দার্জিলিঙে মহাকাল মন্দির দর্শনের প্রথম পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বেশ কয়েক মাস ধরেই ফোনের গ্যালারিতে দার্জিলিংয়ের প্রচুর ছবি জমে রয়েছে ।দার্জিলিংয়ের কোন পোস্ট সেই রকম ভাবে আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়নি। মাঝেমাঝে হয়তো দু একটা পোস্ট শেয়ার করেছি। কিন্তু মাঝেমধ্যে এখানে ওখানে যাওয়ার পোস্টগুলো শেয়ার করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই দার্জিলিংয়ের পোস্ট সমস্ত রয়ে গেছে। সেগুলোই একটু একটু করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। আসলে পাহাড় ছিল আমার স্বপ্নে। সেই স্বপ্ন খুব সহজেই পূর্ণ হয়েছে। তাই এখনো ভাবলেই মনে হয় ছুটে চলে যাই আবারো পাহাড়ের কাছে। সে যেন এক স্বপ্নের মত। গত বছরেও আমি আমার স্টুডেন্টকে বইতে একটা গদ্যে দার্জিলিং সম্পর্কে অনেক কিছু পড়াছিলাম ।তখনও সেখানে যাবার কথা ভাবতেই পারিনি। এখনো ভাবলে ভীষণ অবাক লাগে। আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব দার্জিলিং এর মহাকাল মন্দির দর্শনের কিছুটা সুন্দর মুহূর্তের কথা।
আমি ছোট থেকেই মহাদেবের ভক্ত। যেখানেই মহাদেবের সন্ধান পায় সেখানেই তাকে দর্শন করার জন্য একবার হলেও ছুটে চলে যায়। দার্জিলিঙে যাবার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু মহাদেবের মন্দির আমাদের ঘোরানোর মধ্যে থাকলেও সেখানে গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়নি। মহাদেবের মন্দির অনেক উঁচুতে ।সেখানে গাড়ি গিয়ে পৌঁছাবে না। তাই সেখানে আমাদের নিজেদের একাই যেতে হয়েছিল। সকলের মুখে মহাকালের মন্দির এর কথা শুনে ফোনের গুগলে সার্চ করেছিলাম। সেই দেখে দেখেই আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমাদের হোটেল থেকে অনেকটাই দূরে। যত দূরে রাস্তায় যাবো ততই তো আরো উঁচুতে উঠতে হবে। আমরা যেদিন বাড়ি ফিরেছি তার আগের দিন গিয়েছিলাম। প্রথমেই ঠিক করে নিয়েছিলাম অন্য কোথাও বেড়াতে যাবার আগে আমরা চারজন মিলে গিয়ে মহাদেবের মন্দির দর্শন করে আসব। কিন্তু কাকু অত উঁচুতে উঠতে পারবে না বলে কাকু যায়নি। তাই আমি, কাকিমা আর ভাই তিনজন মিলে সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠেই বেরিয়ে পড়েছিলাম।
এদিকে মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য যাব স্নান করে যাওয়া উচিত। কিন্তু প্রচণ্ড ঠাণ্ডা জল তাই আর স্নান করতে পারিনি। এদিকে সকাল বেলায় ঠান্ডার মধ্যেই হাঁটতে শুরু করেছিলাম। প্রথমে যেতে বেশ ভালোই লাগছিল। কিন্তু ওই যে সকালবেলায় অত উঁচুতে ওঠা ভীষণ কষ্টকর ব্যাপার। খানিকটা উঁচুতে উঠে আবারো সমতল জায়গায় খুব ভালোভাবে যাচ্ছিলাম। যখনই মহাকাল মন্দিরের মধ্যে ঢুকেছিলাম তখন আরো উঁচুতে উঠতে হচ্ছিল। অন্যান্য জায়গায় উঠতে কষ্ট হলেও মহাদেবের মন্দিরে উঠতে যেন মনে আরো জোর পেয়ে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে পুজো দেবো বলে কিছু পুজোর জিনিস কিনে নিয়েছিলাম। ওখানে ঐরকম জিনিস পাওয়া যায় আমাদের তো জানা ছিল না। প্রথমবার তাই ওরা যা ধরিয়ে দিয়েছিল তাই পয়সা দিয়ে কিনে নিয়েছিলাম। আমরা পুজো দেবো বলে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যায়নি।
ওগুলো কিনে নেওয়ার পর আর উঁচুতে উঠতে হবে তবেই পাব মহাদেবের দর্শন। শেষমেষ যখন উপরে উঠলাম তখন ভীষণ সুন্দর লাগছিল। চারিদিকটা ঘুরে অপূর্ব লাগছিল। শুধু যে মহাদেবের মন্দির ছিল এমনটাই নয় ।আরো বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দির রয়েছে। তবে এইরকম মহাকালের মন্দির আমাদের কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার সময় অনেক জায়গায় পুজোর প্যান্ডেল করা হয়। চোখের সামনে দেখে এ যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি শিহরণ জাগছিল।সত্যি সত্যি পুজোর থিম দেখা আর সরাসরি মহাদেবের মন্দির ভীষণ ভালো লাগছিল। যখন মন্দিরের ভিতরে পৌঁছেছিলাম তখন দেখি প্রচন্ড ভিড় কারণ ওখানকার স্থানীয় মানুষজন সকলেই পুজো দিতে ব্যস্ত। আমরাও পুজো দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। যাইহোক বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও পরের মুহূর্তটা অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আগামীকাল আবারও নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।



Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
Thank you 🙏