||ঈশ্বরের উপর ভরসা রেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম ||

in Incredible India5 days ago
1000042811.webp

Hello,

Everyone,

যেই দিন যায় সেই দিনই ভালো যায়, এটা যেমন সত্যি তেমনি সামনের দিনগুলো আমাদের জন্য আরো কঠিন আসবে এটাও সত্যি।জীবনটা হলো একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র ,এখানে প্রতিদিনই লড়াই করতে হয় নিজের সাথে নিজেকে ।

আপনার সুসময় অনেক বন্ধু পাবেন কিন্তু আপনার বিপদের সময় কাউকে পাবেন না। যারা আপনার সুসময় বন্ধু হয়ে আসে তারা প্রকৃত বন্ধু নয় ।তারা শুধু বসন্তের কোকিলের মত সুন্দর ঋতু দেখে আসে।

1000042785.jpg1000042781.jpg

শরীরটা অনেক ক্লান্ত ,মনটাও তত ভালো নেই । বাবা-মা দুজনে আমার বাসায় এসেছে তা আপনারা আমার বিগত পোস্টগুলো পড়লেই জানতে পারবেন।বাবা-মা যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন সন্তানদের অনেক দায়িত্ব থাকে ।বাবা-মাকে সুস্থ রাখা ,বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটানো।

আজ আমরা অনেক উদ্যমী ,আমরা চলতে পারি, ফিরতে পারি, অনেক পরিশ্রম করতে পারি কিন্তু এমন একদিন আসবে বয়সের ভারে আমরাও বাবা-মায়ের মত নরম হয়ে যাব ।তখন একমাত্র সঙ্গী হবে আমাদের ওষুধ পত্র। সন্তানদের একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন পাওয়ার জন্য তৃষ্ণার্ত থাকবো।

1000042772.webp1000042767.webp

আমি চেষ্টা করছি আমার বাবা মাকে সঠিক সেবা দেয়ার ।জানিনা আমি তা কতটা পারবো ? বাবা এখন অনেকটা সুস্থ ।তাই এবার বাবা ও মায়ের একত্রে চোখের অপারেশনের কথা চিনতে পারলাম । আমি একা তাদের দুজনকে সামলাতে পারবো না ভেবে তারা প্রথমে রাজি ছিল না ।

এবার শুধু ডাক্তার দেখাবে এবং পরবর্তীতে এসে অপারেশন করাবে।আমরা সকলেই জানি, একটি চোখে কৃত্রিম লেন্স বসানো হলে যতটা দ্রুত সম্ভব অপর চোখে কৃত্রিম লেন্স বসানো ভালো।

বাবা অনেকটা নরম হয়ে গেছেন তাই তার পক্ষে বারবার বাসে ভ্রমণ করা সম্ভব না তাই আমি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম । বাবা মাকে একত্রে চোখের অপারেশন করাব। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা এবং সকলের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললাম ।

সঠিকভাবে তার সমস্ত কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হল ।যেহেতু বাবা-মায়ের দুজনের ডায়াবেটিস আছে তাই অপারেশন করার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি যেটা লক্ষ্য রাখতে হয় সেটা হল রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা।আমি সেই ভাবে এক সপ্তাহ ধরে বাবা মায়ের শরীরের দিকে লক্ষ্য রাখছিলাম এবং প্রতিনিয়তই তাদের রক্ত পরীক্ষা করছিলাম এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিয়ে ২৭ তারিখ বাবা-মায়ের অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হলো।

1000042798.jpg1000042807.webp

শনিবার ছিল সেদিন, আর্মি বাবুর ছুটি থাকবে। আমার একার পক্ষে তাদের দুজনকে সামলানো অনেক কঠিন হয়ে যাবে ।আমার ছোট বোনকে আমার বাসায় আসার জন্য বলা হয়েছে। মায়ের দুই মেয়ে জামাইকে নিয়ে আমি সাহস করেই ফেললাম ।

ছুটির দিন ঢাকা শহরে সকলে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠে । আমাদের আজ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে কারণ সকাল সাতটা ত্রিশ মিনিটে আমাদের হাসপাতালে থাকতে হবে ।

আমি সকাল পাঁচটার সময় ঘুম থেকে উঠে স্নান করে ঠাকুর পূজো দিয়ে ,গীতা পাঠ করে নিলাম । বাপি ও মায়ের জন্য ভাত রান্না করেছি । দুজনার অপারেশন হবে এবং বাসায় আসতে দেরি হতে পারে । ওদের অল্প কিছু খাবার খেয়ে নিলে ভালো হবে ।

বাপি -মাকে ঘুম থেকে তোলার পরে রক্ত পরীক্ষা করে নিলাম ।খালি পেটে বাপির ডায়াবেটিস ছিল ৬.৭ কিন্তু মায়ের ডায়াবেটিস আসলো ১২.১ ।আমি খুব চিন্তায় পড়েছিলাম কারণ সমস্ত কিছু প্রস্তুতি হয়ে গেছে , এখন যদি মায়ের সুগার বেশি থাকে তাহলে তো অপারেশন করা সম্ভব হবে না।

সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে বাসা থেকে বেরিয়ে পরি। উবার কল করা হলো এবং সকাল ৮:১৫ মিনিটে হাসপাতালে আসি। দায়িত্বরত সেবিকা বাবা-মা কে কিছু পরীক্ষা করল। তাদের দুজনার রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল। বাবাকে নিয়ে কোন চিন্তা ছিল না।

মাকে নিয়ে চিন্তা ছিল , সেবিকা দিদিভাই কে বলায় তিনি বললেন ,খাবার দুই ঘন্টা পরে আবার রক্ত পরীক্ষা করা হবে তখন যদি ১২ - ১৩ এর নিচে থাকে তাহলে অপারেশন করা হবে ,নয়তো আজকে মায়ের অপারেশন করা সম্ভব হবে না।

দুজনকে দুই চোখে ড্রপ দেওয়া হলো এবং কিছু ঔষধ খেতে দিলেন ‌।তাদের বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত আসনে নিয়ে গেলাম।যেহেতু এর পূর্বে (২০২৫ সালে) বাবা ও মায়ের বাম চোখে কৃত্রিম লেন্স বসানো হলো ,এবার দুজনার ডান চোখে কৃত্রিম লেন্স বসানো হবে। যেহেতু প্রথম বারে US এর লেন্স বসানো হয়েছিল তাই এবারও সেই একই কম্পানির লেন্স বসানো হবে।

বর্তমান সময়ে সবকিছু মূল্যবৃত্তি পাওয়ায় US লেন্সের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হাসপাতালের কেবিন ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে । সবকিছু নিয়ে দুজনের জন্য আমার মোট টাকার প্রয়োজন হলো বাংলাদেশী টাকার ১,১৫,৬০০ টাকা। যা Steem এর মূল্য হলো ১৯,৬৫২ Steem( 1BDT =0.17Steem ) ।

1000042819.webp1000042795.jpg

আমি শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠাতে পারবো তো ,এই চিন্তা শুধু ,সৃষ্টিকর্তা সব সময় আমার সাথে থেকো । বাবা-মায়ের ভালোবাসা দেখে আজ খুব ভালো লাগছে ।শেষ বয়সে এসে তারা দুজন দুজনার শক্তি। অনেকেই বলল যে একই দিনে বাবা -মায়ের চোখ অপারেশন করাবে , তোমার তো অনেক কষ্ট হবে।

আমার একটু কষ্ট হোক , তারপরেও বাবা-মা সুস্থ থাকুক। অপারেশনের দুদিন পূর্বে কিছু টাকা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করি এসেছি। আজকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে আমরা অপারেশন ‌ কার্যক্রম সম্পন্ন করি।

যখন দুই ঘন্টা পরে মায়ের আবার রক্ত পরীক্ষা করা হলো এবং সেই একই রকম ফলাফল আসলো ১২.১ । তখন ‌ কর্তব্যরত চিকিৎসক বললেন, অপারেশন করা যাবে, কোন সমস্যা হবে না ।এই ভেবে অনেকটাই আশ্বস্ত হলাম ।

দুজনার ডান চোখের উপর স্টিকার লাগানো হলো এবং তাদেরকে অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হলো ।মা-বাবা দুজনকে আমার দেখতে হচ্ছে ,তারা দুজনেই আমাকে খুব ভরসা করে। আমাদের বরিশাল জেলায় চোখের অপারেশন করা যায় কিন্তু মা সেখানে করতে সাহস পাচ্ছে না।

আপনারা সকলে জানেন এই ছোট্ট একটি অপারেশন এবং যত্নে শেষ বয়সে তারা ভালোভাবে দেখতে পারবেন এই সুন্দর পৃথিবী । যদি একটু অবহেলা হয় কিংবা একটু ভুল হয় তাহলে তারা এই সুন্দর পৃথিবী দেখার শক্তিটা হারিয়ে ফেলতে পারে ,তাই সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখে আমরা বাবা ও মাকে এক সাথে চোখের অপারেশন করালাম ।

প্রথমে বাবাকে নিয়ে যাওয়া হল অপারেশন কক্ষে। আমরা বাইরে বসে মনিটরে সমস্ত কিছু দেখতেছি। ডাক্তার সাহেব অনেক দক্ষ এবং অনেক ধার্মিক একজন ব্যক্তি ।আমার মা বাবা তাকে খুব ভরসা করেন।

২০ মিনিট পর অপারেশন শেষে বাবাকে নিয়ে বের হলেন। আমি ও আর্মি বাবু বাবাকে নিয়ে রুমে চলে আসলাম ।ছোট দুলাভাই অপারেশন কক্ষের সামনে বসে রইলেন কারন ভিতরে আমাদের মা আছে ।বাবাকে শুইয়ে দিয়ে কালো চশমা পরিয়ে দিলাম। আর্মি বাবুকে বাবার কাছে বসিয়ে রেখে আমি আবার অপারেশন কক্ষের সামনে চলে আসলাম ।

মাকে কিছুক্ষণ পরে নিয়ে আসলেন ।যখন মায়ের চোখে ‌ ব্যান্ডেজ ছিল তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম ,যে বাবার চোখে কোন ব্যান্ডেজ নেই তবে মায়ের চোখে কেন? সেবিকা মাকে শুইয়ে দিলেন । আর্মি বাবু চিকিৎসকের সাথে কথা বললাম ।তিনি বললেন,মায়ের চোখে হালকা গুলোকমিয়া সমস্যা ছিল। তিনি নিয়মিত চশমা ব্যবহার করত না বিধায় তার একটু হালকা সমস্যা হয়েছিল তাই তাকে এভাবে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হলো ।

তার চোখ নড়াচড়া না করে , এভাবে দুই ঘণ্টা রাখার পরে খুলে দেওয়া হবে । তখন বাবা মাকে নিয়ে আমরা বাসায় চলে আসতে পারবো ।বাবা মাকে শুইয়ে রেখে আমি পাশে বসে ছিলাম।

আমাদের কারো কোন খাবার খাওয়া হয়নি।প্রথমে ওদের দুজনকে নিচে পাঠালাম খাবার খেয়ে আসার জন্য ।ওরা খাবার খেয়ে আসার পরে আমি কেন্টিনে গিয়ে খাবার খেলাম।

আজ আমার ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ছে ,তারা দুজনে মিলে একই সাথে আমাদের তিন ভাই বোনকে বড় করেছেন , আজ তারাই আমাদের সন্তানের মত। আমাদেরও তাদের সেই ভাবে যত্ন করতে হবে ,যেভাবে আমরা সন্তানকে যত্ন করি।

ডাক্তার রাজু স্যার কে আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে প্রণাম জানাই । তিনি খুব যত্ন সহকারে আমার বাবা মায়ের চোখ অপারেশন করিয়েছেন ।শুধু আমার বাবা-মা নয়, অন্যান্য রোগীদেরও তিনি খুব যত্ন করে অপারেশন করিয়ে থাকেন ।তিনি আন্তরিকতার সাথে প্রতিটি রোগীর সাথে কথা বলে থাকেন ।

দুই ঘন্টা পরে মায়ের ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হলো এবং মাকেও কালো চশমা পরানো হলো এবং আজকে সম্পূর্ণ দিনটাই এক ঘন্টা পর পর তাদের চোখে ড্রপ দিতে হবে।

একঘন্টা পরে বাবা একদম সুস্থ , তিনি মায়ের কাছে এসে বসলেন, মায়ের সাথে কথা বললেন ।বাবা-মায়ের এই ভালোবাসাটা অটুট থাকুক ।সবাই ওদের জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন। শেষ বয়স পর্যন্ত এভাবে সুস্থ থাকুক ।

1000042824.webp1000042813.webp

কিছুক্ষণ পরে আমাদের সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হলো। দুদিন পরে সোমবার তাদের নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে হবে । ওদেরকে নিয়ে ব্যস্ততার মাঝে আমার সময় কেটে যাচ্ছে । তার সাথে মেয়ের কলেজ, আর্মি বাবুর অফিস এগুলো তো আছি তাই আমি নিয়মিত পোস্ট করতে পারছি না ।তিন দিন থেকে পোস্ট করার চেষ্টা করছি। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলাম।

সকলের ভালোবাসো, আশীর্বাদ নিয়ে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি । |||

Sort:  
 5 days ago 

Thank you,Ma'am @ninapenda.

Loading...