বিশেষ দিনের জন্য মেহেন্দি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে জীবনের একটু আনন্দের মুহূর্ত শেয়ার করে নেব। জীবনের যে কোন মুহূর্ত একটু অন্যরকম ভাবে সাজিয়ে তুলতে সকলের ভালোই লাগে। গত ১১ ডিসেম্বর ছিল আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। এ বছরে প্রচুর নেমন্তন্ন যেমন এসেছিল। মোটামুটি সব বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাওয়া হয়েছিল।ঠিক তেমনি কিছুদিন আগে আমাদের পরিবারের এক জনকে আমরা হারিয়েছি। সেটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। ওই সময়টাতে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী দিন পড়েছিল। তাই কোন রকম সেলিব্রেশন করা হয়নি। এখন যতদিন যাচ্ছে সবকিছুর সেলিব্রেশন বেড়েই চলেছে। আমাদের যদিও বা বিশেষ দিনটি মনে থাকে না। কিন্তু বন্ধু -বান্ধবীরা, এছাড়াও আশেপাশে প্রতিবেশীরা দিন টা মনে রাখে। প্রত্যেক বছরই ওদের বায়না ওদের খাওয়াতে হবে।গত বছরে সেভাবে কোনরকম সেলিব্রেশন হয়নি। তাই এ বছরে বেশ কয়েকজন ধরেছে তাদের খাওয়ানোর জন্য। বাঙালিরা খেতে ভীষণ পছন্দ করে। সেটা যেকোনো কারণেই হোক না কেন। এছাড়া কার্তিক পুজোর কোন খাওয়া-দাওয়া করানো হয়নি।
তাই সবকিছু নিয়ে একটা ছোট্ট করে খাওয়ানোর আয়োজনের আমরা প্ল্যান করেছি। সেই আনন্দে আজকে চলে গিয়েছিলাম ঈশার কাছে মেহেন্দি করতে। মেহেন্দি করতে বেশ ভালোই লাগে। তবে সংসারের কাজের চাপে এছাড়াও বাড়িতে টুকটাক মাটির কাজের জন্য কোন অকেশনে মেহেন্দি করা হয়ে ওঠেনা। ছোট থেকেই মেহেন্দি করতে ভীষণ ভালোবাসি। যেকোনো মেলাতে গেলেই আগে মেহেন্দি করতাম।আজকে সারাদিন সমস্ত ব্যস্ততা কাটিয়ে বিকেল বেলায় চলে গিয়েছিলাম মেহেন্দি করবার জন্য। ঠান্ডার মধ্যে মেহেন্দি শুকাতে বেশ দেরি হয়। তাই প্রথমে ভেবেছিলাম করবো না। তবে বিশেষ দিনে নিজেকে নতুন করে সাজাতে একটু ভালোই লাগছিল। জীবনে এসব দিনগুলো বারবার ফিরে আসবে না। হয়তো প্রত্যেক বছরেই এই দিনটি আসবে। কিন্তু প্রত্যেক বছরের আনন্দ হয়তো এক রকম থাকবে না।
তাই বিকেল বেলা থেকে বেশ খানিকক্ষণ ধরে আমার দুই হাতেই পুরো মেহেন্দি করে দিয়েছিল। মেহেন্দি করতে বসে সেই বিয়ের দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। বিয়ের সময় আমার এক বান্ধবী আমার হাতে মেহেন্দি করে দিয়েছিল। কিন্তু খুব একটা ভালো করেনি। তাই মাঝে মধ্যে মনে পড়লে মন খারাপ করে। হাজার চেষ্টা করেও সেই দিনটি আর ফিরে পাবো না। আজকে ঈশা এত সুন্দর মেহেন্দি করছিল তাই বারবার মনে পড়ছিল ।সেই দিন হয়তো ঈশার কাছে মেহেন্দি করলে ভালো হতো। আজকে খুব সুন্দর করে সযত্নে আমার দুই হাতে মেহেন্দি করে দিয়েছিল। কিন্তু শীতের জন্য শুকোতে বেশ সময় লাগছিল। এদিকে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছে আরো শীত লাগছিল। দুই হাত আরো ঠান্ডায় জমে গিয়েছিল।
তাই ঈশান হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে আমার দুই হাতের মেহেন্দি শুকিয়ে দিচ্ছিল ।এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো সত্যিই ভীষণ আনন্দ দেয়।ঈশান খানিকক্ষণ ধরে আমার দুই হাতের মেহেন্দি শুকিয়ে দিয়েছিল। এরপর বেশ খানিকক্ষণ রাখার পর আপনা আপনি হাত থেকে মেহেন্দি গুলো খসে পড়ে গেল ।মেহেন্দির সমস্ত ডিজাইন আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম। আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে। আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে।। আসলে সমস্ত গুণ সবার মধ্যে থাকে না। কিন্তু ঈশার মধ্যে সব রকম গুন ভগবান দিয়েছে। দুই হাতে মেহেন্দি ছিল তাই ঈশান সমস্ত ছবি গুলো তুলে দিয়ে ছিল।যাইহোক পরের সমস্ত মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏