বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে সাজানোর কিছু মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
জীবনের বিশেষ দিনকে আরো সুন্দর করে তুলতে আমার মতো হয়তো সকলেরই ভালো লাগে।। তবে চারপাশের মানুষজনের সহযোগিতা করলে সেগুলো আরো বেশি মধুর হয়ে ওঠে। এ বছরে আমার ছয় বছরের বিবাহ বার্ষিকী ছিল। প্রত্যেক বছরেই ছোটখাটো করে সকলে মিলে ভীষণ আনন্দ করা হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি মায়ের ইচ্ছে ছিল পাঁচ বছরের বিবাহ বার্ষিকী খুব ধুমধাম সহকারে পালন করবে। কিন্তু সেটা কোন কারণবশত হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এ বছরে প্রথম থেকেই ছোটখাটো প্ল্যান ছিল অ্যানিভার্সারি সেলিব্রেশন করবার জন্য। এছাড়াও আমাদের পাশের বাড়ির একটা ভাই রয়েছে সে আর ঈশা দুজন মিলে আমাদের আরো উৎসাহিত করেছিল।
সকলের কথা মেনেই নিজেদেরকে ও একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য সেদিনকে অ্যানিভার্সারি সমস্ত অ্যারেঞ্জ করেছিলাম ।কিন্তু প্রথম থেকে সমস্ত সহযোগিতা ঈশা আর পাশের বাড়ির ওই ভাই দুজন মিলেই করেছিল। তবে জীবনসঙ্গিনী যদি ঠিক থাকে তাহলে জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করতে আরো ভালো লাগে। বিয়ের পর থেকেই বরাবরই বিবাহ বার্ষিকী করার জন্য আমাকে আমার বর সহযোগিতা করে। তাই সেদিন সকলের মতামত নিয়ে একটা দিন ঠিক করা হয়েছিল সেদিন হয়েছিল আমাদের অ্যানিভার্সারি পালন ।কারণ যে তারিখে আমার বিয়ে হয়েছিল সেই তারিখে আমাদের অশৌচ চলছিল। তাই সেদিনকে আর কোন কিছুই করা হয়ে ওঠেনি।
গত ২৪শে ডিসেম্বর ছিল আমাদের বিবাহ বার্ষিকী সেলিব্রেশন এর মুহূর্ত। আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব অ্যানিভার্সারি ডেকোরেশন করার সুন্দর মুহূর্ত। আসলে বিবাহ বার্ষিকী এত ভালোভাবে পালন করব সেটা প্রথম থেকে প্ল্যান ছিল না ।সবকিছুই হয়েছে ওদের জন্য ।ওরা নিজে থেকে সমস্ত আয়োজন করেছিল। দুজন মিলে সকাল বেলাতেই বেরিয়ে পড়েছিল ডেকোরেশন করবার জন্য সমস্ত জিনিসপত্র আনবার জন্য। আসলে কি কি আনতে হবে আমার মাথাতেও অতটা খেয়াল ছিল না। দেখি দুজনে বেরিয়ে সমস্ত কিছু কেনাকাটা করে দুপুরের মধ্যে চলে এসেছিল। আমি তো দেখে অবাক হয়ে ছিলাম।এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে শুরু করে দিয়েছিল সাজানোর জন্য।
এছাড়া বাড়িতে আর যারা যারা ছিল সকলকে নিয়ে বসেছিল ডেকোরেশন সাজানোর জন্য। ওরা নিজেদের মতো ছোট্ট করে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছিল। সেটা যেমনই হোক না কেন নিজে থেকে সকলের মাথায় এসেছিল ।তাই সেটা আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। আসলে এই জিনিসটা প্রথম থেকে একেবারে আমার মাথাতে ছিল না, আমি ভেবেছিলাম একটু অন্যরকম ভাবে সাজাবো। কিন্তু ওরা নিজেদের মতো করে সাজাতে চেয়েছিল ।তাই আমি আর বারণ করিনি। থার্মোকল, বেলুন, অভ্র, বিভিন্ন রকম আরো যাবতীয় জিনিস ওরাই জোগাড় করেছিল। ওদের সাজাতে দেখে ভীষণ ভালো লাগছিল।
সেদিন ছোট থেকে বড় সকলেই হাতে হাতে কাজ শুরু করে দিয়েছিল ।আমার থেকে আমার মনে হচ্ছিল ওদেরই যেন বেশি উৎসাহ আনন্দ হচ্ছিল ।আসলে আমরা এইভাবে সকলের সাথে মিলেমিশে থাকতে আনন্দ করতে খুব ভালোবাসি। তবে সেদিনকে সাজানোর পর ছোট্টর উপরে ডেকোরেশন টা সত্যিই খুব সুন্দর হয়েছিল। আসলে টাকা দিয়ে হয়তো আরো সুন্দর করানো যেত। কিন্তু ওদের মাথা থেকে যেটা বেরিয়েছে সেটা ওরা নিজে থেকে করেছিল আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছিল। ওদের উৎসাহ নিয়ে এই ডেকোরেশন এর সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম। পরের মুহূর্তটুকু পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



Thank you 🙏