বাৎসরিক অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাওয়া

in Incredible India3 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260219151134.jpg

মানুষের জীবনের প্রত্যেকদিন একই রকম যায় না। আবার শরীরটাও একদম ঠিকঠাক থাকে না। গতকাল রাতের বেলা থেকে শরীরটা ভীষণ খারাপ ছিল। আজকে সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠতে প্রায় সকাল দশটা বেজে গিয়েছিল। হয়তো শরীরটা খারাপ থাকার কারণেই ঘুম থেকে উঠতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক আজকে ছিল আমাদের একটা নিমন্ত্রণ। গোটা একটা বছরে কিভাবে দিনগুলো জলের মতো কেটে যায় সেটা বুঝতে পারিনা।গত বছরে এই সময়তেই আমরা আমাদের এক কাছের মানুষকে হারিয়েছিলাম। দেখতে দেখতে একটা বছর কমপ্লিট হয়ে গেল।সেই মানুষটির সাথে ছোটবেলা থেকে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। হয়তো সেই সময় আপনাদের মাঝে শেয়ার করেও নিয়েছিলাম দুঃখের সময়। কথায় আছে জন্ম মৃত্যু বিয়ে সবই ভগবানের দেওয়া। কার কখন কিভাবে হয় সেটা আমরা কেউই বলে উঠতে পারি না।

IMG20260219152851.jpg

এখনকার দিনে মানুষ কার কখন কি হবে? সেটা আমরা কেউ ভাবতে পারি না ।আজ হয়তো আমি আছি কাল নাও থাকতে পারি। আমাদের দেশে বিজ্ঞান যেমন উন্নত হচ্ছে ঠিক তেমনি মানুষ গুলো জলের মতো আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আরো বেশি করে রোগ বাড়ছে। এছাড়া দুরঘটনা তো লেগেই রয়েছে।তাদের হয়তো কিছু অসাবধানতার জন্য হচ্ছে আবার কারো কারো হঠাৎ করেই এমনটা হচ্ছে। আজকে ছিল আমার এক দাদুর শ্রাদ্ধের বাৎসরিক অনুষ্ঠান। উনি আমার বড় মামার শশুর মশাই। সম্পর্কটা অনেক দূরের হলেও মানুষগুলো আমার ভীষণ কাছের। ছোট থেকে আমি যেহেতু মামার বাড়িতেই বড় হয়ে উঠেছি। তাই আমার সমস্ত কিছু উনাদের জড়িয়ে বড় হয়ে ওঠা।প্রায়ই পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে দিদা আমাদের নিমন্তন্ন করে গিয়েছিল।

তবে নেমন্তন্ন খাওয়ার জন্য কোন গিফট কেনা হয়নি। প্রথমে আমার মা বলেছিল নেমন্তন্ন খেতে আসবে। ওখান থেকেই আমার জন্য একটা গিফট কিনে নিয়ে আসবে। কিন্তু মা কোন কারণ বশত এসে উঠতে পারিনি। তাই হঠাৎ করেই আজকে আমাকে বাড়ি থেকে বলা হয়েছিল নেমন্তন্ন খেতে যাওয়ার জন্য একটা গিফট কিনে আনতে। কিন্তু সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠেই এত রোদের তাপ বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করে না। আমারও বাইরে রোদ দেখে একেবারেই বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু খুব কাছের মানুষের নেমন্তন্ন বলে যেতেই হবে। না গেলে একেবারেই হবে না। তাই আমার জন্য ছোট মামা গিফট কিনে এনে দিয়েছিল ।শেষে বাধ্য হয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল নেমন্তন্ন খেতে । আমাদের বাড়ি থেকে কেউ যেতে পারিনি।

জানিনা কোথাও যাওয়ার কথা শুনলেই আমার শরীর ভীষণ খারাপ করতে শুরু করে ।সেটা যেখানেই হোক না কেন। যাইহোক বড় মামা, মামি ,আমি, দিদা সকলেই একসাথে গিয়েছিলাম নেমন্তন্ন খেতে। আমাদের বাড়ি থেকে দু থেকে তিন মিনিটের হাঁটা পথ। যাইহোক গিয়ে দেখি দিদা বসে আছে। আমাদের দেখে তো একটু খুশি হল ।এদিকে প্যান্ডেলে খাওয়া দাওয়া চলছিল। খুব বেশি লোকজন নিমন্ত্রিত ছিল না। আবার অর্ধেক মানুষের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। কারণ শ্রাদ্ধ বাড়িতে বেশি লোক খেতে চায় না।আমিও পাঁচ থেকে সাত মিনিট বসেছিলাম। এরপর আমি ,মামার মেয়ে আর মামী তিনজন মিলে খেয়ে নিয়েছিলাম। কারণ আমাদের আগের ব্যাচেই দিদা আর বড় মামার খাওয়া হয়ে গিয়েছিল।

এরপর খাওয়া দাওয়া সেরে আমি আর মামার মেয়ে দুজনে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম ।মামি ছিল খানিকক্ষণ তার বাপের বাড়ির মানুষদের সাথে সময় কাটাবার জন্য। যাই হোক দুই বোন মিলে গল্প করতে করতে আবারো বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম।


আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.29
JST 0.043
BTC 68125.59
ETH 1977.29
USDT 1.00
SBD 0.37