ভোটের আগের দিন রাতের প্রস্তুতি চলছিল
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত ২৯ এ এপ্রিল রাতের বেলায় ভোটের প্রস্তুতির কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। ছোট থেকেই ভোট সম্পর্কে খুব একটা অভিজ্ঞতা না থাকলেও মামাদেরও দেখতাম ভোটের সময় এক একটা পার্টির হয়ে কাজ করতে। এখন এইরকম প্রত্যেক পাড়াতেই রয়েছে। যে যে পার্টিকে পছন্দ করে সে সেই পার্টির হয়ে কাজ করে। ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের কাজ করতে দেখা যায়। তখন সমস্ত মানুষকে এক ডাকেই পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে হয়ে গেল বিধানসভা ভোট । এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের বহু উচ্ছ্বাস ছিল। তার ফলাফল প্রকাশ ও হয়ে গেছে ।অনেকে হয়তো খুশি হয়েছে আবার অনেকে খুশি হয়নি। গত ২৯ এপ্রিল তিন বোন বারো দোল মেলা দেখে বাড়ি ফিরেছিলাম ।এরপর যে যার মত খাওয়া-দাওয়া সেরে শুয়ে পড়েছিল।
আমি আবার অনেকটা রাত না হলে শুতে পারি না। ঘুমও আসে না। কোন কাজ না থাকলে ছাদের উপরে অনেকটা রাত পর্যন্তই পাইচারি করি। এটা আমার বরাবরের অভ্যেস। শীতকালেও আমি অনেকটা রাত পর্যন্তই হাঁটাহাঁটি করি। শুধুমাত্র বৃষ্টি পড়লেই ঘরের ভিতরে থাকি। ভোটের আগের দিন পাড়ার সমস্ত ছেলেরা মিলে দলবদ্ধ ভাবে হইচই চেঁচামেচি এইসব করছিল। তখন আমি ঘরের ভিতরে ছিলাম। কারণ তখন অনেকটাই রাত। আমি আবারো ছুটতে ছুটতে ছাদে গিয়ে দেখি সকলেই ভোটের জন্য তাদের দলের পতাকা টাঙাতে ব্যস্ত। যে যে দলকে পছন্দ করে সে সেই দলের পতাকা গুলো সারা রাস্তা জুড়ে টাঙাচ্ছে। কেউ টানাচ্ছিল তৃণমূলের পতাকা কেউবা আবার বিজেপি হয়ে পদ্মফুলের পতাকাগুলো। ভোটের সময় প্রত্যেক দল থেকেই প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করা হয়। রাস্তা জুড়ে পতাকা গুলো যখন টাঙায় তখন দেখতে ভীষণই ভালো লাগে। আমি আবার রাতের বেলাতেই ছাদের উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের কাণ্ডকারখানা দেখছিলাম। আসলে রাতের বেলায় যে যার মত ঘুমিয়ে পড়ে। তাই কাজে কোন বাধা দেওয়ার ঝামেলা থাকে না। তাই ইচ্ছামত তাদের ব্যানার গুলো টাঙাতে পারে।
ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন প্রায় দেড়টা বাজে, তখনও তাদের কাজ শেষ হয়নি। এক নাগারে এক রাস্তা থেকে আরেক মোড়ের মাথা পর্যন্ত টাঙিয়ে চলেছে। কারো কারো হয়তো আঠারো বছর বয়স হয়নি। কিন্তু টাকার জন্য আনন্দে দলবদ্ধভাবে কাজগুলো করছিল। আমারও মনে পড়ে ছোটবেলায় একবার আমরা ভোটের সময় প্রচুর মিষ্টির ঠোঙ্গা তৈরি করে তাতে টিফিন ভরে ছিলাম । ওই যে প্রথমেই বললাম ছোটবেলাতে মামারাও একই কাজ করত। পার্টির দলের হয়ে কাজ করত। তখন ভীষণ মজা পেতাম। কাজগুলো করতে ভালোও লাগতো। কিন্তু এখন কোন পার্টি বা কোন দল কাউকেই পছন্দ হয় না। কারণ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পাশে কোন পার্টিকেই সময়ে পাওয়া যায় না। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে মানুষ মানুষকে এমনি ভুলে যায়।
কৃষ্ণনগরে ঠিক যেমন পুজোর সময় সারারাত জেগে মানুষ কাজকর্ম করে, ঠিক ভোটের সময়তেও মানুষের কাজকর্ম দেখে সত্যিই ভালো লাগছিল। তাদের যেন সবকিছুতেই আবেগ কাজ করে। আমি আর বেশি রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দেখিনি ।কারণ সকালবেলায় আমাদেরও রওনা দিতে হবে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে। তাই দরজা বন্ধ করে আমি আবার ঘরে চলে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আজ এখানে শেষ করলাম।
আগামীকাল আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


ধন্যবাদ 🙏🙏