Better Life with Steem|| The Diary Game||16- 05-2026|| শনি জয়ন্তী ||
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ভালো-মন্দ নিয়ে দিনগুলো পার করছি। অনেকদিন হলো আমার দিনলিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারছিনা ।সুন্দর একটি দিনলিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলে এসেছি। দিনটি হলো ১৬ মে ।
আমার বিগত পোষ্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম যে, আমার বাবা-মা দুজনে অসুস্থ ।তবে , মায়ের থেকে বাবা বেশি অসুস্থ ।এই নিয়ে আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। বাবা মা বয়স্ক হলে অসুস্থ হবে, এটা স্বাভাবিক । ডাক্তার দেখালে সুস্থ হয়ে যাবে তাও স্বাভাবিক।
![]() | ![]() |
|---|
আমরা জানি,শরীরের সব অসুখ ওষুধ দিয়ে সারানো গেলেও মনের দূর চিন্তা যে অসুখ তা সারানোর কোন ওষুধ তৈরি হয়েছে বলে জানা নেই ।বাবার মনের ভেতরে একটাই ধারণা, তার শরীরে অনেক অসুখ বাসা বেধেছে, মনে হয় আর বেশি দিন বাঁচবে না এবং সারাক্ষণ ওষুধগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করে।তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
যেই মানুষটা ব্যাংকের হিসাব নিকাশ রাখার সাথে সাথে সংসারের চিন্তাভাবনা, গ্রামের বাড়ির চিন্তাভাবনা, সমস্ত কিছু এক সামলাতে, আজ সেই মানুষটা এভাবে ভেঙ্গে পড়েছে দেখে খুব খারাপ লাগছে ।জানি আমাদের বাবা-মা চিরদিন থাকবে না, এমনকি আমরাও চিরদিন থাকবো না। আজ আছি কালকে হয়তো আর থাকবো না।চোখের সামনে বাবাকে এরকম একটু একটু করে কষ্ট পেতে দেখে মনের সাহস ভেঙে যাচ্ছে ।
আমি প্রতি বছর বৈশাখ মাসে শনি ঠাকুরের পূজো দিয়ে থাকি। এ বছর আর দিতে পারেনি ।তা নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছিল কবে দিতে পারবো ? ১৬ তারিখে আমি উপবাস থাকব এবং শনিদেবের পূজা দেবো। মা বললেন, এই দিনটা খুবই ভালো। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিন ,এই দিনটি ছিল ”শনি জয়ন্তী”। জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা তিথি , কর্মফল দাতা ও ন্যায়ের দেবতা শনিদেবের জন্মবার্ষিকী ।
![]() | ![]() |
|---|
মন্দিরের ঠাকুর দাদার সাথে কথা বলে সবকিছু গুছিয়ে নিলাম ।সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আজ তেমন কোন কাজ ছিল না । আমি উপবাস আছি ,আমার সাথে সাথে আর্মি বাবু উপবাস আছেন। আমাদের আর কিছু মিল না থাকলেও এই বিষয়টা খুব মিল থাকে । শুধু মেয়ে একা দুপুরবেলা খাবার খেয়েছিল তাই রান্নার চাপ ছিলনা ।
সকালের জল খাবারে মেয়েকে সাবুর পায়েস রান্না করে দিয়েছিলাম । এই পায়েস রান্না করতে দরকার কিছু সাবুদানা, তরল দুধ ও চিনি । প্রথমে সাবুদানা ধুয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখবো ।একটি পাত্রে তরল দুধ জ্বাল দিবো, যখন দুধ ফুটে উঠবে তখন ভিজিয়ে রাখা সাবু দিয়ে কিছু সময় আবার জ্বাল করে নিতে হবে । পরিমাণ মতো চিনি দিয়ে কিছু সময় জ্বাল দিব। তৈরি হয়ে গেল সাবুর পায়েস। যা বাচ্চারা খেতে ভালোবাসে এবং ঝটপট তৈরি করা যায় ।
![]() | ![]() |
|---|
পুজোর জন্য আমি সমস্ত কিছু গতকাল রাত্রে গুছিয়ে রেখেছিলাম । সত্যনারায়ণ ও শনি দিবো সে জন্য দুটি ঝুড়িতে সোয়া কেজি দুধ, সোয়া কেজি চালের গুঁড়ো, সোয়া কেজি আখের গুড়, সমস্ত কিছু গুছিয়ে রেখেছি ।
বিকেল চারটার সময় আমরা মন্দিরে চলে আসি ।এসে দেখি পূজোর আয়োজন চলছে ।আমি পুজোর ফল গুলো বানানোর জন্য বসে পড়লাম ।পুজোর কাজ আমার নিজের হাতে করতে খুবই ভালো লাগে। ভক্তবৃন্দ চলে এসেছেন, ঠাকুর দাদা বিকেল পাঁচটার দিকে পুজোতে বসলেন। প্রথমে সত্যনারায়ণের পুজো করা হবে। ।
![]() | ![]() |
|---|
আমরা সকলেই জানি সকল পুজোর শুরুতে ”নারায়ণ” ঠাকুরের পূজা করে নিতে হয় । ঠাকুর দাদা শুরুতেই নারায়ণ ঠাকুরের পূজাতে বসলেন , আমরা শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণের পাঁচালী পাঠ করলাম ।পুজোর শেষে আমরা অঞ্জলি নিলাম। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে নারায়ণ পূজা করা যায় ।শনি ঠাকুরের পূজা করতে হয় সূর্য অস্ত যাবার পরে তাই নারায়ণ পূজা হয়ে যাবার পরে ঠাকুর দাদা কিছু সময় অপেক্ষা করলেন সূর্য অস্ত যাওয়ার জন্য ।
![]() | ![]() |
|---|
সূর্য অস্ত যাবার কিছুক্ষণ পরে ঠাকুর দাদা শনি পূজা করতে বসলেন । আমরা পুজো দেখছি এবং শনিদেবের পাঁচালী পাঠ শুনছি। আজ অনেকেই উপবাস আছে, যেহেতু দীর্ঘ ২৭ বছর পর এমন মহাজোগ ”শুনি জয়ন্তী” ফিরে এসেছে ।এই দিনে মাটির প্রদীপ মন্দিরে জ্বালাতে হয় এবং ঘরের উত্তর কোণে জালাতে হয়।
আমরা মাটির প্রদীপ কিনে নিলাম এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলাম । আমাদের মামা-মাষীরা কত কিছুই না জানে যা আমরা কিছুই জানিনা।আমাদের আগামী প্রজন্ম কতটা জানবে বা কতটা করবে তাও জানিনা ।ধর্ম মন পালন করা মন থেকে আসে তা কাউকে বলে কিংবা জোর করে কিছু করানো যায় না ।
![]() | ![]() |
|---|
যার ধর্ম সে সঠিকভাবে পালন করবে এটাই স্বাভাবিক। অনেক মাসিদের সাথে পরিচিত হতে পেরে ভালো লাগলো ।বাসার চার দেয়ালের ভিতর থেকে থেকে মনে হচ্ছে যেন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি । মন্দিরে আসলে ধর্মের কথা শোনা যায়, অনেক কিছু শেখা যায়। রাধাগোবিন্দ মন্দিরে নাম কীর্তন চলতেছিল , প্রার্থনার শেষে সবাই প্রসাদ পেলাম ।
এই তো এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমার দিনগুলো ।আশা করি আপনাদের দিনগুলো ভালো যাচ্ছে।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, শুভরাত্রি ।














Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
Thank you.
আমার দিনলিপির এই পোস্টটি সমর্থন করার জন্য আমি @steemcurator09 এর টিমকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি , বিশেষ করে @ripon0630 স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।