হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
কয়েকদিন ধরেই আপনাদের মাঝে শুধুমাত্র বোনের বিয়ে সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা আলোচনা করছি। আসলে আমরা সেদিন প্রথমবার এইরকম অভিজ্ঞতা খুব কাছে থেকে দেখেছিলাম ।সেগুলো আপনাদের মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আসলে সেদিন প্রচন্ড বিরক্তির মধ্যে দিয়ে দিনটি কেটেছিল। আমরা বাড়ি থেকে গাড়িওয়ালাকে সময় দিয়েছিলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আমরা বাড়ি ফিরে আসবো। এভাবেই আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছিল । গাড়িওয়ালা আমাদের নামিয়ে আরও এক জায়গায় যাবে। তাই প্রচন্ড তাড়াহুড়ো করছিল।আমাদের বাড়ি থেকে বের হতেও অনেকটা দেরি হয়েছিল ১১ঃ৩০ টায় বেরোনোর কথা। সেই জায়গায় বেরিয়েছিলাম দেড়টার নাগাদ। কারণ ওদিকে বোন রেডি হয়নি ।আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো। সেই জন্য আমরা তাড়াতাড়ি বেরোয়নি।
এদিকে কৃষ্ণনগর থেকে আমরা যখন বেরিয়েছিলাম আমার মা আমাদের বাড়ি থেকে তখনই বেরিয়েছিল। কিন্তু আমরা আগে গিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম। এর পৌঁছানোর পর কি কি কাণ্ড ঘটেছে সেটা তো আপনাদের মাঝে অলরেডি শেয়ার করে ফেলেছি। এরপর বোন যখন রেজিস্ট্রি করে ফিরলে তখন ঠাকুর মশাই নেই ।এদিকে আমাদের বাড়ি ফেরার তাড়া শুরু হয়ে গেছে।আকাশে ঘন কালো মেঘ বাড়ি না ফিরলেও উপায় নেই। যদিও গাড়িওয়ালা কে ছেড়ে দিতাম। তাহলে আমরা রাত্রিবেলায় গাড়ি পেতাম কিনা এই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। শেষে আমরা ঠিক করলাম আমরা যে কয়েক জন গিয়েছিলাম সে কয়েকজন বাড়ি ফিরে আসবো। আমাদের বাড়ি ফেরার কথা শুনে বোন তো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল।
বারবার বলছিল দিদি সকলে চলে যাক। তুই থেকে যা। কিন্তু আমি কোন আমার প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস পত্র কিছুই নিয়ে যায়নি। থেকে গেলে আমার হতো না। অবশেষে আমরা যে গিফটটা কিনেছিলাম সেটা বোনের বরকে পরিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকলেই আমাদের উপর ভীষণ রেগে গিয়েছিল। রাগ করলেও উপায় ছিল না। সেদিন সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে তখনও ঠাকুর মশাই আসেনি।যে কারণে সে দিন যাওয়া হয়েছিল সেই কাজ অসম্পূর্ণ রেখে আমি বড়ো মামা,মেজ মামা ,আমার বর ,মামার মেয়ে এই কয়েকজন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। ওখানে সকলেই আমাদের উপর রাগ করেছিল। কিন্তু আমাদের উপায় ছিল না ।যাইহোক ওখান থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আবারো বাড়ি ফিরতে হবে ।তাতে আবার ঝড় বৃষ্টির সময় কখন বৃষ্টি নেমে আসে বলার উপায় নেই।
বাড়ি ফেরার সময় সকলেই মন খারাপ ছিল।কারণ ওই রকম ভাবে আমরাও আসতে চাইনি। একটু বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছিল। পরিস্থিতি সব সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না। মহাদেব আমার ভাগ্যে লেখেনি বোনের বিয়ে দেখা।এদিকে দিদি হয়ে বোনকে ওইরকম কাঁদিয়ে রেখে চলে এসেছিলাম। আমারও ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল। কারণ জীবনের এই মুহূর্তটা আর কখনোই আসবেনা। যাই হোক আমরা বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ঝড়-বৃষ্টি। সেই সারাদিন দিনে কোনো কাজ সম্পন্ন ভাবে করে আসতে পারিনি।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Curated by: @josepha
Thank you 🙏