে দিনগুলো কাটাতাম। এমনকি আমার বাড়িতে যেদিন এসেছিল সেদিন থেকেই আমাদের মধ্যে খুনসুটি শুরু হয়ে গিয়েছিল। আসলে সব বোনেদের মধ্যে আমি মজা করতে ভীষণ পছন্দ করি। যাই হোক সে তো আর আমার জন্য সারা জীবন বসে থাকবে না। তার বিবাহিত জীবন সুখের হোক এই কামনাই করি ।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আর আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏