বাবা বুড়োরাজের মন্দিরে কাটানো মুহূর্ত

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20230814145927.jpg

আগের পোস্টের আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম বাবা বুড়োরাজের মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কিছু মুহূর্ত। আজকে পরের কিছু মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। সেদিন সকলে মিলে খুব ঠেলাঠেলি করে পুজো দেওয়ার পর ওখানেই এক জায়গায় সকলে মিলে বসে ছিলাম। এরপর সকলে এক গ্লাস করে শরবত খেয়ে নিয়েছিলাম। পাশের বাড়ির কাকিমা, বাড়ি থেকে সমস্ত কিছু বন্দোবস্ত করে নিয়ে গিয়েছিল। সকলে পুজো দেওয়ার পর কিছু ফল ,শাবু, মিষ্টি খাবার জন্য সমস্ত কিছুই বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমাদের মধ্যে যাদের তাড়াতাড়ি পুজো দেওয়া হয়ে গিয়েছিল সকলেই খেয়ে নিয়েছিলাম। এরপর চলে গিয়েছিলাম পাশেই একটি পুকুর রয়েছে সেখানে। অনেকে ওই পুকুরে স্নান করে পূজা দিচ্ছিল । আমরা বেশিরভাগ লোকজন বাড়ি থেকে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্রে গিয়েছিলাম।আমাদের পাশের বাড়ির একটা পিসির মানসিক ছিল। তাই উনি পুকুরে স্নান করে পুকুর থেকে মন্দির পর্যন্ত দন্ডী কাটবে বাড়িতে থেকে এটাই শুনে গিয়েছিলাম।

IMG20230814162343.jpg

যখন পুকুর ধারে গিয়েছিলাম পুকুরের জলটা পুরো শ্যাওলার মত কাঁদা কাঁদা হয়ে রয়েছে। সেই জলেই প্রত্যেকে স্নান করে পুজো দিচ্ছিল । আসলে ভক্তি আসে মন থেকে।পিসি মন্দির পর্যন্ত দন্ডী কাটতে কাটতে গেল। আমরাও তার পিছন পিছন মন্দির অব্দি পৌঁছেছিলাম। এরপর মন্দির ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল ।মানে দুপুর বারোটার পর নাকি মন্দির ফাঁকা হয়ে যায়। আগে যদি জানতাম তাহলে অত হুড়োহুড়ি করে পুজো দিতেই যেতাম না। যাই হোক তখন ফাঁকা ফাঁকা ঢুকেই বাবা মহাদেবের লিঙ্গ দর্শন করতে পেরেছিলাম। আসলে মহাদেবের লিঙ্গটা অনেকটাই ভিতরে ।আমরা যখন ভিতরে ঢুকেছিলাম ঠাকুরমশাই সমস্ত ফুল ,বেলপাতা সরিয়ে দিয়েছিল। তাই দেখতে আরো সুবিধা হয়েছিল।

মহাদেবের ওই জায়গাটুকু চারপাশে লোহার নেট দিয়ে ঘেরা রয়েছে। যাতে মানুষজন সহজে ঢুকে যেতে না পারে। ভিতরে শুধু ঠাকুর মশাই থাকে।বাইরে থেকেই যে যার মত ফুল ,গঙ্গা জল,ফল দেয় আর নিজের মনস্কামনা স্বয়ং মহাদেবকে জানাই। মন্দিরটি আশ্চর্য বিষয় হল এখনো পর্যন্ত মন্দিরের ওপরে চালাটা খড়ের ।এখনো পাকা করা হয়নি। কারণ ওখানকার মন্দিরটি পাকা করা যাবে না। ওপরের চালাটা খড়ের কিন্তু মন্দিরের চার দেওয়াল পাকাপোক্ত।এদিকে আশেপাশে কিন্তু অনেক পাকাপোক্ত মানুষের বসার জন্য আশ্রয় করা হয়েছে। আসলে যে মন্দিরের যে নিয়ম সেটাই চলে আসছে। এত ঝড় ঝাপটা বৃষ্টির জলের সময়ও কিন্তু খড় গুলো নষ্ট হয় না। ঝড়ের দাপটে কখনো খড়ের চাল উড়ে উড়ে চলে যায় না ।এটাই হল ভগবানের সৃষ্টি।

প্রত্যেক সোমবার দিন ওখানে মেলা বসে, এলাকাটা বিরাট জায়গায় জুড়ে। আমরা গিয়ে চারিদিকে মেলায় ঘুরে দেখেছিলাম ।অনেকে অনেকের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করে ছিল। আমরা সকলে বেশ অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম। ওখানে গ্রীষ্মকালে রোদ্দুর চারিদিকে রোদে খাঁ খাঁ করছিল। তবুও প্রচুর গাছ রয়েছে। সেই গাছের নিচেই আমরা যে যার মত বসে আশ্রয় নিয়ে ছিলাম। আমি এই প্রথমবার ওখানে পুজো দিতে গিয়েছিলাম। যাইহোক প্রথমবার গিয়ে খুব কাছে থেকে সবকিছু দেখে ভীষণ ভালো লেগেছিল। এরপর আবারো রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে ।আমি যাওয়ার সময় যেহেতু মোটরসাইকেলে গিয়েছিলাম ।তাই ফেরার সময় মোটরসাইকেলে করে রওনা দিয়েছিলাম ।বাড়ি ফিরতে প্রায় দু ঘন্টা মতন সময় লেগেছিল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমি কাকা দুজনে মিলে চা খেয়েছিলাম। ওখানকার চা নাকি ভীষণ ভালো তাই। আসলে ওখান দিয়ে যাতায়াতের পথে কাকুরা ওইখানেই দাঁড়িয়ে সময় কাটিয়ে চা খেয়ে আবার রওনা দেয়।


আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟

Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.31
JST 0.062
BTC 66762.42
ETH 2055.34
USDT 1.00
SBD 0.50