আরো একটা দিন দিদাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বেশ কিছুদিন আগে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম দিদাকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়া কথা। সেদিন ডক্টরের কাছে গিয়ে বেশ কিছু টেস্ট করতে বলা হয়েছিল। ডক্টর দেখিয়ে এসেছি বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। ওষুধ খেয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছে। তাই ভাবলাম এবার টেস্টগুলো তাড়াতাড়ি করিয়ে নেওয়ার দরকার। কেমন কি আছে না আছে সমস্ত কিছুই ধরা পড়ে যাবে। রিপোর্টগুলো নিয়ে আবার ডাক্তারের কাছে ছুটতে হবে। সেই জন্যই সমস্ত টেস্ট করার তাড়া হুড়ো। গতকালকে সমস্ত ব্লাড টেস্ট করা হয়ে গেছে। ব্লাড বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে টেস্ট করে আবার রিপোর্ট বাড়িতেই দিয়ে যায়। এটাতে কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু আরেকটি টেস্ট করার জন্য দিয়েছিল সেটি হল বুকের ছবি করবার জন্য।
দিদার অনেক দিন থেকেই হার্টের সমস্যা রয়েছে ।কিন্তু গত দুবছর আগে ভীষণ বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছিল। তাই আবার অপারেশন করা হয়েছিল। তারপর থেকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় ।ওষুধ খেয়ে কখনো ভালো থাকতেন। আবার কখনো খারাপ। এই ভাবেই কেটে গেছে প্রায় দু বছর। আমি সেদিনকে দিদার প্রচন্ড শরীর খারাপ দেখে মামাদের বলেছিলাম বাইরে কোন একটা ভালো ডাক্তার দেখানোর জন্য। আমার কথা শুনে মামারা না করেনি। সাথে সাথে দিদাকে নিয়ে গিয়েছিলাম একজন ভালো হার্ড স্পেশালিস্ট এর কাছে। উনার কাছে দেখিয়ে গত ১৫ দিন ধরে একেবারে সুস্থ স্বাভাবিক আছেন। আর তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আজকে দুপুরের কড়া রোদেই বেরিয়ে পড়েছিলাম আরেকটি টেস্ট করবার জন্য।
এর জন্য আগে থেকে নাম লেখাতে হয়। আবারও আগে থেকে টাকাও জমা দিয়ে রাখতে হয়। দিদাকে সমস্ত ডক্টর দেখাতে ছোট মামা সাথে করে নিয়ে যায়। আর দুই মামার কাজের চাপ থাকে বলে ওরা অতটা সময় দিতে পারে না। তাই আমাকে বলেছিল আজকে দিদার সাথে একটু যাওয়ার জন্য। তাই আমি আর দিদা বেরিয়ে পড়েছিলাম ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য। দুপুর দুটোতে আমাদের টাইম দিয়েছিল। ওখানে নাম এন্ট্রি করার পর প্রায় ঘন্টা খানেক আমাদের বসে থাকতে হয়েছিল। যে টাইমে ডাক্তার আসবে বলেছিল সেই টাইমে ডক্টর এসে পৌঁছায়নি ।আমাদের মত বহু রুগীরা বসে রয়েছে ডাক্তারের অপেক্ষায়।
অনেক দূরে থেকে সকলেই এসেছে ডক্টর দেখানোর জন্য। সকলেই বসে বিরক্তি বোধ করছিল।তবে তো কয়েকজনই ডাক্তারের ভিজিট শুনে মাথায় হাত। মধ্যবিত্তদের ডাক্তারের ভিজিট দিয়ে ডাক্তার দেখানো খুবই দুষ্কর ব্যাপার। আসলে যে কোন সমস্যায় পড়লেই আমরা ডাক্তারের কাছে ছুটি। আবার অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে।ডাক্তারের ভিজিট দুই হাজার টাকা। প্রায় তিন ঘন্টা বসে থাকার পর আমাদের ছবি তোলা হয়ে গিয়েছিল ।ছবি দেখে ডাক্তার বাবু বললেন তেমন কোনো সমস্যা নেই ।ভয়ের কোনো কারণ নেই।যাই হোক আমি অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছিলাম।কাছের মানুষ কে সুস্থ থাকতে দেখে ভীষণ ভালো লাগে।এরপর আবারো দুজন মিলে রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।এভাবেই আজকের দিনটা কেটে গিয়েছিল।
আজ এইখানেই শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏