ফেরার পথে

in Incredible India5 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।

IMG-20251230-WA0021.jpg

আজকে আপনাদের মাঝে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ থেকে ফিরে আসার মুহূর্ত শেয়ার করে নেব। সেদিন শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ থেকে বেরোনোর পর মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কারণ শান্তিনিকেতনে একবার যেতে পারলে খুব ভালো লাগতো ।শান্তিনিকেতনের একেবারে কাছে থেকে বাড়ি ফেরার জন্য আরো বেশি খারাপ লাগছিল। আর মাত্র ৮ কিলোমিটার গেলে আমরা শান্তিনিকেতনে পৌঁছে যেতাম। যাইহোক কলেজের সামনে থেকেই সরাসরি কাটোয়া তে আসার গাড়ি পেয়ে গিয়েছিলাম। ফেরার জন্য আবার ও একই ভাবে ফিরতে হয়েছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম সরাসরি কৃষ্ণনগর আসবার গাড়ি ধরবো। কিন্তু ওখান থেকে বাসে উঠে পড়েছিলাম সকলে মিলে। ফেরার সময় কোন স্যার আমাদের সাথে ছিল না।কিন্তু ওই লাইনের বাস গুলো খুবই আস্তে চলে। বাসে বসে খুবই বিরক্ত লাগছিল। ওখানে বাস থেকে নেমে আবারো টোটো ধরে চলে এসেছিলাম গঙ্গা পার হওয়ার জন্য।

IMG-20251230-WA0010.jpg

তখন প্রায় সন্ধ্যা সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল। এদিকে লঞ্চে করে নদী পার হতে হবে। শীতের বিকেল বেলায় লঞ্চে করে নদী পার হতে ভীষণ ঠান্ডা লাগে ।চারিদিকে হালকা কুয়াশা পড়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের দিকে চারিদিক ফাঁকা থাকে তাই কুয়াশা ভালোই বোঝা যায়। যাইহোক কোন রকমে নদী পার হওয়ার পর আবারো প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিনিটের রাস্তা হেঁটে আসতে হয় ।তারপর বাস স্ট্যান্ড। আবারো বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে পড়েছিলাম দেবগ্রাম আসার জন্য। সেখান থেকেই প্রায় ৩০ মিনিটের পথ এসে আবারো একটা বাসে উঠতে হয়ে ছিল। এরপর প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল। আবারো উঠে পড়েছিলাম আর একটা বাসে আমাদের বাড়ির কাছাকাছি আসার জন্য।

IMG-20251230-WA0012.jpg

সেখানে যখন নামলাম তখন বাজে ছটা বেজে পাঁচ মিনিট। এরপর ওখানে তো প্রায় অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তারই মধ্যে আমরা বাঁশের ব্রিজের উপর দিয়ে আবারো নদী পার হয়ে ছিলাম। নদী পার হওয়ার পর আবারো টোটো করে চলে গেছিলাম আমাদের তেহট্ট তে। তেহট্টতে আসার পর আবারও বাস ধরে যেতে হবে মামার বাড়িতে। মামার বাড়ির ভিতরের দিকে বাস সচরাচর যায় না ।তাই ওখান থেকে আবারও টোটো করে যেতে হবে মামার বাড়িতে। এরপর রাত আটটা নাগাদ সরাসরি বাড়ি চলে এসেছিলাম। শীতকালে গ্ৰামের দিকে বেশি ঠান্ডা লাগে। সেদিন কিছু সমস্যার কারণে আবার মামার বাড়িতেই যেতে হয়েছিল। তবে মামার বাড়ি যেতে যেতে খ্রিস্টানদের বাড়িগুলো সাজানো এত ভালো লাগছিল এর আগে কখনো আমি দেখিনি।

IMG-20251230-WA0019.jpg

ওখানে প্রচুর খ্রিস্টানরা রয়েছে তাই চার্চের মেলায় খুব ধুমধাম সহকারে হয়। তবে কোনদিন দেখা হয়নি। ইচ্ছে আছে একবার গিয়ে চার্জের মেলা দেখে আসবার। সারাদিন এতটা পথ জার্নি করে শরীর ভীষণ খারাপ ছিল। তাই বাড়িতে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের এত জার্নির কথা শুনে সকলেই ভীষণ অবাক ।সকলেই বকাবকি শুরু করছিল আর বলছিল এইভাবে আর কোনদিনই তোমাদের পাঠাবো না। আগে যদি জানতাম আমরা নিজেরা গাড়ি করে যেতাম। তবে কলেজের স্যাররা এইভাবে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাগুলোকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। ডাক্তার দেখিয়ে আবারও কুড়ি দিন পর সকলকে যেতে বলেছেন ।কিন্তু আমার মনে হয় এতদূর জার্নি করে না যাওয়াই ভালো। এই ছিল আমাদের যাতায়াত পর্ব।


আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
 5 days ago 

Thank you 🙏

Loading...