ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে সন্ধ্যায় ঈশার বায়না মেটাতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা

in Incredible India9 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20260430_140859.jpg

ভোটের দিন গাড়ি করে বাড়ি ফেরার পথেই আমাকে বারবার ঈশা ফোন করছিল। কারণ তার বায়না সারাদিন ঘরের ভেতর থাকার পর সন্ধ্যা বেলায় নাকি ওনাকে বেরোতে হবে। তাই আমাকে তাড়াতাড়ি চলে আসতে বলছিল। কিন্তু আমার ইচ্ছামতো তো আর গাড়ি আসবে না ।গাড়ি গাড়ির গতিতেই ছুটবে। গ্রামের বাড়ি থেকে সমস্ত জিনিসপত্র এনে বাড়িতে নামিয়ে রাখার পর বরকে খেতে দিয়েছিলাম। কারণ শাশুড়ি মায়ের হাতে রান্না খাবে বলে অনেক আগে থেকেই বায়না করছিল। আমাকে বলছিল গাড়িতে যেতে যেতে খাব।এদিকে শ্বশুর মশাই কেউ খেতে দিয়েছিলাম। শাশুড়ি মা সন্ধ্যা দিতে শুরু করল ।আমি চলে গিয়েছিলাম ঈশার সাথে দেখা করতে। আমাকে দেখে তো বলল চল আমরা দুজনে বাইরে কোথাও থেকে খেয়ে আসি। ওর বায়না মানে বাইরে খাওয়া দাওয়া। ওর মা বাবা দুজনেই বকাবকি শুরু করেছিল। ভোটের দিন বাইরে বেড়ানো ঠিক নয়।

IMG20260429193557.jpg

কিন্তু আমরা যখন ফিরছিলাম তখন সমস্ত দোকান খুলে গিয়েছিল। রাস্তাতেও মানুষ বেরিয়ে পড়েছিল। অনেক বোঝানোর পর ওর মা বাবা কে রাজি করানো হল।ওর বাবা বলেছিল বাড়ির কাছে কোথাও থেকে দুজনে মিলে গিয়ে ফুচকা খেয়ে আসার জন্য। কিন্তু ওর অন্য কোথাও যাওয়ার প্ল্যান ছিল।এই বলে ও রেডি হয়ে নিল আর আমি তো রেডি ছিলাম। এদিকে আবার ঈশান বায়না করলো আমাদের সাথে যাবে। আমরা না করতে না পেরে তিনজনে বেরিয়ে পড়েছিলাম ফুচকা খাওয়ার জন্য। তখনও কিন্তু আকাশে মেঘ। ফুচকা খেতে গিয়ে প্রথমে বলেছিলাম মোমো খাব। তাই সকলে এক প্লেট করে মোমো নিয়েছিলাম ।পাশেই ছিল ফাঁকা মাঠ ।মাঠে বসে নিরালায় খাব বলে বসেছিলাম। এদিকে উঠল তীব্র গতিতে ঝড় ।সে যে কি ধুলো আমরা ধুলোয় পুরো ঢেকে গিয়েছিলাম।

IMG_20260430_140844.jpg

ওখান থেকে বাড়ি অনেকটাই দূর ।ওখানে দাঁড়াবো কি বাড়ি আসবো ছুটে? বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ঝড় উঠে সাথে সাথেই দু এক ফোঁটা বৃষ্টি পরতে শুরু করেছিল ।আমি আর ঈশা বললাম চলো মোমোর প্লেট হাতে নিয়ে দে ছুট ।যেমনি বলা তেমনি কাজ। কিন্তু বৃষ্টির সাথে কি পারা যায়। আমরা অর্ধেক রাস্তা না আস্তে আস্তেই শুরু হল বৃষ্টি ।অর্ধেক ভিজেও গিয়েছিলাম। কিন্তু এই গুলোই হল আমাদের স্মৃতি, ভিজতে ভিজতে মোমো নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম
বৃষ্টি যেন আরো জোরে আসছিল। কোথাও দাঁড়াবার জায়গা নেই ।দুটো মেয়ে রাস্তায় ছুট ছিলাম, ভয় ও লাগছিল। কিন্তু কিছু করার নেই যাইহোক তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছে আমি আমার বাড়িতে ভিজে জামা কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছিলাম । ঈশা বাড়িতে গিয়ে মায়ের বকুনি শুনছিল। ওর মা বলছিল বড়দের কথা এই জন্যই শুনতে হয়।

আমাদের ইচ্ছে ছিল মোমো খাওয়ার পর ফুচকা খাব। তারপরে আইসক্রিম খাবো। কিন্তু বৃষ্টির জন্য আমরা বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। তাই ঈশার এক বন্ধুকে বলা হয়েছিল তুমি ওখান থেকে সকলের জন্য আইসক্রিম কিনে আনো আর ঈশানকে নিয়ে বাইকে করে বাড়ি ফেরো। ওরাও ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরেছিল। এদিকে আমি ফ্রেশ হয়ে গিয়েছিলাম আবারো আইসক্রিম খাওয়ার জন্য। বৃষ্টি মাথায় ছাতা মাথায় ওদের বাড়ি গিয়ে সকলে মিলে জমিয়ে আইসক্রিম খেয়েছিলাম। এরপর জমিয়ে আড্ডা, বৃষ্টির দিনে এই সবগুলো করতে ভীষণ ভালো লাগে। এরপর যেন আরো জোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সাথে মেঘ ডাকা ,মেঘের চমকানি ,গর্জন দেখে ভীষণ ভয় লাগছিল। বৃষ্টির মধ্যে বেশ খানিকক্ষণ সময় ওদের বাড়িতেই আমি কাটিয়ে দিয়েছিলাম।

সেদিন আবার বৃষ্টির জন্য বেশ খানিকক্ষণ কারেন্ট ছিল না ।তাই অন্ধকারে জানলার ধারে বৃষ্টি উপভোগ করতে দারুন লাগছিল। সারাদিন জার্নি করার পর এইরকম শান্ত মনোরম পরিবেশ সকলের সাথে কাটাতে খুবই ভালো লেগেছিল। সেদিনকার গোটা দিনটা এইভাবে কেটে গিয়েছিল। ছবিগুলো ঈশার ফোন থেকে নেওয়া।


আজ এইখানেই শেষ করলাম, আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

Curated By : @ memamun


 9 days ago 

Thank you 🙏