নীল ষষ্ঠীর ব্রত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে চৈত্র মাসের ২৯ তারিখ। প্রত্যেক বছর এই একই দিনে নীল ষষ্ঠী ব্রত পালন করা হয়। আর মাত্র একটা দিন পর এই বছরের শেষ। আবারও নতুন বছরে সূচনা ।আজকে নীল ষষ্ঠী ব্রত পালন মায়েরা তাদের সন্তানদের মঙ্গল কামনার জন্য করে থাকেন। পৌরাণিক মত অনুযায়ী কথিত আছে আজকের দিনে নাকি মহাদেব আর নীলাবতীর বিবাহ হয়েছিল। সেই রীতি অনুযায়ী আজকের দিনে প্রত্যেক মহাদেবের ভক্তরা শিবের মাথায় জল ঢালে। এমনকি উপবাস করে মহাদেবের ব্রত রাখে। তবে একেক একেক জায়গায় এক এক রকম কথিত আছে। পৌরাণিক মতে কথিত আছে এক দেশে এক ব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণী ছিল। তারা পুজো অর্চনার প্রতি বেশ ভালোই ভক্তি ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে অহংকার ছিল। যে তারা সমস্ত পূজা অর্চনা করে বলে তাদের কোন দিক থেকে কোন বিপদ ছুঁতে পারবে না।
কিন্তু প্রত্যেকবারই তাদের সন্তান হয় কিন্তু সন্তানগুলো কোন না কোন কারণে মারা যায়। এইভাবে চলতে চলতে তারা দুজনে মিলে কাশি চলে যায়। কাশির গঙ্গায় একদিন দুজনের স্নান করে নদীর ধারে বসে দুজনে কাঁদতে থাকে। তখন মা ষষ্ঠী রূপ ধারণ করে তাদের জিজ্ঞেস করে যে তারা কি কারনে কাঁদছে। তখন ব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণী দুজনেই তাদের সমস্ত ঘটনা বলে ।যে তারা এত পূজার অর্চনা করে তবুও তাদের যে কয়েকটি সন্তান হয়েছিল সব সন্তানগুলি কোন না কোন কারনে মারা গেছে। তখন মা ষষ্ঠীর বেশে উনি বলেন তোমরা হয়তো পূজা অর্চনা সমস্ত কিছুই করো। কিন্তু মনে কোন অহংকার জন্মেছে । মনে অহংকার রেখে ভগবানকে ডাকলে ভগবান সাড়া দেয় না।
তোরা দুজনেই ভক্তি ভরে পুজো করবি ।মনে কোন পাপ অহংকার রাখবে না। তবেই তো তোদের ডাকে ভগবান সাড়া দেবে। তখন মা ষষ্ঠী তাদের এই নীল ষষ্ঠী ব্রতর কথা বলে। সারা চৈত্র মাসে নিরামিষ খেয়ে সন্ন্যাস পালন করে সংক্রান্তির আগের দিন নীল ষষ্ঠী পালন করার কথা বলেছিলেন। এই বলেই নীল ষষ্ঠী অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন ।এরপর থেকে ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী দুজনেই দেশে ফিরে এই নীল ষষ্ঠী ব্রত পালন করেছিলেন। এরপর থেকেই তাদের যে কয়েকটি সন্তান পৃথিবীতে এসেছিল সকলেই বেঁচে ছিলেন। এরপর থেকেই নাকি নীল ষষ্ঠীর কথা সারাদেশে ছড়িয়ে গিয়েছিল ।এরপর থেকেই সকল মায়েরা তার সন্তানের মঙ্গল কামনায় ও দীর্ঘায়ু কামনার জন্য নীল ষষ্ঠী পালন করে থাকেন।
সমস্ত পূজার কিছু না কিছু কারণ রয়েছে। আজকে সকালবেলাতেই শাশুড়ি মা বাড়িতে পূজা করেছেন ।আমাদের যেহেতু মন্দিরে পুজো দিতে নেই তাই উনি নিরামিষ খেয়েছেন ।এছাড়া সকাল বেলাতে দিদা গিয়েছিল মন্দিরে পুজো দিতে। এ পুজো নাকি সন্তানের মায়েরা দেয়। তাই আমার আর দেওয়া হয়নি। তবে শখ থাকলে সব কিছুই দেওয়া যায় না ।পুজো যেহেতু দিতে নেই তাই আমি আর যাওয়ার জন্য জোর করিনি । সারাদিন মন্দিরে না গেলেও সন্ধ্যা বেলায় দেখছিলাম মন্দির প্রচন্ড ভিড়। সন্ধ্যাবেলাতে খুব ভালোভাবে সন্ধ্যা আরতি হয়। অনেক দর্শক আসে দেখার জন্য। পূজা হয়ে গেলে সকলকেই প্রসাদ দেওয়া হয়। যেহেতু বাড়ির কাছেই মন্দির তাই বাড়িতে বসেই মহাদেবের আরতি শব্দ কানে ভেসে আসে, মনটা যেন শান্ত হয়ে যায়।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


Thank you 🙏