রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ প্রতিস্থাপন
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
সনাতন ধর্মে ,রাধা-কৃষ্ণ হলেন (ঐশ্বরিক) প্রেমের প্রতীক। আমরা সকলে জানি এবং সকলে মেনে আসছি, ”শ্রীকৃষ্ণ” হলেন স্বয়ং ”ভগবান” এবং রাধারানী হলেন তার প্রিয়তমা, সখা এবং পরমাপ্রকৃতি ।তাদের এই পবিত্র লীলা খেলা যা , ভক্তি ও মিলনের গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে।
আমাদের সকলের স্বপ্ন থাকে গৃহে রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রতিষ্ঠিত করা এবং তার সেবার দাসী হওয়া। রাধা গোবিন্দ তাদের লিলা খেলায় সকল ভক্তদের বুঝিয়েছেন, হিংসা নয়, বন্ধুত্ব , প্রেম, ভালবাসা দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়।
![]() | ![]() |
|---|
রাধা-কৃষ্ণের প্রেম জাগতিক নয়, এটি ভক্তি ও পরমাত্মার প্রতি আত্মার তীব্র আকুলতার প্রতীক। আমাদের এই ব্যস্ততম জীবনে ধর্মীয় রীতিনীতি ততটা হয়তোবা পালন করতে পারি না, তারপরেও চেষ্টা করি, রাধাগোবিন্দের সেবার দাসী হতে।
আমার ধর্মীয় কাজগুলো করতে ভীষণ ভালো লাগে। দিনের সমস্ত সময়টুকু যদি আমি মন্দিরে কাটাতে পারতাম তাহলে আমার খুবই ভালো লাগতো ।আমি বাসায় গোপাল ঠাকুরকে প্রতিষ্ঠা করেছি। রাধাগোবিন্দের বিগ্রহ নিয়ে এসেছি কিন্তু এখনো প্রতিস্থাপন করতে পারিনি ।
![]() | ![]() |
|---|
ঘরের দুটি জিনিস আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। প্রথমটি হলো “ঠাকুর ঘর” এবং দ্বিতীয়টি হল রান্নাঘর ।এই দুটো ঘরই আমার কাছে সব থেকে বেশি প্রিয় ।আমাদের এখানেই বেশি সময় কাটাতে হয়। পরিবারের সবার মঙ্গলকামনার জন্য আমরা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি।
সেই প্রার্থনার স্থান যদি সুন্দর সাজানো পরিপাটি থাকে তাহলে মনটাও ভালো লাগে ।আমরা সবাই যে যার ধর্মের হইনা কেন তাদের সেই প্রার্থনার স্থানটি অবশ্যই পবিত্র এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। আমার ভাসুর ছেলে নতুন বাসায় ওঠার পরে সুন্দর একটি মন্দির তৈরি করেছে এবং সেখানে নতুন রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ প্রতিস্থাপন করবে। সে জন্য এত আয়োজন করেছিল।
আমরা সকলেই জানি, সনাতন ধর্মে নতুন মন্দির প্রতিস্থাপন করা কিংবা বিগ্রহ প্রতিস্থাপন করা একটি পবিত্র হিন্দু আচার, যা সাধারণত শাস্ত্রীয় নিয়ম ও শুদ্ধাচার মেনে করা হয়।যার জন্য বিশেষ দিন ,তিথি শুভক্ষণ দেখে প্রতিস্থাপন করতে হয় ।
![]() | ![]() |
|---|
বাংলাদেশি টাকায় এই নতুন মন্দিরটি তৈরি করতে ৬০ হাজার টাকা লেগেছে এবং ৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের রাধা গোবিন্দ এর বিগ্রহ নিয়ে এসেছে। মন্দির ঘর এবং রাধাগোবিন্দের বিগ্রহ অনেক সুন্দর হয়েছে ।
শ্রীকৃষ্ণ হলেন সুন্দরের পূজারী ।রাধাগোবিন্দের সুন্দর বিগ্রহ দেখে সত্যি চোখ ফেরানো যাচ্ছে না ।বাসায় নতুন অতিথি আসলে যেমন আনন্দ হয় তেমনি আজও খুব আনন্দ হচ্ছে ।
![]() | ![]() |
|---|
যেহেতু নতুন মন্দির এবং নতুন বিগ্রহ প্রতিস্থাপন করা হবে তাই পুরোহিতের দ্বারা প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। তার জন্য অনেক কিছু আয়োজন করা হয়েছে, নাম কীর্তন এবং প্রসাদ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে ।আত্মীয় স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । আমরা সকলে একত্রিত হলাম, যেন উৎসবে পরিণত হলো ।
ছোট ছোট বাচ্চারা যখন ধর্মীয় গান গাইছে তখন অন্যরকম এক শান্তি অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছে মনের চিন্তা, সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে যাচ্ছে।
![]() | ![]() | ![]() |
|---|---|---|
![]() | ![]() | ![]() |
রাধাগোবিন্দের নতুন বিগ্রহ অভিষেক করানোর জন্য বিভিন্ন ফলের রস, ঘি, মধু, গঙ্গা জল, ডাবের জল, কাঁচা হলুদ সহ অনেক কিছু আয়োজন করা হয়েছে। সমস্ত কিছু দিয়ে রাধাগোবিন্দকে অভিষেক করানো হয়েছে। নতুন পোশাক, অলংকারে সজ্জিত করা হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও মাতা রাধারানীকে । যজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাধাগোবিন্দ প্রতিস্থাপনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল ।
পূজা সকলের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সবথেকে মজার বিষয় হল, সমস্ত নিরামিষ আইটেম রান্নার ছিল সবগুলো আমার বড়( ভাসুর) দাদাভাই রান্না করেছেন। তার রান্নার হাত অনেক ভালো। তিনি আমাদের বৌভাত এবং পরিবারের অনুষ্ঠানে তিনি রান্না করেন।
মাঝে মাঝে ভেবে পাই না, যার বড় ভাই এত সুন্দর রান্না করে সেখানে আর্মি বাবু কেন কিছুই করতে পারে না। তারা একই পরিবারের সন্তান হয়ে ।দুজন দুই রকম , কেউ হলেন রাগি কেউ হলো শান্ত ঘরোয়া ।
আজকে প্রসাদের জন্য অনেক কিছু আয়োজন ছিল, সরষে পোস্ত দিয়ে সিম ভাপা ,বেগুনি ,আলু ফুলকপি দিয়ে সয়াবিন তরকারি, মুগডাল, বিভিন্ন রকম সবজি দিয়ে একটি ভাজি ,মিষ্টান্ন ,চাটনি, ফ্রাইড রাইস। এগুলো সব দাদাভাই একা রান্না করেছেন, তবে আমরা তাকে কাজে অনেক সাহায্য করেছিলাম।
সমস্ত সবজি রাতে কেটে রাখা হয়েছিল। খুব সকালে উঠে দাদাভাই রান্না শুরু করে দিয়েছে। বৌমা (দিদির ছেলে বউ) ও আমি ভোগের প্রসাদ রান্না করেছিলাম। সকলে মিলে অনেক সুন্দর একটি দিন কাটালাম।
![]() | ![]() |
|---|
সারা দেশে যেন আজ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মেতে উঠেছে। টিভি/ মোবাইল খুললেই চোখের সামনে ভেসে আসে খুন, মারামারি, ছিনতাই, যুদ্ধ ও হানাহানি। এগুলো দেখতে আর ভালো লাগেনা ,এগুলো শুনতে আর ভালো লাগেনা ।এই সুন্দর পৃথিবীটা কেন এরকম হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে পৃথিবী ধ্বংসের শেষ মুহূর্তে আমরা চলে এসেছি, তাই তো এত হানাহানি ,এত রক্ত ক্ষয়ী যুদ্ধ ।
মানব জনম যেহেতু পেয়েছি আমাদের মৃত্য নিশ্চিত, কিন্তু এভাবে অপমৃত্যু কেন? হে প্রভু , তুমি সৃষ্টি করেছ তুমি ধ্বংস করবে এটাই সত্যি, তবে এভাবে ধ্বংস করো না ।সকলের মাঝে প্রেম, ভালবাসা ,বন্ধুত্ব গড়ে উঠুক। বারুদে ভরা ভারি অস্ত্রগুলো ফুলে ফুলে ভরা থাকুক ।যেগুলো পড়লে পৃথিবী ধ্বংস না , মানুষের জীবন কেড়ে নেবে না ,বরঞ্চ ফুলের সৌরভে সকলকে ভরিয়ে দেবে এবং সকলের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করবে, ভালোবাসা সৃষ্টি করবে, প্রেম সৃষ্টি করবে ।
সেটাই প্রার্থনা করছি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে ।আজ অনেকদিন পর একটি পোস্ট লিখলাম। আশা করি আপনাদের এই পোস্টটি ভালো লেগেছে। পোস্টটি শেষ করার আগে সকলের কাছে আবারো অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা সবাই সবার প্রতি ভালোবাসা, বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলবো। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি ।
🌹শুভরাত্রি🌹


















0.00 SBD,
0.02 STEEM,
0.02 SP
Thank you, Ma'am.