পাড়াতে শীতলা ষষ্ঠীর পুজো

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20260313_175304.jpg

বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। সারা বছর কিছু না কিছু আমাদের পালন করতেই হয়। শুধুমাত্র বাঙালিরাই জানে যে সমস্ত কিছুতে রীতিনীতি পালন করা থেকে শুরু করে আনন্দ করা এমনকি জমিয়ে খাওয়া দাওয়া সমস্ত কিছুতেই তারা পারদর্শী ।বাংলা মাসের প্রায় বছরের শেষ প্রান্তে আমরা এখন দাঁড়িয়ে ।তবে এই বসন্তকাল সময়টা আমার একেবারেই অপছন্দ। চারিদিকে বসন্তের হাওয়া বইছে। এই বসন্তকালেই মানুষের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। গত বুধবার দিন ছিল শীতলা ষষ্ঠী। মানে শীতলা মায়ের পুজো, প্রাচীনকালে আগেকার মানুষের মধ্যে এই বসন্তকালে বিভিন্ন মহামারী ও রোগ দেখা যেত। তখন চিকিৎসা হীন অবস্থাতে বহু মানুষ মারা যেত।বিশেষ করে বসন্তকালীন হাম, জ্বর, সর্দি ,কাশি আরো নানান অসুখ-বিসুখ সাধারণ মানুষের মধ্যে লেগেই থাকতো। তখনকার দিনে মানুষেরা এই মহামারী থেকে বাঁচতেই মা শীতলা রূপে শীতলা ষষ্ঠীর পুজো করে ।এই মূর্তিটি হল ঘোড়ার উপরে স্বয়ং মা শীতলা বিরাজ করেন।এক হাতে থাকে একগুচ্ছ ধান আর এক হাতে থাকে ঝাঁটা।

IMG_20260313_175240.jpg

প্রত্যেকটি দেবদেবীর মূর্তি তৈরি হয়েছে কোন না কোন বিশেষ কারণে এর পিছনে রয়েছে অনেক কারণ। কিছু কারণ হয়তো আমরা জানি। আবার কিছু কারণ আমাদের অজানা।তবে মা শীতলা ষষ্ঠীর মূর্তিটি কেন তৈরি হয়েছে ।সেটা আপনাদের মাঝে যে টুকু জানি শেয়ার করলাম ।আসলে এই অসুখ গুলোকে বিদায় করার জন্য হয়তো মা শীতলা এক হাতে ঝাঁটা তুলে নিয়েছিলেন। প্রত্যেক বছর ফাল্গুন মাসের শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে মা শীতলার আরাধনা করা হয়। অনেক জায়গায় শীতলা পুজো ও ধুমধাম সহকারে হয়। এমনকি এই পুজো উপলক্ষে মেলা বসে। তবে আমাদের এখানে মেলা না হলেও পুজোটা প্রত্যেক বছরই ও হয়ে আসছে ।এই দিন সারা পাড়ার মানুষজন একত্রিত হয়ে এই পুজো করে। একটা বাড়ির পাশে ছোট্ট একটা টালির ঘর করে মূর্তিটি রাখা থাকে, সারা বছর ওনার বাড়ির লোকজনই মূর্তিটিকে পূজা করে থাকে।

IMG-20260311-WA0005.jpg

আর পুজোর সময় তে পুরনো মূর্তিটি কোন গাছ তলায় বসিয়ে রেখে এসে আবার নতুন মূর্তি নিয়ে এসে পুজো করা হয়। পুজোর দিন মন্দিরের চারপাশে ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়।পুজোর দিন বাড়ির সকলে নিরামিষ খায়। আর যারা এই পুজোতে উপোস করেন। তারা সকলেই ঠান্ডা খাবার খায়। মানে শীতলা ষষ্ঠীর দিন নাকি প্রত্যেককেই ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেতে হয়। অনেকে আবার আগের দিন সমস্ত রান্নাবান্না করে রাখে ।পরের দিন সমস্ত ঠান্ডা খাবার খেতে হয়। এই পুজো সন্তানদের কিংবা স্বামীর মঙ্গল কামনার জন্য পূজা করা হয়। কিছু বছর আগে আমার বড় মামার মেয়ে যখন ছোট ছিল। তার ও বসন্তকালীন কিছু রোগ তার সারা শরীরে হয়েছিল। এই বসন্তকালীন এই জিনিসগুলো যখন হয় সারা গায়ে বের হয় ।তখন মানুষ প্রচন্ড কষ্ট পায়। আমারো এক সময় হয়েছিল।

IMG-20260311-WA0006.jpg

বোন যেহেতু খুবই ছোট ছিল ।বোন ভিতরের কষ্ট মুখে বলতে পারত না। এদিকে কষ্টে সারাদিন শুধু কান্নাকাটি করত। মেয়ের কষ্ট হলে বাবার তো কষ্ট হবে ।কান্নাকাটি করতে দেখে একদিন দিদা বললো সন্ধ্যা বেলায় গিয়ে শীতলা মায়ের কাছে কিছু মানত করে আর ওখানকার মাটি নিয়ে এসে সারা গায়ে বুলিয়ে দেওয়ার জন্য। যথারীতি মামা দিদার কথা শুনে সন্ধ্যা বেলায় গিয়ে মায়ের কাছ থেকে মাটি নিয়ে এসে বোনের সারা গায়ে বুলিয়ে দিয়েছিল। বোনের খানিকক্ষণ পর সত্যিই কান্না থেমে গিয়েছিল। সত্যি যেন এক আশ্চর্য বিষয়। তাই আমরা ছোট থেকেই এই মায়ের পূজো করে আসছি। আর মাকে আমরা সব সময় মানি। সমস্ত কিছু মানা না মানা নিজের উপর নির্ভর করে, নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে সমস্ত কিছু করা উচিত।


আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...
Thank you for your valuable efforts! Keep posting high-quality content for a chance to receive more support from our curation team
1000040721.png
Curated By @crismenia
 15 minutes ago 

Thank you 🙏

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.30
JST 0.054
BTC 70872.28
ETH 2078.95
USDT 1.00
SBD 0.51