জীবনের বিশেষ দিনটি পরিবারের সকলের সাথে কাটানোর আনন্দ
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব বিবাহ বার্ষিকীর দিন পরিবারের সাথে কাটানো আনন্দের কিছু সুন্দর মুহূর্ত। প্রত্যেকটি মেয়েদের বিয়ে নিয়ে প্রচুর স্বপ্ন থাকে। আমারও ছিল। কিন্তু পূরণ হয়নি এমনটা নয়। আসলে আমার বিয়ের সময় এত সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সমস্ত রিচুয়াল সম্পর্কে ঞ্জান ছিল না। মানে আগে থেকে সমস্ত কিছু জানতাম না। কোন টা কীভাবে করবো কেমন সাজব কিছুই বুঝতাম না। বাড়ির বড়োরা যেভাবে বলেছেন সেই ভাবেই সব নিয়ম কানুন হয়েছে। বলতে গেলে সেভাবে শখ পূরণ করতে পারিনি।প্রত্যেকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সমস্ত কিছু অ্যারেঞ্জ কিংবা বাড়াবাড়ি করত না। তাই আমিও তখন তেমন কিছুই জানতাম না। বিয়ের পর থেকে হঠাৎ করেই মনে হতো। আমার বিয়েতেও হয়তো অনেক কিছু রিচুয়াল্স আমরা সেভাবে পালন করিনি। তাই প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল একবার খুব ধুম করে বিবাহ বার্ষিকী পালন করবার। আমার মত আমার শাশুড়ি মায়ের ও ভীষণ ইচ্ছে ছিল ।একমাত্র ছেলের বউ তার জন্য একবার হলেও খুব ধুমধাম করে বিবাহ বার্ষিকী সকলে মিলে সেলিব্রেশন করবো। পরিবারের সকলের সাথে যে কোন জিনিসই পালন করার তার অন্যরকম আনন্দ লাগে। বিবাহ বার্ষিকী পালনের পর কেটে গেছে কয়েক মাস।
আমার শ্বশুরমশাইরা চার ভাই। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা জায়গায় থাকে। আমাদের বাড়িতে কিংবা অন্যদের বাড়িতে যেকোনো অনুষ্ঠান মানেই সকলে একত্রিত হয়ে আনন্দ করতে আমরা ভীষণ পছন্দ করি। আমাদের একত্রিত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র অনুষ্ঠান গুলো করা হয়। প্রত্যেক বছর কেউ হয়তো তাদের জন্মদিন পালন করে কিংবা তাদের বিবাহ বার্ষিকী পালন করে। এভাবে আমরা প্রত্যেক বছরে একত্রিত হই। এছাড়া সেরকমভাবে সারা বছর কারোর বাড়িতে যাওয়া আসা হয় না। আমার শ্বশুরবাড়ি প্রত্যেকটা মানুষ আমাকে ভীষণ ভালোবাসে।কাকা শ্বশুর থেকে জেঠু শ্বশুর সকলেই আমাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে। নিজের মেয়েকে যেমন মা বলে ডাকে ঠিক তেমনি আমাকেও মা ছাড়া কথা বলে না।
যাইহোক বিবাহ বার্ষিকীতে মেহেন্দি থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই অ্যারেঞ্জ করা হয়েছিল। আমার ঠাকুমা শাশুড়ির বয়স এ বছরেই ১০০ বছর পূর্ণ হল। উনি কোথাও যান না। কিন্তু আমাদের বাড়িতে আমার বিবাহ বার্ষিকী দিল ঠিক এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। একটা হাস্যকর বিষয় হল আমার ঠাকুরমা শাশুড়ি পার্লারে কেউ যদি সাজে ভীষণ পছন্দ করেন ।কারণ আমার বৌভাতের সময় ঠাকুমা শাশুড়ি একটা পার্লারের মেয়েকে ঠিক করেছিল সে একদমই ভালো সাজায়নি। কারোরই পছন্দ হয়নি। সেই থেকে ঠাকুরমা শাশুড়ির একটা আফসোস রয়েছে। যেখানেই পার্লারে সাজতে যায় না কেনো ঠাকুমা শাশুড়ি আগে থেকেই বলে দেয় আমার নাত বউকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিও। এরকম সৌভাগ্য হয়তো খুব কম মেয়েদের দেখা যায় ।
এছাড়াও আমার বড় জ্যাঠা শ্বশুর উনি বেশিরভাগ সময়ই বম্বেতে থাকেন। কিন্তু এই বছর আমি আমাদের মধ্যে ওনাকে, বড়মাকে পেয়েছিলাম আমাদের অনুষ্ঠানে। উনিও যোগ দিয়েছিলেন আমরা সকলেই ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। পরিবারের সকলকে নিয়ে ভীষণ আনন্দ করে বেশ কিছু ঘন্টা কাটিয়েছিলাম। জেঠু, কাকু, কাকিমা ,জেঠিমা আরো অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব আমার নিজের মা-বোন, দিদা, মামা, মা সকলের সাথে দিনটা খুব ভালোভাবে উপভোগ করেছিলাম। এরপর যে যার মত রাতের খাবার খেয়ে আবারো রওনা দিয়েছিল বাড়ির উদ্দেশ্যে। কারণ তাদের আরো অনেকটা পথ যেতে হবে।
জীবনের এই সব বিশেষ দিনগুলোতে কাছের মানুষদের পেয়ে সত্যিই ভীষণ আনন্দিত হয়। এসব দিনগুলো সারা জীবন থাকবে না। কারণ সকলে আর প্রত্যেক বছরে এই দিনটিতে হয়তো আসতেও পারবেনা। এই গুলোই জীবনে স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। পরিবারের সকলের সাথে আমাদের জীবনের বিশেষ দিনটি কাটাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত হয়ে ছিলাম।এবছরের বিবাহ বার্ষিকীর দিনে কাটানো পরিবারের সাথে আনন্দের সুন্দর মুহূর্ত কিছুটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।






