ভোটের দিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
মায়ের আদর খেয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম নিজেদের গন্তব্যে ফিরব বলে, যাবার সময় বোন সাথে বোন ছিল তাই গল্পে গল্পে রাস্তাটা কেটে গিয়েছিল। কিন্তু আসার সময় আমি একা ফিরছিলাম। বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির distance 15 থেকে কুড়ি মিনিটের রাস্তা ।তবুও নিজের একটু বোর লাগছিল। আর মনে মনে একটা জিনিসই ভাবছিলাম আর কটা দিন পর বোনটা চলে যাবে। তারপরে বাপের বাড়ি আসলেই মা ছাড়া আর কেউ থাকবে না ।সবকিছুই ফাঁকা ফাঁকা, মাকে একা রাখাটাও ঠিক হবে না ।এই ভাবতে ভাবতেই পৌঁছে গিয়েছিলাম শ্বশুরবাড়িতে। তবে ভোটের সময় রাস্তাঘাট খাঁ খাঁ করছিল। আমি যখন ফিরছিলাম তখনো ভোট শেষ হয়নি। ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি ইচ্ছামত ছুটে চলছিল।
এদিকে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে দেখি শশুর ,শাশুড়ি, বর কেউ নেই। উনারাও উনাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে গল্প করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। আমি তো কাউকেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এদিকে ঠাকুরমা শাশুড়ি বসেছিল। উনি আবার আমার সাথে খানিকক্ষণ গল্প জুড়ে দিয়েছিল ।আসলে বয়স্ক মানুষ গল্প করতে ভীষণ পছন্দ করেন। মানুষ পায় না বলে গল্প করতে পারেন না। সে তো আমাকে পেয়ে আষাঢ়ে গল্প জুড়ে ছিল ।কবেকার কোন কথা। সব জিজ্ঞেস করছিল। বোনের কোথায় বিয়ে হবে ।বোনের বর কি করে। সমস্ত কিছু উনি আমাকে জিজ্ঞেস করছিল। আসলে উনি আমার বোনদের প্রত্যেককে ভালবাসে। বেশ কিছুদিন আমার বোনেদের সাথে আমাদের বাড়িতে কাটিয়েছিলেন।
এদিকে আবার ছোট কাকু, ঠাকুমা আমাদের বাড়িতেই জিনিস দেবে বলে প্রচুর জিনিস গুছিয়ে ফেলেছিল ।কোথায় পেঁয়াজ, রসুন ,কাঁঠাল, মোচা, কাঁচকলা, আম, ময়দা আরো প্রচুর জিনিস। মনে হচ্ছিল আমাদেরই হয়তো গাড়িতে বসার জায়গা হবে না। আমরা গাড়ি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গেলে আমাদের সাথে এইরকম টাই হয়। গ্রামের বাড়ির জিনিস আনতেও ভীষণ মজা লাগে। নিজেদের জমির জিনিস খেতে কার না ভালো লাগে ।আনার অভাবে আমাদের খাওয়া হয় না। বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে আবারো রওনা দিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগরের উদ্দেশ্যে ।কারণ ভোটের দিন রাস্তাঘাটে কোথায় ঝামেলা হয় তাই ড্রাইভার বারবার ভয় পাচ্ছিল। শশুর মশাইয়ের আরো খানিকক্ষণ থাকার ইচ্ছে ছিল। কারণ উনি মাকে কাছে পেয়ে আর কাউকে চান না।
কিন্তু বাড়ি যে ফিরতেই হবে। এরপর বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। আকাশে ঘন কালো মেঘ হালকা ঝড় উঠেছিল ।তার মধ্যে আমরা ফিরছিলাম বাড়িতে। এই বুঝি বৃষ্টি নামল। এই ভাবতে ভাবতেই বাড়ি ফেরা ।ড্রাইভার ও রীতিমতো খুব জোরে গাড়ি চালিয়ে ছুটছিল। তবে মেঘ করলে আকাশটা দারুন লাগছিল। তাতে আবার উঠেছিল হালকা হাওয়া এইরকম মনোরম পরিবেশে কোথাও যেতে আসতে ভালোই লাগে। যাইহোক এভাবেই আমরা খুব শীঘ্রই বাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম। রাস্তা ফাঁকা তাই আসতে কোনরকম অসুবিধা হয়নি। প্রায় সন্ধ্যা সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল বাড়ি ফিরতে। বৃষ্টির কোন নাম গন্ধই ছিল না। ভোটের দিনটা এই ভাবেই কেটে গিয়েছিল।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।



