মা হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না বলে দুপুর বেলায় আমাদের বাড়িতে এসে হাজির

in Incredible India16 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোষ্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260424163247.jpg

দেখতে দেখতে বৈশাখ মাসে বেশ কিছুদিন কেটে গেল ।তবে বৈশাখ মাসে কাঠফাটা গরম পড়ছে। গরমের তীব্রতাটা ও খুব বেশি বেশ কয়েকদিন ধরেই। বৃষ্টির কোন দেখায় মিলছে না। গতকালকে সকালবেলায় শাশুড়ি মা বাড়ি ফিরেছেন ।তাই গতকালকে দুপুরবেলায় সমস্ত রান্নাবান্না আমি করেছিলাম ।দুপুরবেলায় হঠাৎই রান্নার শেষের মুখে তখন দেখছি বাড়ির কলিং বেলটা বাজছে। আমি যেহেতু রান্না করছিলাম শাশুড়ি মা টিভি দেখতে ব্যস্ত এদিকে শ্বশুরমশাই ছুটছে দরজা খোলার জন্য। আমিও রান্না ঘর থেকে মনে মনে ভাবছিলাম এত ভর দুপুরে কে আর আসবে। হয়তো আশেপাশের কেউ কলিং বেল টা বাজাচ্ছে। শ্বশুর মশাই যথারীতি দরজাটা খুলে দিয়েছিলেন । এরপর দেখছি আমার মা হাসতে হাসতে সোজা রান্নাঘরে চলে এসেছে। আমি তো দেখে একেবারেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ গত দুদিন ধরে মায়ের সাথে একেবারে কোনরকম কথা হয়নি। এদিকে হঠাৎ করে মা বোনকে নিয়ে আমার বাড়িতে হাজির।অবাক হওয়ার মতো কথা।

IMG20260424154527.jpg

আসলে বোনের সাথে বেশ কয়েকদিন ধরেই একটু মনোমালিন্য হয়েছিল। এদিকে বোনের বিয়ের তারিখ ও এগিয়ে আসছে। তাই আর মা বোন দুজনে বাড়িতে থাকতে না পেরে সরাসরি আমার বাড়িতে চলে এসেছিল। যাই হোক আমিও ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। কাছের মানুষদের হঠাৎ করেই এইভাবে নিজের বাড়িতে আসা সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে। এর আগে কোনদিন কখনোই মা এভাবে আমাদের বাড়িতে আসেনি। যাইহোক দুপুরের রান্না কমপ্লিট করে তাড়াতাড়ি মা বোনকে বাড়ির বানানো লস্যি বানিয়ে দিয়েছিলাম ।সকলেই তৃপ্তি করে খেয়েছিল। কারণ বাইরে প্রচন্ড রোদ গরম। তাই বাইরে থেকে এসে আগে ঠান্ডা কিছু খেতে মনে হয়। যাইহোক এরপরে শুরু হল সকলের নানান রকমের গল্প। কারণ বিয়ে বাড়িতে অনেক দায়িত্ব থাকে। সেগুলো পালন তো করতেই হবে।

IMG20260424151755.jpg

আমি তো বাড়ির বড়ো মেয়ে ।তাই আমার দায়িত্ব অনেক। এরপর সকলে ঘরে শুয়ে বসে গল্প করে কাটিয়েছিলাম। বেশ খানিকক্ষণ গল্প করার পর আবারও খেয়ে নিয়েছিলাম দুপুরের খাবার। কারণ গল্পের কোন শেষ নেই। আবার ফোনে তো ২৪ ঘন্টা বিভিন্ন রকমের কথাবার্তা চলতেই থাকে। আর বেশি দিন বাকি নেই বোনের বিয়ে। মা-বোনের বিয়ের নিমন্তন্ন আরো কিছু টুকটাক কাজকর্ম ছিল সেগুলো করার জন্য হঠাৎ করেই চলে এসেছিল। এদিকে আমার বাড়িতে মা প্রথমে এসে উঠেছিল ।দিদা জানতো না। প্রথমে আমার বাড়ি আসলে দিদা ভীষণ রাগ করেন ।কারণ দিদা চাই না ওনার মেয়ে আগে নিজের মেয়ের বাড়িতে উঠুক ।প্রথমে মাকে দেখে তারপরে মেয়ের বাড়ি আসলে দিদা ভীষণ খুশি হয়।

গতকালকে দুপুরে পর থেকে মাকে কাছে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছিল ।বিয়ের পর প্রত্যেকটা মেয়েরাই তার মাকে কাছে পেতে চায় ।আসলে মেয়েরা বিয়ের আগে নিজের মাকে একটু ও গুরুত্ব দেয় না। আসলে সংসার করতে করতে মায়ের মর্ম বোঝা যায়। মা কি জিনিস সেটা আমরা মনেপ্রাণে বুঝতে পারি। আসলে আমরা আঘাত না পেলে আঘাতে মর্ম বুঝি না। বিয়ের আগে মায়েরা অনেক শাসন বকাবকি করে বলে ভীষণ রাগ হয়। কিন্তু সেই রাগ অভিমান সমস্ত কিছুই বুঝি‌ কিন্তু আমরা দেরিতে বুঝতে পারি। কিন্তু যে সময়ে মায়ের কাছে চায় সেই সময় হয়তো মাকে কাছে পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবুও মাঝে মাঝে মাকে কাছে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগে। আসলে আমি তো আর একা নয় ।আরো তিনটে বোন আছে সকলকেই সমানভাবে সময় দিতে হয়। মায়ের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।


আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

Curated by : wilmer1988

 7 hours ago 

Thank you 🙏