দার্জিলিং এ ঘুম স্টেশনে ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ঘুম স্টেশনে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত। দার্জিলিং এ সমস্ত জায়গায় ঘোরার মধ্যে একটা অন্যতম জায়গা হলো ঘুম স্টেশন। সমস্ত পর্যটকরা দার্জিলিঙে ঘুরতে গিয়ে ঘুম স্টেশনে ঘুরতে যাবেই। দার্জিলিঙের সবথেকে উঁচু স্টেশন হল ঘুম স্টেশন। দার্জিলিংয়ের শেষ স্টেশন হল ঘুম স্টেশন। কয়েকদিন আগে আমি আমার বাড়িতে একটা বাচ্চাকে দার্জিলিং এর একটা সুন্দর গল্প পড়াতে গিয়ে ঘুম স্টেশনের অনেক গল্পই পড়েছিলাম। আমরা দার্জিলিঙে ঘুম স্টেশন ছাড়িয়ে আরো ৭-৮ কিলোমিটার ভিতরে ছিলাম। তবে আমাদের হোটেলের সামনে থেকেও কয়েকটা টয় ট্রেন যাতায়াত করছিল ।ওখানেও একটা ছোট্ট স্টেশন রয়েছে । সমস্ত যাত্রীদের টয় ট্রেনে করে ঘোরানোর জন্য।
দার্জিলিঙে ঢোকার পরই যখন চোখের সামনে টয় ট্রেন দেখতে পেয়েছিলাম তখনই ঘুম স্টেশনের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। আমরা যতবারই বিভিন্ন জায়গাতে ঘোরাঘুরি করতে গিয়েছিলাম ঠিক ততবারই ঘুম স্টেশনের পাশ দিয়ে বারবার যাতায়াত করেছিলাম ।কোন সময় হয়তো কুয়াশায় ঢাকা থাকতো তখন ঘুম স্টেশন চোখে পড়েনি। যেহেতু বারবার যাতায়াতের পথে ঘুম স্টেশন চোখে পড়েছিল তাই আমাদের সেখানে নতুন করে আর আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়নি। তবে আমরা নিজেরা মনে মনে ভেবেছিলাম দার্জিলিং এর অন্যতম স্থান ঘুম স্টেশনে যদি না যাওয়া হয় তাহলে তো দার্জিলিং ঘোরা স্বার্থক হবে না।
আমরা যে তিন দিন দার্জিলিঙে ছিলাম প্রায় প্রত্যেক দিনই মলে কেনাকাটা করতে যেতাম। কারণ আমাদের হোটেল থেকে মল সামান্য দূরে। দ্বিতীয় দিন মল থেকে আসার সময় আমি আর ভাই দুজনেই মনে মনে ভাবছিলাম যে আমাদের ঘুম স্টেশনে যাওয়া হয়নি। সামনে একটা স্টেশন দেখে তখনই ওখানকার লোকজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওখান থেকে ঘুম স্টেশন কত দূর। ওখানকার স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করে আমি আর ভাই চলে গিয়েছিলাম ঘুম স্টেশনে ঘুরতে। কাউকে কিছু বলে যাওয়া হয়নি।বললে হয়তো রাতের বেলায় দুজনকে একা ছাড়ত না।তখন প্রায় অনেকটাই রাত। কিন্তু ওখানে তো বেশিরভাগ পর্যটকরা ঘুরতে যাই ।তাই খুব একটা অসুবিধা হয় না। আমি আর ভাই দুজনে একটা গাড়ি ভাড়া করে চলে গিয়েছিলাম ক্ষনিকের জন্য ঘুম স্টেশনে ঘুরতে।
সে দিন রাতের বেলায় দুজনে মিলে ঘুম স্টেশনে ঘোরাঘুরি করে নিয়েছিলাম ।এছাড়া টয় ট্রেনে করেও ঘুম স্টেশনে যাওয়া যায় ।কিন্তু ট্রয় ট্রেন করে যেতে প্রায় অনেকটা সময় লেগে যাবে। এদিকে সন্ধ্যা ৮ টার পর টয় ট্রেন চলাচল করে না। যাই হোক বারবার গাড়ি থেকে দেখা আর সামনাসামনি গিয়ে ঘোরাঘুরি করা অন্যরকম। তবে দুজনে একা একা গিয়েছিলাম। অচেনা অজানা জায়গায় তাই বেশিক্ষণ সময় কাটানো হয়নি ।এদিকে আবার অনেকটাই রাত্রি হয়ে গিয়েছিল। ওখানে তো কোন কোন সময় মেঘে ঢেকে যাই ।আবার কখনো কোন সময় কুয়াশায় ঢাকা থাকে। তাই দু থেকে তিন মিনিট থেকে আবারও হোটেলের পথে রওনা দিয়েছিলাম। পরের দিন সকালবেলায় আবারো সেই ঘুম স্টেশনের পাশ দিয়েই আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম।
স্টেশনে ঘুরে বেশ অন্যরকম অনুভূতি হয়েছিল। সেদিন দুই ভাই বোন মিলে একা একা ঘুরে বেশ ভালোই লেগেছিল। সেই মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

