অবশেষে বিয়ে সম্পন্ন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আমরা সেদিন বাড়িতে আসতে আসতে মাঝ রাস্তায় মা ফোন করেছিল আর বলেছিল দশটা মিনিট দাঁড়িয়ে গেলেই বিয়েটা দেখে যেতে পারতিস । মায়ের মন শুনেও খারাপ লাগছিল। মা তো সব মেয়েদের ভালো চায়। কথায় বলে এক মিনিটের মধ্যে মধ্যে ও অনেক কিছু হয়ে যায়।কিন্তু ওই দিনটা তো আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমারও প্রচন্ড রাগ ছিল। ওইভাবে বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু মন থেকে মেনে না নিতে পারলেও সেদিনকে আমি উপস্থিত হয়েছিলাম। পুরো পরিস্থিতি সামাল দিতে। কর্তব্য পালন করতে।বিয়েটা সম্পূর্ণ দেখবো বলে ।এদিকে বিয়ে সম্পূর্ণ করে মা আর যারা এসেছিল বাপের বাড়ির দিকে সকলকে বৃষ্টির মুখে পড়েছিল ।তাদের বাড়ি ফিরতে প্রায় দেড় ঘন্টা লেট হয়ে গিয়েছিল। আমরা যদি তাড়াতাড়ি না ফিরে আসতাম তাহলে আমরাও বৃষ্টির কবলে পড়তাম। সেদিনকে এত পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছিল যে গাড়ি এক জায়গায় থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ।কোথাও আবার গাছের ডাল ভেঙে রাস্তাতে পড়েছিল।
যাইহোক সেদিন সমস্ত বাধা পেরিয়ে মন্দিরে ছোট্ট করে নিয়ম কানুন পালন করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।নিজে দাঁড়িয়ে দেখতে পারিনি।হয়তো বোনের বিয়ের পর নিজেকে সামলাতে পারতাম না ।তাই চলে এসে ভালোই করেছিলাম । ওরা সারা জীবন এইরকম এক সঙ্গে ভালো থাকুক ।সুখে থাকুক। দিদি হয়ে এই কামনাই করব। বোনের বিয়ের সমস্ত জিনিসপত্র আমার পছন্দেরই হয়েছিল। বোনকে বিয়ের লাল টুকটুকে বেনারসিতে দেখতে ভীষণ মিষ্টি লাগছিল। এছাড়াও পার্লারে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে ছিল।যাই হোক কাছে থেকে না দেখতে পেয়েও ভিডিও কলে বিয়েটা সম্পূর্ণ দেখেছিলাম। তবে সামনে থেকে দেখার সুযোগ আর ভিডিও কলে দেখা সম্পূর্ন আলাদা।এর আগে কখনো মন্দিরে সেভাবে বিয়ে দেখা হয়নি । অভিঞ্জতা ছিল একদম অন্যরকম।তবে নিজের বোনের ক্ষেত্রে এমনটা হবে দিদি হয়ে কখনোই ভাবিনি। তাই সম্পূর্ণ বিয়ে দেখে আসাটা আমার ভীষণ ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ইচ্ছে অসম্পূর্ণ থেকে গেল। কিন্তু কথাই বলে ভাগ্যে না থাকলে কোন কিছুই সম্ভব হয় না। আমার ভাগ্যে কোনো ভালো জিনিস থাকে না।
ওই মন্দিরটি ছিল মহাদেবের মন্দির। আমরা প্রথমে শুনেছিলাম ওটা একটা কালীমন্দির হবে। কিন্তু গিয়ে দেখেছিলাম মহাদেবের মন্দির। স্বয়ং মহাদেব কে সাক্ষী রেখে ওরা বিয়ে করেছিল ।এর থেকে আর ভালো কিছু হতে পারে না।ওদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক। সেদিন বিয়ে সম্পন্ন করে আমাদের সকলেরই একসাথে খাওয়া দাওয়া করার কথা ছিল। কিন্তু যে যার মত বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম বলে সেদিন আর একসাথে খাওয়া দাওয়া করা হয়নি। আমার বোন বিয়ে সেরে বাড়ি না পৌঁছাতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমে এসেছিল। সেও অলরেডি বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। কারণ ওই মন্দির থেকে ওদের বাড়ি অনেকটাই পথ ।শুধুমাত্র একটা মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগেই তার বিয়েটা সম্পূর্ণ করা। তার ঠাকুমা শাশুড়ি। সেই ইচ্ছা পূরণ করা হয়েছিল।
মানুষের শেষ ইচ্ছার জন্য আমাদের অনেক কিছুই করতে হয় ।অনেক ত্যাগ স্বীকারও করতে হয়। তাই নিজেদের সমস্ত ইচ্ছা কে জলাঞ্জলি দিয়ে আমাদের সেদিন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের চার হাত এক করে দিয়েছিলাম।ওদের জীবনের চলার পথ যেন সবসময়ই সুন্দর হয়। ছবি গুলো সব বোনের ফোনে থেকে নেওয়া।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


