দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়ে রাতের দৃশ্য অনুভব
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
গত কয়েক দিন ধরে আপনাদের মাঝে দার্জিলিংয়ের ঘুরতে যাওয়া সম্পর্কে কিছু পোস্ট শেয়ার করছি। তবে পোস্টের মাধ্যমে যে কোন কিছু শেয়ার করা আর সামনে থেকে চোখে দেখা একেবারেই অন্যরকম। এর আগের পোস্টেই বলেছিলাম আমাদের মত মধ্যবিত্তদের দার্জিলিং এ ঘুরতে যাওয়া নিয়ে একটা স্বপ্ন থাকে। কারণ সকলেরই স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক দিক থেকে সফল হয়ে ওঠে না। আবার অনেকে আর্থিক দিক থেকে হয়ে উঠলেও সঙ্গ দোষে যাওয়া হয় না স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। স্বপ্ন যখন সত্যি হয় তখন নিজেকে অনেকটা স্বপ্নের মত মনে হয়। পাখিরা যেভাবে এক জায়গায় সহজেই চলে যায়। আমরা তো আর পারি না এক জায়গায় উড়ে যেতে । ঠিক তেমনি আমরাও নিজেদের স্বপ্ন যখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে পূরণ করি তখন নিজেদেরও অনেকটা ভাগ্যবতী মনে হয়।
দার্জিলিং এ যাওয়া আমাদের হঠাৎ করে ঠিক হয়েছিল। সে কথাও আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব দার্জিলিং এর রাতের দৃশ্য অনুভব করার কিছু মুহূর্ত। দিনের বেলায় যেকোনো শহর কিংবা গ্রাম যেমন লাগে। রাতের বেলায় ঠিক অন্যরকম লাগে। আমাদের শহরে সারাদিন গাড়ি ঘোড়ার শব্দ মানুষের কলরব সমস্ত কিছু পেরিয়ে যখন রাত্রি হয় তখন চারিদিকে নিস্তব্ধ শান্ত পরিবেশ মনে হয়। আবার যখন গ্রামে থাকি তখন রাতের বেলাতে চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সন্ধ্যা হলেই শেয়ালের ডাক সমস্ত কিছু নিয়েই একটা নিস্তব্ধ পরিবেশ মনে হয়। তবে দার্জিলিং শহর একেবারেই অন্যরকম।
এই প্রথমবার গিয়েছিলাম পাহাড়ি এলাকাতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে। তবে এটা ছিল আমার বেড়ানোর স্বপ্ন। দার্জিলিং-এ দিনের বেলাতেও যে খুব একটা যানবাহন চলাচলের শব্দ কিংবা নানান রকম জিনিসের শব্দ পাওয়া যায় এমনটা নয় ।রাস্তা দিয়ে যখন গাড়িগুলো যাতায়াত করে তখন কোন ধরনের শব্দ থাকে না ।মানুষগুলো শান্ত পরিবেশে বসবাস করে। সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল। প্রথম দিন যখন দার্জিলিঙে পৌঁছেছিলাম তখনই রাস্তাগুলো নিস্তব্ধ একেবারে অন্যরকম মনে হচ্ছিল। আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়েছিলাম ঘুরতে তাই আমরা তো একটু চেঁচামেচি হইচই করতেই ভালোবাসি ।কারণ ওখানকার মানুষরা একেবারেই চুপচাপ।
যাইহোক আমি প্রত্যেকদিন রাতের বেলাতে যখন হোটেল থেকে পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট বাড়িগুলো দেখতাম মনে হতো যেন দূর আকাশে তারা গুলো যেমন মিটমিট করে আমাদের আলো দিচ্ছে। ঠিক তেমনি পাহাড়ের গায়ে বাড়িগুলো তারার মত দূর থেকে মনে হচ্ছে জ্বলজ্বল করছে। মনে হচ্ছিল এক ঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্র রাতের আকাশে আলো দিচ্ছে। কি যে অপূর্ব লাগছিল।এই সৌন্দর্য বলে বোঝানো যাবে না। এগুলো সবকিছুই আমার ধারণার বাইরে ছিল। তবে আমরা দার্জিলিঙে বেড়াতে যাওয়ার আগে বেশ কিছুদিন ধরেই শুনছিলাম বৃষ্টি হবে। তাই ভেবেছিলাম রাতের বেলায় যদি বৃষ্টি হয় তাহলে তো খুব ভালো লাগবে। এদিকে প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে অনুভব করতে পারব।
কিন্তু না আমরা যে কয়েকদিন ছিলাম একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। তাই রাতের বেলাতেও যে খুব কুয়াশা ভরা তেমনটা একেবারেই ছিল না ।তাই রাতের বেলাতে পাহাড়ের গায়ে বাড়িগুলো দূর থেকে খুব সুন্দর লাগছিল। শুধু দিনের বেলাতে ভালো লেগেছে এমনটাই নয় ।রাতের বেলাতেও দার্জিলিং আমাদের ভীষণ সুন্দর লেগেছিল ।সেই অনুভূতি কিছুটা অংশ আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।


