বছরের প্রথম দিনে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব বছরের প্রথম দিন ঘোরাঘুরি করার সুন্দর মুহূর্ত। মাঝে মাঝেই কাছে পিঠে ঘুরতে বরাবরই ভীষণ পছন্দ করি। তবে বছরের প্রথম দিন কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কোন প্ল্যান আমার কোনদিনই থাকেনা। বছরের প্রথম দিন আমি সর্বদাই বাড়িতে নিজের প্রিয়জনদের সাথে কাটাতে পছন্দ করি। প্রত্যেক বছর ওই দিনটিতে আমি আমার দিদার সাথে বছরের প্রথম দিনটি সুন্দরভাবে কাটানোর চেষ্টা করি। আমি বরাবরই হাসি ঠাট্টা, মজা করতে বেশি পছন্দ করি।কিন্তু এ বছরে মামাশ্বশুরের মেয়ে আমাদের বাড়িতে ছিল। তাই শ্বশুর বাড়িতেই কাটিয়েছিলাম নতুন বছরের দিনটি। সারাদিন বাড়িতে টুকটাক রান্নাবান্না করেছিলাম। বছরের প্রথম দিন একটু ভালো ভালো পদ রান্না করতে হয়। সেদিন বর হঠাৎ করেই বিকেল বেলায় বলল চলো আজকে সন্ধ্যা বেলায় একটু ঘুরে আসি। মামাশ্বশুরের মেয়েকে ঘোরানোর জন্যই বেরিয়ে পড়েছিলাম। বরের মুখ থেকে ঘোরার কথা শুনে আর মিস করতে চাইনি। কারণ এই সুযোগ খুব কম আসে।
তাই সেদিন তিনজন মিলে সন্ধ্যার পর রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের বাড়ির কাছাকাছি কদমতলা পার্ক ।এই পার্কের কথা আমার পোস্টে আপনারা বহুবার শুনেছেন। তাই আর কিছু বর্ণনা দিলাম না। যাই হোক সরাসরি পার্কে গিয়ে দেখি রীতিমতো পার্ক বন্ধ । ওখানকার মানুষ জনকে জিজ্ঞাসা করলাম ওরা বললো বেশ কিছুদিন ধরেই নাকি পার্ক টি বন্ধ রাখা হচ্ছে। বছরের প্রথম দিন পার্ক বন্ধ থেকে একটু মন খারাপ হয়েছিল। প্রথম থেকেই মামার মেয়ের ওই পার্কে যাওয়ার ভীষণ ইচ্ছে ছিল। যাই হোক বছরের প্রথম দিন সেই সেটা আর পূর্ণ হল না। এরপর হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগরের হাইস্ট্রিস এর দিকে। এখানে আসার পথেই পড়ে কৃষ্ণনগরে সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি। সেখান থেকে মায়ের দর্শন করে নিয়েছিলাম। বছরের প্রথম দিন মায়ের দর্শন পেয়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল। এরপর দেখি কৃষ্ণনগরে কিছুটা রাস্তা বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল ক্রিসমাস উপলক্ষে।
আলোয় সুসজ্জিত দেখে ভীষণ ভালো লাগছিল। ওখানে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিয়েছিলাম। এরপর কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছিলাম না ।তাই সরাসরি চলে গিয়েছিলাম কাছেই একটি ক্যাফেতে। ওই ক্যাফে তে নাকি আমার বর মাঝেমধ্যেই যাই চা খেতে। মামার মেয়ের ভীষণ ইচ্ছে ছিল সে মাটির ভারে করে চা খাওয়ার ।তাই ওই ক্যাফে তে গিয়ে সকলে মিলে চা, কফি দুটোই খেয়েছিলাম। এছাড়া ও আমরা তো যেখানেই যাই আগে ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।তাই দুজনে ইচ্ছেমতো কয়েকটি ছবি তুলে নিয়েছিলাম ।আমার বর ছবি তুলতে একেবারেই পছন্দ করে না। তাই আমি ওকে আর জোর করি না। ওই ক্যাফেতে তেমন কোন পছন্দ মতো খাবারের অপশন ছিল না। খাবারগুলো আমার পছন্দ হচ্ছিল না।
ওই ক্যাফেটি একটি মহিলা একাই চালান ।তাই উনি তো উনার সামর্থ্য মত কিছু চাইনিজ খাবার রেখেছেন। বেশি কিছু আইটেম থাকে না।তাই আমরা আমাদের পছন্দমত দুটো খাবার অর্ডার করেছিলাম। একটি হলো পছন্দের চিকেন মোমো আর চিকেন বেবী কর্ণ। খাবারগুলো খুব সুন্দর করেছিল। তিনজনে মিলে আনন্দ করে খেয়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবারও হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। তবে বছরের প্রথম দিন নিজের প্রিয়জনের সাথে সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল। মাঝে মধ্যে হুটহাট করে এইরকম বেরিয়ে পড়তে খুবই ভালো লাগে। তবে সঙ্গী পায় না বলে বের হতে পারি না। বছরের প্রথম দিনের সুন্দর মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।





Thank you 🙏