আমাদের কৃষ্ণনগরে নেতাজি মেলা দেখতে যাওয়ার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আমার মতো হয়তো সকলে বেশ কিছুদিন ধরেই সূর্যের এত তাপে সকলেই বাড়িতে বসে গরমে হাঁসফাঁস করছেন। এত গরম আর সত্যিই নেওয়া যাচ্ছে না। সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে চোখ খুললেই বাইরে থাকা রোদ্র একটু উঠানে নামার উপায় নেই। ঘরের ভেতর থেকেই গা, হাত, পা জ্বালাপোড়া করছে। কিছু দিন আগে বৃষ্টি হচ্ছিল আবহাওয়াটা ঠিকঠাক লাগছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এত পরিমাণে গরম পড়ছে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আকাশের মেঘ থাকলেও এক ফোঁটা বৃষ্টির দেখা নেই। জানিনা আবার কবে বৃষ্টি হবে। মানুষ যেন চাতক পাখির মতো বসে রয়েছে বৃষ্টির আশায়।ঘরের মধ্যে পাখার হাওয়াতে ও যেন প্রাণ হাঁসফাঁস হচ্ছে। আমার তো আগা গোড়ায় শীতকাল আর বর্ষাকাল ভীষণ পছন্দের। তবুও একেক টি সিজেন এক এক রকম তো আসবেই। ভালোটা যেমন ভোগ করতে পারি ।খারাপ টাও ভোগ করতে হবেই।
আমাদের পোস্ট করে আপনারা মোটামুটি বুঝতে পারেন কৃষ্ণনগরে বারো মাস মেলা লেগেই থাকে। বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দশ মিনিটের হাঁটা পথে ।আর একটি স্কুলের মাঠে নেতাজি মেলা নামে একটি মেলা শুরু হয়েছে। আমার ছোট বেলার স্কুল। বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে ওই স্কুলের। এই মেলাটি বহু বছর ধরে হয় ।আমাদের ছোটবেলায় এই মেলাটা দেখতে যেতে ভীষণ পছন্দ করতাম। তবে বড় হওয়ার পরে একবার হলেও মেলা দেখতে যাই। তবে ছোট বেলায় দেখার মেলার মতো এখনকার মেলায় অতটাও আনন্দ পায় না ।বেশ কিছুদিন ধরেই বড় মামার মেয়ে খুব করে ধরেছে মেলা দেখতে নিয়ে যাবার জন্য। গরমের কারণে বড় মামা নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছিল না। অবশ্য আমিও রাজি হয়নি। কিন্তু আজকে হঠাৎই মনে হলো যাই গিয়ে মেলাতে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। আমার ও একটু ঘোরা হবে। অনেক দিন বাড়ির ভিতরে থেকে বোর লাগছিল।
মেলা দেখতে যাব শুনে আগে থেকেই বড় মামা টাকা দিয়েছিল। আমার কাছে আরেকটি বাচ্চা পড়ে সেও গিয়েছিল আমাদের সাথে মেলা দেখতে, তিনজন মিলে মেলা দেখতে গিয়েছিলাম। এ বছরে মেলাটা ভালোই বসেছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রচুর দোকান বসেছিল ।হরেক রকম জিনিস এছাড়াও খাবারের দোকান তো রয়েছেই। অনেক নাগরদোলা ও এসেছিল। তবে মানুষজনের সংখ্যা খুবই কম ।এত গরমে মানুষ আর পেরে উঠছে না। প্রত্যেক বছর ওখানে বিভিন্ন রকমের নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করে। আজকেও ঠিক একই রকম ভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিত্য অনুষ্ঠান চলছিল। আমরা মেলার পুরো মাঠটি ঘুরে প্রত্যেকটা দোকানে জিনিস দেখছিলাম। কিছু পছন্দের জিনিস কিনেও নিয়েছিলাম ।
মেলাতে যাব আর জিনিস কিনবো না এমন তো হতে পারে না। মেলাতে গিয়ে আমার বিভিন্ন ধরনের সাংসারিক জিনিস ভীষণ পছন্দ হয়। কিছুক্ষণ ঘোরার পর তিনজন মিলে ফুচকা আর আইসক্রিম কিনে নিয়েছিলাম। জিনিস কিনতে কিনতে অলরেডি টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই আর মেলাতে বেশিক্ষণ ছিলাম না। বাড়ি থেকে যাবার সময় হেঁটে হেঁটে তিন জনের গল্প করতে করতে গিয়েছিলাম ।আবার মেলাতে ঘুরে তিনজন মিলে গল্প করতে করতে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলাম। আছে এই ছিল আমাদের গরমের মধ্যে তিনজনের মেলা দেখার মুহূর্ত। আমি সবসময়ই ছোটদের সাথে ঘুরতে বেড়াতে বেশি পছন্দ করি। তাই সমস্ত জায়গায় তাদের সাথে যেতেই আমার বেশি ভালো লাগে।
আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏