হঠাৎ করেই পিকনিক সাথে বিবাহ বার্ষিকী সেলিব্রেশন করার প্ল্যান
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত রবিবার দিন আমরা সকলে মিলে ভেবেছিলাম একটু ঘুরতে যাব। পাশের বাড়ির কাকু ,কাকিমা দের বাড়িতে বেশ কিছু লোকজন বেড়াতে এসেছিল। কাকুর ইচ্ছে ছিল তাদের সকলকে নিয়ে একটু পার্কে ঘুরতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের কৃষ্ণনগরে দুটো পার্ক বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। পার্কে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ চলছে। তাই দুপুরবেলায় সকলে একসাথে বসে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান চলছিল। বাড়িতে বসেই টোটো ওয়ালা ঠিক করছিলাম বেড়াতে যাবার জন্য। কিন্তু দুটো টোটো ওয়ালা বাড়িতে ছিল না, আর একজনকে যাবার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু সে বেশি ভাড়া চেয়ে ছিল বলে আমরা বাড়িতে বসে ভাব ছিলাম যাব কি যাব না। সেদিন ইচ্ছে ছিল পাশের বাড়ি কাকুদের সাথে হাসাডাঙা দুর্গাশ্রমে ঘুরতে যাব। সেদিন আমাদের দুর্গাশ্রমে ঘুরতে গিয়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল ।তাই বাড়িতে যে কোন আত্মীয়স্বজন আসলেই মনে হয় তাদের কেউ একবার ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। কাকু কাকিমা আমাকে ভীষণ ভালোবাসে ।তাই আমাকে ছাড়া ওরা কোথাও যাবে না। তাই আমাকেও রাজি করিয়েছিল যাবার জন্য।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে আলোচনা চলছিল বেড়াতে যাওয়ার।কিন্তু ভাড়া বেশি বলার জন্য আমরা যেতে রাজি হচ্ছিলাম না ।তাই হঠাৎ করেই আমরা প্ল্যান করেছিলাম বাড়িতে একটা ছোটখাটো পিকনিক করবো। ইচ্ছে ছিল ফ্রা-রাইস আর মাংস রান্না হবে। এই আলোচনা করতে করতেই বিকেল বেলায় সকলে মিলে বাজার করতে বেরিয়ে পড়েছিল। বিকেল বেলায় সমস্ত বাজার দোকান করে নিয়ে চলে এসেছিল। এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবার পর রাত সাড়ে আটটার পর থেকে সকলে মিলে রান্নাবান্নার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিলাম ।কাকুদের বাড়িতে বেশ কিছু লোকজন ছিল। তাই হেল্প করার অনেক জনকেই পেয়ে গিয়েছিলাম।
এদিকে হঠাৎ করেই প্ল্যান করা হলো যে পরের দিন ছিল কাকু কাকিমার বিবাহ বার্ষিকী। সেদিন হঠাৎ করে প্ল্যান করার পর রাত বারোটার পর সেলিব্রেশন করার ইচ্ছা ছিল। তাই হঠাৎ করেই রাতের বেলায় মালা ,কেক সমস্ত কিছু কিনে আনতে ছুটে গিয়েছিল। মোটামুটি আমাদের সকলেরই বিবাহ বার্ষিকী কিংবা জন্মদিন পালন করা হয়। কিন্তু কাকু কাকিমা কখনোই বিবাহ বার্ষিকী পালন করা হয়নি । মাঝেমধ্যে কাকিমার ভীষণ ইচ্ছে করে। আসলে আশেপাশের সকলকে পালন করতে দেখে।তাই আমরা কাউকে না জানিয়ে এ বছরে তাদের ৩০ বছরের বিবাহ বার্ষিকী সেলিব্রেশন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এদিকে পিকনিকের সমস্ত রান্নাবান্নার প্রস্তুতি চলছিল। রান্নাবান্না শেষ করতে করতে প্রায় রাত্রি সাড়ে এগারোটা বেজে গিয়েছিল।
এদিকে বেশ কয়েকজনকে নিমন্তন্ন করা হয়েছিল। তারাও এসে হাজির হয়েছিল। এদিকে আমরা রাত বারোটার সময় সেলিব্রেশন করবো বলে তারও প্রস্তুতি করছিলাম। কারণ আগে থেকে কোন কিছুই সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। আমাদের এই প্রস্তুতি দেখে বাড়ির সকলেই তো ভীষণ খুশি ।বাড়ির বড়রা পর্যন্ত আমাদের উৎসাহ দিচ্ছিল ।কারণ মাঝে মাঝে বড়দেরও আনন্দ দেওয়া ভীষণ জরুরি ।আমরা যেভাবে জীবন যাপন করে দিনগুলো কাটায় বড়দের সেভাবে দিনগুলো কাটানো হয় না। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে মনে করানোর জন্যই আমরা সেদিন ছোট্ট করে সেলিব্রেশন করেছিলাম। সেই মুহূর্ত আপনাদের মাঝে পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব। আজ এইখানেই শেষ করলাম। তবে পিকনিকের তেমন কোন ছবি আমি তুলে উঠতে পারিনি।
আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏