Better Life with Steem|| The Diary Game||04- 11-2025||
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
ছেলে বউ যেমন মেয়ে হয় না ,শাশুড়ি তেমনি মা হয় না, এই কথাটা যতটা সত্য ততটাই বাস্তব । আজ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হলো । আজ মেয়ের কলেজ আছে ,মায়ের শরীর ততটা ভালো না , মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন মা দুপুর বেলার রান্না করত কিন্তু আজকে ভেবেছি যে ,আমি কিছুটা রান্না করে রেখে যাই, তাহলে মায়ের অনেকটা উপকার হবে। বাবা অসুস্থ ,তার যত্ন নিতে মা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে ।
![]() | ![]() |
|---|
মাকে নিয়ে নতুন করে আবার চিন্তা শুরু হলো , আমি একজনকে সুস্থ করতে পারছি না আবার যদি মা অসুস্থ হয়ে যায়, তাহলে আমি দুজনকে কিভাবে সামলাবো ।
সকাল ৫ঃ০০ টায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হলাম ।সবার জন্য আনারস কেটে নিলাম । আজকে রুটি -ভাজি তৈরি করিনি, নুডুলস রান্না করেছিলাম এবং দুপুরের রান্নার জন্য সমস্ত কিছু কেটেকুটে নেই। মাকে আর ঘুম থেকে তুলিনি ।
মা রাতে তেমন ঘুমাতে পারে না ,যদি এই সকালবেলা মাকে ডাকি তাহলে মা অসুস্থ হয়ে পড়বে। হঠাৎ মায়ের ডান কানে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছিল। মাকে ডাক্তার দেখাতে হবে।
সকাল আটটার ভেতরে আমি সমস্ত কিছু রান্না করে টেবিলে ঢেকে রাখি। বাপি ঘুম থেকে উঠে পড়লেন। তার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করলাম। আজকে ডায়াবেটিস কিছুটা স্বাভাবিক ছিল ৮.৯।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
বাপি যতটা শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছে তার থেকে মানসিকভাবে বেশি ভেঙে পড়েছে। এটা আমরা সবাই জানি যে, মানুষের বেশি বয়স হলে চিন্তা বেড়ে যায়। তাইতো বাবা সারাক্ষণ চিন্তা করে, কি হবে? বাবা বেশি চিন্তা করে দাদার জন্য।
দাদা এমনিতে অনেক সহজ সরল মানুষ । গ্রামের লোকজন ততটা সহজ সরল নয়। এই সম্পত্তির চিন্তা মানুষকে বেশি অসুস্থ করে তোলে ।যার অর্থ -সম্পদ যত বেশি হবে মানসিক চিন্তাও তত বেশি হবে এবং মানুষের সাথে শত্রুতা তত বেশি হয়, তা বাবাকে দেখেই বুঝতে পারছি।
বাবা এতদিন চাকরির জন্য দূরে দূরে থাকতো তখন কোন সমস্যা ছিল না ,এখন যখন অবসরের পরে বাড়িতে গেল তখনই তার গ্রামের ভাই -ভাইয়ের ছেলেদের আসল রূপ দেখা গেল। তারা বাপিকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে ,এই যে একটা মানুষিক চিন্তা বাবাকে আরো দুর্বল করে ফেলেছে।
![]() | ![]() |
|---|
আমার দাদা তো অনেক নরম মানুষ। তিনি এইসব ঝামেলা একদমই পছন্দ করে না , সে গ্রামের বাড়ি যেতেও চায়না । সেই জন্য বাপি আরো ভেঙে পড়েছে যে, তার ছেলে কিভাবে তার সম্পত্তি বুঝেপাবে?
বাপিকে এত বোঝাই তারপরও সে বুঝে না ।সেই সারাক্ষণ ঘুরেফিরে একই চিন্তা ,একই কথা । যাইহোক, সমস্ত কিছু রান্না করে রেখে আমার আর খাবার সময় ছিল না ।আমি না খেয়ে বেরিয়ে পড়ি মেয়েকে নিয়ে । কলেজ থেকে বাসায় আসতে আসতে আমাদের দুপুর দুটো বেজে যায়।
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নেব তখন বাপি বলছে তার দাঁতে সমস্যা হচ্ছে । দাঁতের ডাক্তারের সাথে ফোনে কথা বলে নিলাম এবং তিনি বলছেন আজকে তাকে নিয়ে যেতে । বিকেল চারটার সময় আমি আর বাপি দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলাম।
বাপি তিনটি দাঁতে ক্যাপ বসিয়েছে , খাবারের সময় সেখানে ব্যাথা লাগে তাই ডাক্তার ভালো করে দেখলেন। সমস্ত কিছুই ঠিক আছে তারপরও কেন ব্যথা পাচ্ছে তা বুঝতে পারছেনা । তিনি অন্য একজন ডাক্তার তার চেম্বারে নিয়ে আসলেন । তিনি বাটির দাঁত দেখে বললেন যে, বাপির দাঁতের অবস্থা ভালো আছে। তারপরও কেন জানি দাঁতে ব্যথা করছে বুঝতে পারছি না ।
বাপির কিডনির সমস্যা আছে তাই ডাক্তার কোন এন্টিবায়োটিক ওষুধও দিচ্ছে না তাই সাধারণ নাপা দিয়েছেন। বাবা-মায়ের কিছু ঔষধ নিলাম । সৃষ্টিকর্তা বুঝি ,যারা সহজ সরল তাদের কেন এত বারবার পরীক্ষা নিচ্ছে বাবার ।এমন অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমার সমস্ত কিছু অন্ধকার করে দিচ্ছে ।
আমরা যখন ছোট ছিলাম, বাবা-মা কত কষ্ট করে আমাদেরকে বড় করেছেন ,আজ আমরা কি পারি না সকল সন্তানরা মিলে একটি ভালো রাখতে।
মেয়েটা ফুচকা খেতে খুবই পছন্দ করে তাই আসার পথে মা ও মেয়ের জন্য ফুচকা নিয়ে এসেছিলাম । ফ্রেশ হয়ে রুটি তৈরি করছিলাম , সকালবেলা রুটি তৈরি করার সময় পাইনা তাই রাতে বেশি করে রুটি বেলে ফ্রিজে রেখে দেই যাতে সকাল বেলা তাড়াতাড়ি ভেজে দেওয়া যায়।
আমি ১৬ থেকে ১৭ রুটি তৈরি করি । মায়ের একটি কথা শুনে আমি খুবই অবাক হলাম। মা বললো ,তুমি কত চিন্তা করে আমাদের জন্য রুটি তৈরি করে রাখো কিন্তু তার বৌমা নাকি রুটি তৈরি করতে একদমই চায় না ।দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসে ,তবে দোকানের রুটি থেকে বাসায় তৈরি করার রুটি যেমন সুস্বাদু থাকে এমনি ফ্রেশ থাকে।
যার বাবা-মা সেই বোঝে ।না হয় একটু কষ্টই হলো,
বাবা- মায়ের জন্য সন্তান হয়ে এইটুকু করা উচিত।রাত ৯ টায় আর্মি বাবু অফিস থেকে চলে আসলেন। আজ অফিসে অনেক কাজ ছিল তাই আসতে এত দেরি হল ।সাথে এই জিনিসটা দেখে আমি সত্যি অনেক খুশি হয়েছি এবং অবাক হয়েছি।
আমার বাসায় অসুস্থ বাবা মা আছে তাই বাড়তি মাছ, মাংস , দুধ এই খাবারগুলো বেশি ডিপ ফ্রিজে রাখা দরকার । আর্মি বাবু প্রতিদিন সময় পায় না বাজার করার তাই তিনি শুক্রবারে বেশি করে বাজার করে রাখেন । আমার নরমাল ফ্রিজে ঠিক ততটা বড় ছিল না তাই মাছ এবং দুধ রাখতে সমস্যা হত। তাকে বলার পরে তিনি হঠাৎ নিয়ে হাজির হয়েছে।
আমি জানিনা তিনি আমার মনের কথাটা কিভাবে বুঝেন । সংসারে ছোটখাটো নতুন যে জিনিসটা কেনা হয় না কেন তা খুবই যত্নের হয় । তিনি যেমন তার দেশের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তেমনি আমার পরিবার আমার বাবা-মা সবার দিকে লক্ষ্য রাখছে । অনেক ভাগ্য করে এমন একজন জীবন সঙ্গী পেয়েছি ।
সবার মন মানসিকতা তো একরকম হয় না ,এক ভাইয়ের সাথে নীচে দেখা, এদিকে বাপিকে নিয়ে আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। আর্মি বাবু পেছনে ছিলেন তখন একজন ভাইয়া বলেছে "আপনার শ্বশুর শাশুড়ি এখনো আছে ? অনেক দিন তো হলো"। তার কথাটা শুনে আমার সত্যি খুব খারাপ লাগলো।
![]() | ![]() |
|---|
অনেকদিন হলো তাতে কি হল ! ছেলের কাছে বাবা থাকতে পারে তবে মেয়ের কাছে কেন থাকতে পারে না। যাই হোক তার কথাটা আমি শুনেও না শোনার ভান করলাম ।যে যাই বলুক আমার বাবা-মা এক দিকে আর আমার পৃথিবী অন্য দিকে । বাবা-মা, স্বামী সন্তান সবাইকে নিয়ে আমি সুখে থাকতে চাই।
হয়তোবা আমি অনেক বিলাসিতা করতে পারলাম না কিন্তু সবার মুখে একটু হলেও হাসি ফুটাতে পারবো। এটাই আমি চেষ্টা করি । সৃষ্টিকর্তা আমাদের পাশে থাকুক এবং চলার পথ আরো সহজ করে দিক। সবাই ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন ।শুভরাত্রি।।











