নববর্ষের রাতে বিনা নিমন্ত্রণে খেতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গতকালকে আপনাদের মাঝে নববর্ষের সন্ধ্যেবেলায় কাটানোর কিছু মুহূর্ত শেয়ার করে নিয়েছিলাম। নববর্ষের সন্ধ্যাবেলা তে হাজারো ভিড় ঠেলে অনেক দোকান থেকেই হালখাতা করে মিষ্টি নিয়ে আনন্দ করতে করতে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। এরপরে চলছিল সকলের মিষ্টি ভাগাভাগির পালা ।আসলে কার ভাগে কোনটা পড়ল সেটা দেখতেই অনেকটা মজা লাগে।কার বেশি কার কম এইসব দেখতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।এদিকে আমি কয়েকটা দোকান থেকে নিজে আইসক্রিম খেয়েছিলাম ।এছাড়া বাড়ির জন্য নিয়ে এসেছিলাম। এরপর আমি আর ঈশা হয়তো অল্টারনেট করে মিষ্টিগুলো ভাগ করে নিয়েছিলাম ।ঈশান তো বাড়ি এসে সাথে সাথে প্যাকেট খুলে খেতে বসে পড়েছিল।এরপর বাড়ি চলে আসবার পর ঈশাদের আবারো ছিল রাতের এক বাড়িতে নিমন্ত্রণ। আসলে দুপুর বেলায় নিমন্ত্রণ ছিল। রোদ গরমে যেতে পারেনি।আসলে ওই বাড়িতে আমার নেমন্তন্ন ছিল না।ঈশাদের যেতে অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল ।তাই ঈশাকে একা একা ছাড়ছিল না ।এদিকে কাকু কাকীমা কেউ আর সাথে যাবে না।
তাই আমাকে জোর করে বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ।ওই দোকানটি আমারও চেনা। আমিও উনাদের সকলকে চিনি । আসলে ঈশার বাবা বারোমাস ওনাদের দোকানে জিনিস কেনেন। তাই প্রত্যেক বছর ওদের নিমন্ত্রণ করে। উনারাও সকলে আমাকে চেনেন ।যাইহোক আমি, ঈশা ,ঈশান তিনজন মিলে টোটো ধরে চলে গিয়েছিলাম ওনাদের দোকানে।বাড়ি থেকে টোটো তে দু মিনিট সময় লাগে।যাই হোক দোকানে যাওয়া মাত্রই আমাকে দেখে বাড়ির লোকেরা তো ভীষণ খুশি। ওনারা তখন রাতের খাবার খেতে বসেছিলেন।এদিকে আমি লজ্জায় খেতে বসতে পারছিলাম না ।কারণ আমি সেদিন ওদের সাথে বিনা নিয়ন্ত্রণে খেতে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই দোকানের সকলেই আমাকে চেনে তাই সকলেই ভীষণ রাগ করছিল ।আমাকে বলছিল পাড়ার মেয়ে আমরা কি তোকে চিনি না। এসেছিস খুব ভালো করেছিস ।বসে খেয়ে যা না হলে আমি ভীষণ রাগ করবো। আমিও বাধ্য হয়ে খেতে বসেছিলাম। বছরের প্রথম দিনে বড়োদের কথা শুনতে হয়।
কিন্তু খেতে বসে হঠাৎই শরীরটা ভীষণ খারাপ করে ওঠে ।কারণ প্রচন্ড গরমের মধ্যে ওই ভিড় ঢেলে যাতায়াত করেছিলাম ।শরীরটা এমনি খারাপ হয়ে গেছে। তাতে আবার অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছিল। তখন খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। ওই দোকানে পোলাও করেছিল ।পোলাওটা দেখতে ঠিক মিহিদানার মত রং হয়েছিল। সেদিন হঠাৎ করে কোথা থেকে খাবারের প্রতি ভক্তি একেবারেই চলে গিয়েছিল। ওই দোকানে পোলাও ,ছোলার ডাল, পনিরের তরকারি ,চাটনি ,মিষ্টি। এছাড়াও অনেক কিছু করেছিল সেগুলো হয়তো দুপুরবেলায় ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু আমি খেতে বসে একদম খেতে পারিনি কারণ গরমের মধ্যে ভাবছিলাম কখন বাড়ি ফিরব
আমরা ওই দোকানে যখন গেলাম তখন সব লোকজনের প্রায় খাওয়া-দাওয়া শেষের মুখে।
তিনজনে খেয়ে আবার বাড়ির জন্য পার্সেল করে নিয়ে এসেছিলাম। ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত এগারোটা বেজে গিয়েছিল। এ বছরে প্রথম নববর্ষের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হইহুল্লোড় করে কাটিয়েছিলাম ।বছরের প্রথম দিনেই বিনা নিমন্ত্রণে খেতে গিয়ে সবথেকে লজ্জায় পরে গিয়েছিলাম। বন্ধুত্বের খাতিরে মানুষকে অনেক কিছুই করতে হয়। কোন সময়ের জন্য আমি মুখের উপরে না করতে পারি না। তবে এভাবে যেতে বেশ ভালোই লাগে ছিল ।সেই ছোটবেলাকার মজা গুলো ফিরে পাওয়া যায়।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।




Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
Thank you 🙏
Thank you 🙏