Better Life with Steem|| The Diary Game||11- 03-2026
![]() |
|---|
| WhatsApp থেকে নেওয়া |
Hello,
Everyone,
শুভ সকাল। আশাকরি সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন । সকালের সূর্য উদয়ের সাথে সাথে নতুন একটি দিন শুরু হয়ে যায় এবং আমাদের জীবন থেকে সেই পুরনো দিনটি বিদায় নেয়। এভাবে যে কখন আমাদের জীবন থেকে সময়গুলো পার হয়ে যাচ্ছে তা আমরা কেউ বুঝতে পারছি না ।
আমাদের সকলের জীবনের এক একটি দিন একেকটি স্মৃতি ধরে রাখে। আজ আমি গতকালের দিনলিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি ।গতকাল ছিল বুধবার ( ১১ই মার্চ )। এই দিনটি আমাদের সবার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন কারণ আমাদের সবার আদরের ছোট বোন ওর বিবাহ বার্ষিকী ।
![]() | ![]() |
|---|
আর্মি বাবুর ঢাকায় পোস্টিং এর সূত্রে দুই বোন একই শহরে আছি । বোন ফোন দিয়ে বলেছিল ওর বাসাতে আসার জন্য ।তেমন কোনো বড় আয়োজন হবে না শুধু ঘরোয়া পরিবেশে আমরা এদিন টি উদযাপন করব।
সবার জীবনে কিছু বিশেষ দিন থাকে ,যা কখনো ভোলার নয়। তা হলো জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকী। এমন অনেক কিছু বিশেষ দিন থাকে।
![]() | ![]() | ![]() |
|---|---|---|
![]() | ![]() | ![]() |
মামনির যেহেতু কলেজ বন্ধ তাই আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা বেলা ওর বাসায় এসেছি। একই শহরে থাকার সুবিধার্থে যখন খুশি বোনের বাসায় আসা যায় কিংবা বোনও আমার বাসায় যেতে পারে।
আর্মি বাবু আমাদের এই ছোট ছোট বিষয় গুলোতে পাশে থাকতে পারে না। এত কাছাকাছি থেকেও তিনি তার কর্মব্যস্ততার জন্য আমাদের সাথে সব সময় থাকতে পারেনা ।
আমাদেরকে পেয়ে সায়ন বাবা তো অনেক খুশি ।সে তার দিদিকে পেয়ে সারাক্ষণ তার সাথে থাকছে। তার ছোট্ট মিষ্টি কন্ঠে আধো আধো কথা, দুষ্টুমি সবই ভালো লাগে। শুধু তার একটাই সমস্যা খাবার নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ নেই । আমাদের খাবারের সময় ওকে নিয়ে বসা হলেও সে কোন খাবারই খাচ্ছে না।
![]() | ![]() | ![]() | ![]() |
|---|---|---|---|
![]() | ![]() | ![]() | ![]() |
তিন বছর হয়ে গেল এখনো সে বড়দের খাবারের সাথে ততটা পরিচিত না। ভাত ,মাছ , মাংস এগুলো পছন্দ করেনা । খুব কষ্ট হয় তাকে এগুলো খাওয়াতে। বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায়।
আজও বোনের বাসায় রান্নার দায়িত্বটা আমাকে নিতে হলো। আজকে খাদ্য তালিকায় ছিল চিংড়ির মালাইকারি, চিকেন রোস্ট ,ইলিশ মাছ ভাজি ,মাটন কষা, পোলাও ,সাদা ভাত, সালাদ ও দই মিষ্টি। বাচ্চারা সবজি পছন্দ করে না তাই আজকের আর কোন সবজি করা হয়নি ।
রাজধানী ঢাকা শহরে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাসের সংকট দেখা দেয় । শীতকালীন সময় বিশেষ করে দুপুরবেলা গ্যাসের লাইনে একদম গ্যাস থাকে না বললেই চলে। এই সমস্যাগুলো শীতকালীন সময় বেশি দেখা দিয়ে থাকে ।তবে এখন অনেকটা কম সমস্যা হচ্ছে ।
প্রথমে আমার অনেক চিন্তা ছিল যে ,দুপুরবেলা এগুলো রান্না করবো কিভাবে, কত সময় লাগবে ? আজকে গ্যাসের তেমন সমস্যা ছিল না । আমরা সকলে মিলে মিশে কাজ করছি ।রান্নার শুরুতে সমস্ত কিছু কেটে ,ধুয়ে প্রস্তুত করে রাখেছি তারপরে এক এক করে সমস্ত কিছু রান্না করে নিলাম।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
মাঝে মাঝে মনে হয় এই সংসারের বন্ধন অনেক কঠিন, অনেক ভারী ,অনেক দায়িত্ব নিতে হয় ,অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয় ।তবে ছেলেদের থেকে মেয়েদেরকে বেশি মানিয়ে নিতে হয় কারণ বিয়ের পরে ছেলেদের কখনো তার বাবা-মাকে ছেড়ে আসতে হয় না। শুধুমাত্র মেয়েদের বাবা-মাকে ছেড়ে আসতে হয়, এটাই নিয়ম।
যে মেয়েটা পড়াশোনা এবং গান বাজনা ছাড়া কোন কিছুই জানতো না, সে আস্তে আস্তে নিজেকে সংসারের আদর্শ গৃহবধূ হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে শিখে গেছে। যে মেয়েটা পড়াশোনায় কখনো প্রথম স্থান ছাড়া দ্বিতীয় স্থান লাভ করেনি ,এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাথমেটিক্স বিষয় নিয়ে GPA 3.89 পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে ।
যে পড়াশোনা ছাড়া কিছুই বুঝতো না ,সেই মেয়ে কোন কর্মসংস্থানে যুক্ত না হয়ে একদম পুরোপুরি একজন সংসারী গৃহিণী হয়ে গেছে । তার সংসার , স্বামী,সন্তান এই নিয়ে তার সারা দিনের চিন্তা ভাবনা । সে এত দ্রুত ঘরোয়া একটা মেয়ে হয়ে যাবে এবং সবকিছু সুন্দর ভাবে নিজ করতে পারছে ,তা আমিও পারিনি ।
আমরা যে মেয়েরা সংসার সংসার করে আমাদের নিজেদের ক্যারিয়ার ভুলে যাই ,হয়তো একদিন দেখা যাবে ,এই সংসারে সবার যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে তখন আমরা এই সংসারের এক কোনায় পুরানো ফেলে রাখা আসবাবপত্রের মত হয়ে যাব। তখন আমাদের মেধার কোন মূল্য থাকলো না ।
আমি রান্নার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছি, বোন স্নান করে গীতা পাঠ করে ঠাকুর পূজা দিল । সবার স্বপ্ন থাকে এই বিশেষ দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করার । যেহেতু বর মশাই চাকরি করেন ,দিনের বেলায় তাদের অফিস থাকে হয় । তারা আমাদের কোন কাজে সাহায্য করতে পারে না । রাতের বেলা সকলে মিলে কেক কেটে এই সুন্দর দিনটি উদযাপন করলাম।
সায়ান পাখি তো অনেক খুশি। সে বলছে ," বাবা মায়ের হ্যাপি বার্থডে " ।যখন কেক কাটা হলো তখন বলতেছে Happy Birthday ম্যাম ম্যাম । এত কিছু আয়োজন সে একটু কেক খেলো না , একটু পোলাও খেলো না। কোন কিছুই সে খাচ্ছে না কিন্তু অনেক আনন্দ করছে। বাবা মাকে ফুলের তোড়া দিয়ে"I love you Baba💕 ma" বলছে ।তার আধো আধো ভাষাগুলো সত্যি অনেক ভালো লাগে এবং অনেক মায়া লাগে।
![]() | ![]() |
|---|
ওদের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা ও আশীর্বাদ ।ওরা যেন এভাবে শত বছর সুখে সংসার করতে পারে। সবাই ওদের জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন ।আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং সংসারকে ভালোবাসুন।
|
|---|























