শৌভিক এর শুভ অন্নপ্রাশন
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
![]() |
|---|
"সন্তান "এই শব্দটি যতটা সহজ ততটা কঠিন এবং বাবা মায়ের কাছে বিশাল। বাবা মায়ের স্বপ্নে থাকে একটি সুস্থ সন্তানের বাবা-মা হবে তারা। এই স্বপ্নটি নিয়ে তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক সাধনা করে একটি সুস্থ সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসতে পারে।
এই যে দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন কিংবা ৩৭ সপ্তাহের অপেক্ষা , সেই দীর্ঘ পথ মায়ের পক্ষে সব সময় সহজ হয় না। অনেক কঠিন তারপরও এর মাঝে অন্যরকম একটি শান্তি থাকে ,অন্যরকম ভালোবাসা থাকে, অন্যরকম মধুরতা থাকে। মা হওয়ার এই পথ চলা অনেক কঠিন আবার অনেক সুখের।
![]() | ![]() |
|---|
যখন একটি সুস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে কান্না করে , সেই কান্না শুনে মা তার সমস্ত কষ্ট ভুলে যায়। মৃত্যুর ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও সিজারিয়ান এর পূর্বে অ্যানেস্থেশিয়া বা চেতনা নাশক ওষুধ মাকে নিয়ে হয় । একটু অসাবধানতার কারণে মাকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে । তারপরও সন্তানের সেই মিষ্টি মুখের হাসিটুকু দেখে মায়ের সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে যায় ।
মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে রাখে এবং বাবা সে সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ২৫ বছর ঘাম জড়িয়ে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। সন্তানকে সুশিক্ষিত করা এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য বাবা মা কঠোর পরিশ্রম করে। যখন সন্তানটি মায়ের গর্ভে থাকে তখন মাকে প্রতিপদে হিসাব করে চলতে হয় ,অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া যাবেনা, অতিরিক্ত কোন কাজ করা যাবে না, অনেক সাবধানতার সাথে তাকে চলতে হয় , বসতে হয় ,উঠতে হয় ,এমনকি সাধারণত জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারে না।
![]() | ![]() |
|---|
প্রথম বাবা-মা হবার সাথে তাদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়, সন্তান লালন-পালনের মধ্য দিয়ে তারা অনেক কিছু শিখে । যে মেয়েরা কখনো অন্য কারো বাচ্চা ধরেনি, বাচ্চা কিভাবে কোলে নিতে হয় তাও জানে না কিন্তু যখন তার সন্তান হয় তখন সেই মেয়েটি আস্তে আস্তে মা হয়ে ওঠে এবং সমস্ত কিছুই সে নিজ হাতে করতে পারে ।
নবজাতক সন্তানকে প্রথম যখন বাবার কোলে তুলে দেওয়া হয় তখন তার যে অনুভূতি তা বলে প্রকাশ করা যায় না । কিভাবে গোসল করাতে হবে ?কোন জিনিসটা শিশুর জন্য উপকারী? তার প্রতিটি বিষয় যত্ন নিতে হয় । আমার সকলেই জানি ,এটি নবজাতক শিশুকে মায়ের প্রথম শালদুধ অনেক উপকারী, যা শিশুর বুদ্ধি বিকাশের সহায়তা করে এবং অনেক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।
আরো জানি, প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য সবথেকে উত্তম খাবার। এমনকি কোন পানির প্রয়োজন হয় না । যখন শিশুর ছয় মাস বয়স হবে তখন থেকে আস্তে আস্তে শিশুকে বাড়তি খাবারের সাথে পরিচয় করাতে হবে । তাকে একটু একটু করে স্বাভাবিক খাবার খাওয়া শিখাতে হবে ,তা নিয়ে বাবা-মায়ের অনেক চিন্তা থাকে ,ভাবনা থাকে, কোন খাবারটা আমার শিশুর জন্য উপকারী ?কোন খাবারটা দিলে শিশু সহজে গ্রহণ করতে পারবে।?
![]() | ![]() |
|---|
শিশুকে প্রথম যখন বাড়তি খাবার দেয়া হয় তখন বিশেষ দিনক্ষণ দেখে শিশুকে ভাত খাওয়ানো হয় । সেই বিশেষ নিয়ম , ছেলে শিশু এবং মেয়ে শিশুর বেলায় একটু ভিন্নতা থাকে । সনাতন ধর্ম রীতিমতে,মেয়ে শিশুর বেলায় বয়স পাঁচ মাস / সাত মাসে প্রথম অন্নপ্রসাদ দেয়া হয় ।ছেলে শিশুর বেলায় জোর মাস অর্থাৎ ৬ মাস অথবা আট মাসে দেয়া হয় ।
একটি শুভ দিন দেখে ছোট্ট সন্তানকে প্রথম অন্য প্রসাদ দিয়ে থাকে । গ্রামের বাড়িতে এই উৎসব অনেক সুন্দর হয়ে থাকে ।অনেক লোকজন থাকে , বাড়িতে অনেক জায়গা থাকে ,তখন দেখা যায় অন্নপ্রাশনের জন্য ছোটখাটো একটি অনুষ্ঠান করা হয়। বাবার সামর্থ্য অনুযায়ী এই দিনটি উদযাপন করে থাকে । অন্নপ্রাশন এই দিনে সন্তানের মামার উপস্থিতি বাঞ্ছনীয় ।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
হলুদ দিয়ে শিশুকে স্নান করানো হয় ।দুপুর বেলা অন্নপ্রসাদের আয়োজন করা হয় ।এখানে আত্মীয় পরিজন সবাই উপস্থিত থাকে। সবাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়। সেই ছোট্ট শিশু কিছু খেতে পারে না , তারপরও অনেক ধরনের খাবার তার সামনে সাজিয়ে দেওয়া হয়। পায়েস মুখে দিয়ে তাকে প্রথম অন্ন খাওয়ানো হয় । নিমন্ত্রিত আত্মীয়-স্বজন আশীর্বাদ সহযোগে সাধ্যমাফিক উপহার সামগ্রী প্রদান করে থাকেন।
যারা এখন শহরে থাকে, তাদের বাসা বাড়িতে ততটা জায়গা না থাকায় এবং সবাই কর্মজীবী হওয়ার জন্য ততটা সময় পাচ্ছেন না তাই এই শুভ দিনটা তারা মন্দিরে গিয়ে পালন করার চেষ্টা করে। মন্দিরে ঠাকুর দাদার হাতে প্রথম অন্ন প্রসাদ দিয়ে থাকে।
দাদু ঠাকুমা কিংবা দাদু দিদার কাছে তখন সন্তানের থেকেও নাতি বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে।এই বিশেষ দিনে তারা সবাই ধুমধাম করে পালন করতে চায় । অন্নপ্রাশন এর প্রসাদের থালায় বিভিন্ন রকমের খাবার সাজিয়ে রাখা হয় তার সাথে অন্য একটি থালায় কলম , একটু মাটি, গীতা,পাঠ্য বই ও টাকা এগুলো রাখা হয়। শিশুকে তিলক দিয়ে খুব সুন্দর ভাবে সাজানো হয়। মন্দিরের ঠাকুর দাদা প্রথম শিশুর মুখে অন্নপ্রসাদ দিয়ে থাকেন, শিশুর মামা এবং এক এক করে আত্মীয়-স্বজন সবাই শিশুকে আশীর্বাদ করেন এবং একটু সামান্য প্রসাদ খাইয়ে দেয়।
শুক্রবার ছুটির দিন হাওয়াতে মন্দিরে অনেকগুলো ছোট শিশুর মুখে অন্নপ্রসাদ দেওয়া হল ।দেখে খুব ভালো লাগলো ,যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সবাই এই ছোট্ট শিশুদেরকে আশীর্বাদ করবেন ।ওরাই আমাদের ভবিষ্যতের কর্ণধার হবে।













Thank you, Ma'am.@aviral123