দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে হাটে কেনাকাটা করার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আমরা দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়ে বেশ কিছু সুন্দর জায়গাতে সময় কাটিয়েছিলাম। তবে বাড়ি ফেরার দিন কে বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরেছিলাম। তবে আজকে শেষ যে জায়গাটিতে ঘুরেছিলাম সেই জায়গাটি সম্পর্কে আপনাদের মাঝে কিছু শেয়ার করে নেব। আমরা যখন শেষ একটা ঝিলের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলাম তখন আকাশে হঠাৎ করে প্রচন্ড কালো মেঘ জমেছিল।এই বুঝি বৃষ্টি নামল এরকম একটা ব্যাপার। যেমন বলা তেমন কাজ।এরই মধ্যে ফেরার পথে আমার সাথে নিজের কেউ ছিল না। অপরিচিত মানুষজনদের সাথে মিলেমিশেই আমি বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম।ওদের সাথে আমার ভালোই পরিচয় হয়ে উঠেছিল। ইতিমধ্যে একজনের মোমো বানানোর একটি জিনিসের প্রতি প্রচন্ড লোভ জন্মেছিল । প্রথম থেকেই ওই জিনিস টা কেনার জন্য বলছিল।
উনি নাকি বাড়িতে বেশিরভাগ দিন মোমো তৈরি করেন ।তাই মোমো বানানোর একটা পাত্র ওখান থেকে কিনতে চান । শীতের দেশে খুব ভালো মোমো পাওয়া যায় ।তাই ওখানকার জিনিসগুলো খুব ভালো হবে বলে ওনার বায়না ।উনি ওখান থেকে মোমো বানানোর পাত্র কিনবেন। যখন ঝিলের কাছে গাড়ি দাঁড়ায় তখন সকলে ঝিল দেখতে ব্যস্ত। এদিকে আমি ঝিলের কাছে পর্যন্ত গিয়ে উঠতে পারিনি। কারন আমাকে এদিকে উনি টানছে তার সাথে নাকি জিনিস কিনতে যেতে হবে। আমাদের কৃষ্ণনগরেও প্রচুর হাট বসে দেখেছি। সেখানে গিয়েছি কেনাকাটা করতে। কিন্তু দার্জিলিঙে গিয়েও হাটে কেনাকাটা করতে যেতে হবে। সেটা ভাবিনি। দার্জিলিংয়ে ঝিলের কাছে দাঁড়াতে দেখি পাশে এক বিরাট হাট বসেছে। সেখানে সমস্ত কম দামি জিনিস বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশে ঝরনার জল বয়ে চলছে।আর ঝিলের পাড়ে হাট বসেছে।
১০০ টাকা থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিসপত্রই ওই হাটে বিক্রি হচ্ছিল। নানা রকমের বিস্কুট বিক্রি হচ্ছিল।বাইরে বেড়াতে গিয়ে যেই কম দামের জিনিসের নাম শুনি সেই একটু ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করে। ঠিক যেমন আমাদের কৃষ্ণনগরে হাট বসে। ওখানেও ত্রিপল টাঙিয়ে সমস্ত রকমারি জিনিস বিক্রয় হচ্ছিল। হাটে বহু মানুষের ভিড় কেনাকাটা করবার জন্য ।আমারও তো ঘুরে দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করল ।কিন্তু কম দামে জিনিস হলেই বেশিরভাগ পুরাতন জিনিসগুলোই বিক্রি করা হয়। তাই পছন্দ হলেও নেওয়ার আগ্রহ আমি দেখাইনি ।কারণ অলরেডি আমাদের ল্যাগেজ গুলো রুম থেকেই প্যাকিং হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে হাটে ঢোকা মাত্রই শুরু হয়ে গেল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। হাটে সকলে জিনিসপত্র গোটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমরাও সেখান থেকে বেরোতে পারছিলাম না ।কারণ বেরোলেই বৃষ্টিতে ভিজে যাব।ত্রিপলের নিচে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম ।দার্জিলিঙে হঠাৎ হঠাৎ করেই বৃষ্টি হয় ।তাই ঝম ঝম করে বৃষ্টি হবার পরে খানিকক্ষণ আবার থেমে গিয়েছিল ।আমরা যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন কেউ প্রচন্ড পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু যে কদিন ছিলাম সে কদিন একটুও বৃষ্টি হয়নি কিন্তু ফেরার দিন ঠিক ওই ঝিলের কাছে যখন পৌঁছেছিলাম তখনই আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। পুরো হাটে আমরা চারিদিকে ঘোরাফেরা করেছিলাম। নতুন জায়গাতে ঘোরাঘুরি করতে মজাই লাগে।
আমার সাথে যিনি ছিলেন তিনি পছন্দ মতো একটা মোমো বানানোর পাত্র কিনে নিয়েছিল । পাত্রের দাম নিয়েছিল প্রায় ১৪০০ টাকা।এরপর আমরা সকলে আবার গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। কারণ এদিকে বৃষ্টির জন্য অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল ।আমাদের আবার পৌঁছাতে হবে অনেকটা পথ। কিন্তু ওই যে ওখান থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল প্রায় অনেকটা রাস্তা পর্যন্ত এক নাগাড়ে বৃষ্টি চলছিল। বৃষ্টি যেন আসবার দিন কেউ আমাদের পিছন ছাড় ছিল না ।বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে এসেই আমাদের বাসে উঠতে হয়েছিল । আবার খানিকটা রাস্তা এসে বৃষ্টি থেমে গিয়েছিল।এই ছিল আমাদের হাটে ঘোরাঘুরি করার সুন্দর মুহূর্ত।
যাইহোক আজ এখানেই শেষ করলাম ।আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকলের ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



@mou.sumi
দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে বৃষ্টির মধ্যে হাটে ঘোরার অভিজ্ঞতাটা খুব সুন্দরভাবে শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে বৃষ্টির মুহূর্ত আর হাটের পরিবেশের বর্ণনা পড়ে মনে হচ্ছিল যেন ঘটনাটা চোখের সামনে দেখছি। মোমো বানানোর পাত্র কেনার ঘটনাটাও বেশ মজার লেগেছে। আপনার এই ভ্রমণের স্মৃতিগুলো সত্যিই উপভোগ করেছি। ধন্যবাদ এত সুন্দরভাবে শেয়ার করার জন্য।
আমার পোস্ট পড়ে সুন্দর কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Thank you 🙏