শশুর বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
পিতৃতান্ত্রিক সমাজে একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে তার বাবা-মাকে ছেড়ে শশুর বাড়ি চলে আসতে হয়। স্বামীর ভাই-বোন , বাবা -মা সবাইকে আপন করে নিতে হয়। অনেকের পক্ষে সবাইকে আপন করে নিতে একটু সময় লেগে থাকে ।তবে শশুর বাড়ির লোকজন তাকে যদি ছেলে বৌ না ভেবে মেয়ের মতো ভালোবাসে তবে ছেলে বৌ তাদের সহজে আপন করে নিতে পারে।
ভালো শশুর শাশুড়ি পাওয়া মেয়েদের ভাগ্যের উপর নির্ভর করে । যে পরিবারের শশুর শাশুড়ি ভালো এবং বুদ্ধিমান হয় সেই পরিবারগুলো ভেঙে যায় না। বর্তমান সময়ে যৌথ পরিবারগুলো দেখা যায় না বললেই চলে, সবাই স্বাধীনচেতা , নিজের সংসারকে নিজের খুশি মতো সাজাতে চায়।
আমার বাবাকে দেখেছি, পহেলা বৈশাখ হোক কিংবা পূজা হোক , যেকোনো বিশেষ দিনে তিনি মাকেও যেমন নতুন পোশাক দিয়ে থাকেন তেমন আমার বৌদিকে দিয়ে থাকেন। ওদের পোশাক কেনার জন্য বৌমার কাছে টাকা দিয়ে থাকেন ।বাবা বলেন ,” তোমরা দুজনে গিয়ে মার্কেট করে নিয়ে এসো”।
![]() | ![]() |
|---|
প্রতিটা ছেলে বৌয়ের শ্বশুরের প্রতি ভালোবাসা বা কিছু আবদার করতে পারে।তবে, এটা সব মেয়ের ভাগ্যে থাকে না। আমার শ্বশুর বাড়ির সকলে আমাকে অনেক ভালোবাসে ।খুব অল্প বয়সে এই বাড়ির বৌ হয়ে এসেছিলাম। আমার ছোট দেবর , ছোট ননদ আমার থেকে অনেক বড় ছিল । আমি ছোট হলেও আমার দায়িত্ব ছিল অনেক বড়।
আমার কোন কিছু প্রয়োজন হলে আর্মি বাবু ছাড়া আর কাউকে বলার ছিলনা। শশুরের কাছে কোন কিছু আবদার করার সুযোগ আমি পাইনি। শশুর বাবা কেমন হয় আমি তা জানি না।কারন আর্মি বাবু যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন এবং প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় বাবা মারা গিয়েছিলেন ।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
বাবার স্বপ্ন ছিল, একটি ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিবেন। তার প্রশিক্ষন শেষ হতে মাত্র দু্ই মাস বাকি তখন বাবা এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান । বাবা মারা যাবার ১৫ দিন পরে আর্মি বাবুর কমান্ডারের হাতে টেলিগ্রাম এসে পৌছায়।তখনও তাকে কিছু বলা হয়নি । তাকে ১৫ দিনের ছুটি দিলেন । একটি বক্স হাতে দিয়ে বললেন, এটা তোমার বাবার হাতে দিবে এবং তার আগে খুলতে বারন করা হয়েছিল।
আর্মি বাবু প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনি । মেজ দাদার ছাত্রাবাসে এসে দেখেন দাদা সাদা ধুতি পরা । তিনি মানষিক ভাবে অনেক ভেঙে পরেন।সে্ই কক্ষে বসে বক্সটি খুলে দেখেন একটি ফুলের মালা ও বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি চিঠি দিলেন।আর্মি বাবু কান্নায় ভেঙে পরেন। তিনি আজও বলেন, বাবার শেষে বিদায় সময় তিনি দেখতে পারেনি।
পূর্বে কোন এক পোষ্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম , শশুর বাবার বড় বোনের স্বামী যখন ছোট ছোট দুটো ছেলে সন্তান রেখে মারা যায়। সেই বোন ও ছেলেদের বাবা তার নিজের কাছে নিয়ে আসেন এবং বোনের সন্তানদের বাবা নিজের সন্তানের মতই ভালোবাসতেন। তাদেরকে পড়াশুনা করিয়েছেন এবং সেই ছেলেদের জন্য নিজে পাত্রী দেখে বিয়ে করিয়েছে । বৌমার মুখ দেখেছেন আমার শাশুড়ি মায়ের স্বর্ণের হার দিয়ে ।
বর্তমান সময়ে ভাই-বোনের জন্য এত ভালোবাসা খুব কমই দেখা যায় ।বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকে ততো দিন ভাই বোনের ভালোবাসা থাকে। যখন বাবা-মা না থাকে তখন ভাইবোনের সম্পর্কটা ততটা ভালো থাকে না ।বাবার এরকম গল্প অনেক শুনি দিদিদের কাছ থেকে।
বাবা মেয়ে বৌদেরকে খুবই ভালোবাসতেন । মায়ের কাছে শুনেছি , মেলা থেকে কোন খাবার নিয়ে আসলে প্রথমে বাড়ির মেয়ে বৌদিকে দিতেন ।তিনি বলতেন, ছেলেরা পরে খাবে কারণ ছেলে বিভিন্ন কাজে বাড়ির বাইরে যেতে পারে, বিভিন্ন খাবার খেতে পারে কিন্তু ঘরের মেয়েরা তো আর বাইরে যেতে পারে না, তারা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে পারে না। এই কথাগুলো শুনে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায় ।
![]() | ![]() |
|---|
তিনি বেঁচে থাকলে আমিও এই ভালোবাসার কিছুটা অংশীদার হতে পারতাম। আমি হয়তো নববর্ষে বাবার কাছে আবদার করতে পারতাম ,যেভাবে আমার নিজের বাবার কাছে করি। ৫ই চৈত্র বাবার মৃত্যুবার্ষিকী , আমার গৃহে সল্প পরিসরে কিছু আয়োজন করেছিলাম ।
গতকাল রাতে সমস্ত কিছু গুছিয়ে রেখেছিলাম। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান করে সরাসরি ঠাকুর ঘরে চলে আসি। গোপাল ঠাকুরকে জাগিয়ে ভোগের রান্না শুরু করে দিয়েছি। সাত রকম ভাজি ,ভুনা খিচুড়ি, সয়াবিন ও আলুর তরকারি ,টমেটোর চাটনি ও পায়েস রান্না করি। ফল ,মিষ্টি ও ভোগ সাজিয়ে পুজো করেছি।
ছোট বোন আমাদের বাসায় আসে। ঈদের ছুটি অনেক দিনের হয়। ডিফেন্স এর কর্মকতাগন এই ছুটি উদযাপন করতে পারে না । যেহেতু কিছু কিছু মুসলমান ভাইয়েরা ছুটিতে যান। তখন ননমুসলীদের একটু বেশি ডিউটি করতে হয়। ছোট বোনের স্বামী সিভিল চাকরি করেন তাই তিনি এই ছুটিটা সম্পূর্ণ উপভোগ করতে পারেন।
শুধুমাত্র ঈদ এবং কোরবানিতে অনেক বড় ছুটি পেয়ে থাকি।আমরা অন্য কোন উৎসবে এত বড় ছুটি পাওয়া হয় না কিন্তু কি হবে এই ছুটি পাওয়ার সত্ত্বেও আমরা কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। কারণ তখন আর্মি বাবুর অফিস করতে হয় ।
সবাইকে প্রসাদ দিয়ে হলো। আর্মি বাবু বিকেল তিনটের সময় বাসায় আসেন এবং তিনি প্রসব গ্রহণ করেন।









Thank you, Ma'am @wirngo.