Better Life with Steem|| The Diary Game||15- 06-2026||
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
পৃথিবীতে সেই সন্তানেরা ধনী, যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন। বাবা মা এমনই অমূল্য সম্পদ ,যা টাকা পয়সা দিয়ে কখনোই কেনা যায় না । বাবা-মা হলেন বট বৃক্ষের মতো বৃদ্ধ হয়ে গেলেও আমাদের প্রশান্তির ছায়া দেয়।
তবে শেষ বয়সে বাবা-মা সুস্থ থাকবে এটাই সকল সন্তানের একান্ত কামনা ।বাবা-মা সারা জীবন আমাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা করে গেছেন, কখনো নিজেদের কথা চিন্তা করেনি। কখনো নিজেদের একটু সুখের জন্য কোথাও ঘুরতে যাইনি। সন্তানের পড়াশুনা, পরীক্ষা এই ভেবে কোথাও তার নিজেদের জন্য বাড়তি সময় দেয়নি ।
বাপিকে সব সময় দেখেছি ,তার অফিস, বাড়ি সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। কখনো মাকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাইনি। কিন্তু যখন অবসরে আসলো, এখন বাবার হাতে অনেক সময় কিন্তু তার সেই শক্তি নেই।
![]() | ![]() |
|---|---|
![]() | ![]() |
কোথাও যে ঘুরতে যাবে সেই শক্তি নেই এবং সাহস করছে না। সবাই সঠিক কথাই বলে যে ,বয়স ও শক্তি থাকতে ঘুরে বেড়ানো উচিত কারণ শেষ বয়সে এসে তখন আর পাহাড়ে ওঠার কিংবা সমুদ্রে যাওয়ার শক্তি থাকে না। তখন শুধু হাসপাতাল আর ওষুধ পত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।
আমার বাবা-মা দুজনে অনেক সহজ সরল মনের মানুষ । বাপিকে দেখেছি সরকারি ছুটি ছাড়া বাড়তি কখনো কোন ছুটি নিতেন না । মাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাইনি সে ।এমনকি শ্বশুর বাড়িতেও বেশি একটা যেতেন না । আমাদের বাসায় আসলে বেশিদিন থাকতেন না ।
সব সময় অফিস আর গ্রামের বাড়ি তার কাছে বেশি প্রিয় ।তাই তো শেষ বয়সে অবসর নেয়ার পরে বাপী গ্রামের বাড়িতে চলে যায় কিন্তু গ্রামের বাড়ির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না । কিছুদিন পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই থেকে এক এরপর এক ডাক্তার দেখানো হচ্ছে ।
![]() | ![]() |
|---|
কিছুদিন ভালো থাকে আবার অসুস্থ হয়ে পরে। এটা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তায় আছি ।যারা আমার নিয়মিত পোস্ট পড়ে থাকবেন তারা অবশ্যই জানেন যে , গতবছর বাবা ঢাকা এসেছিলেন তার একটি চোখ অপারেশন করা হয়েছিল এবং শারীরিক অনন্যা সমস্যার জন্য ডাক্তার দেখানো হয়েছিল।
বাবা আবার এসেছেন, তো এবারে শুধু বাবা না সাথে সাথে মাকেও চোখের অপারেশন করাতে হবে ।বরিশাল থেকে বারবার আসা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। তারা একা চলাচল করতে পারে না। তাদের সাথে একজনকে নিয়ে আসতে হয় তাই ভাবছি এবার তাদের দুজনের একত্রে চোখের চিকিৎসা করিয়ে দেবো ।
এর পূর্বে বাবা-মা দুজনার বাম চোখে লেন্স বসানো হয়েছে। এবার ডান চোখে বসানো হবে। কিছুদিন থেকে বাবা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন ,তার ডাক্তার দেখানো হয়েছে । মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখানো হয়েছে।
![]() | ![]() |
|---|
বাবা মা ঢাকায় এসেছে এক মাস হল তার ভেতরে বাবাকে ৬ জন ডাক্তার দেখানো হলো। একটু ভেবে ভালো লাগছে, বাবা যেভাবে ঢাকা এসেছিল এখন অনেকটাই সুস্থ আছে ।
আজকের কাজ ছিল চোখের ডাক্তার দেখানো। সকাল পাঁচটার সময় ঘুম থেকে উঠলাম
সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার দুটোই আমাকে তৈরি করে রেখে যেতে হবে ।যেহেতু দুজনকে চোখের ডাক্তার দেখাবো ,পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিবে সেগুলোর সম্পূর্ণ করে আসতে আমাদের বিকেল হয়ে যেতে পারে।
গতকাল রাতে আমি অনেক কাজ গুছিয়ে রেখেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে রুটি ও ডিম ভাজি করেছি এবং দুপুরের জন্য ভাত ও মাছ রান্না করেছি। সময় স্বল্পতার জন্য ভাজি তৈরি করতে পারিনি তাই শুধু ডিম ভাজি করে দিয়েছিলাম তার সাথে কলা দিয়েছিলাম।
আমরা সকালের জলখাবার খেয়ে সকাল ৯টায় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ি। সকাল নয়টায় সময় যেহেতু অফিস টাইম তাই এই সময় সিএনজি পাওয়া অনেক কঠিন হয় । আমরা কিছুক্ষন অপেক্ষা করি । সিএনজি না পেয়ে উবার এর সাহায্য নিয়ে সিএনজি পেয়ে যাই ।
হাসপাতালে যেতে আমাদের অনেকটা সময় লেগে যায় কারণ রাস্তায় প্রচুর যানজট ছিল।এই বিষয় নতুন করে কোন কথা নেই ।ঢাকা শহরের যানজট আমাদের সকলেরই জানা ।আমাদের হাসপাতালে যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায় তাই আমরা সিরিয়ালের অনেকটা শেষের দিকে পেয়েছি।
যেহেতু বাবা অনেক অসুস্থ , সে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারে না। তাই ডাক্তারের সহকারীকে অনুরোধ করার পরে তারা বাপি - মা কে ১ঘন্টা পরে ডেকে ছিলেন । বাপি- মায়ের দুচোখে ড্রপ দিয়েছিলেন এবং এক ঘণ্টা পরে আবার ডাক্তার সাহেব পরীক্ষা করে দেখবেন ।
মায়ের থেকে বাপির বেশি সমস্যা ছিল । ডাক্তার সাহেব বলেছেন যত দ্রুত সম্ভব দুজনের চোখের অপারেশন করাতে। অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিল। পরীক্ষা করানোর জন্য প্রথমে টাকা পরিশোধ করতে হবে ।দুজনের পরীক্ষার বিল এসেছিল বাংলাদেশী টাকায় ৯,৫৭০ টাকা ।
আমি এত টাকা সঙ্গে নিয়ে যায়নি তাই বিকাশ এর মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলাম । অনলাইন সুবিধার জন্য এটি খুব দ্রুত এবং খুবই নিরাপদ সেবা পেলাম । পরীক্ষাগুলো করার জন্য আমাদের অনেকটা সময় লেগে গেল ।
রিপোর্ট গুলো আজ পেলাম না । ডাক্তারকে আজ দেখাতে পারবোনা তার জন্য আমাকে পরবর্তী দিন আসতে হবে এবং রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করে ডাক্তারকে দেখাতে হবে । তিনি রিপোর্টগুলো দেখে অপারেশন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে দিবেন ।
![]() |
|---|
বিকেল ৪:৩০ বেজে যায় আমাদের বাসায় আসতে।এসে ফ্রেশ হয়ে খাবার গুলো গরম করে নিয়েছি। বাবা-মাকে খাবার দিলাম এবং আমিও কিছুটা খেয়ে নিলাম ।সবাই অনেক ক্লান্ত ছিলাম তাই সবাই বিশ্রাম নিলাম ।
এভাবে কেটে গেল আমার ১৫ই জুন এর দিন ।সকলে আমাদের জন্য দোয়া করবেন ।আমি যেন, বাবা মায়ের সঠিক চিকিৎসা করে দিতে পারি। অনেক রাত হলো এখানে বিদায় নিচ্ছি। শুভ রাত্রি ❤️
|











পোস্টটি সমর্থন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ম্যাম @lirvic