Better Life with Steem|| The Diary Game||27- 03-2026||
![]() |
|---|
#Hello,
Everyone,
আশা করি সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন ।তবে, আমার সময় গুলো ততটা ভালো যাচ্ছে না। আজ একটি বিশেষ দিন আমাদের জীবনে। প্রতিবছর এই দিনটি আমার কাছে বিশেষ । এই দিনে আমি আমার নতুন আরেকটি পরিচয় পেয়েছিলাম ।
এই দিনে আমার মেয়ের জন্মের সাথে সাথে আমি মা হয়ে জন্ম নিলাম। আমি মনে করি , সন্তানের জন্মদিন যে দিন সেদিন মায়েদেরও জন্মদিন ।মাতৃত্বের স্বাদ নেওয়া যতটা আনন্দের ততটাই কঠিন।
আপনাদের সাথে পূর্বে শেয়ার করেছিলাম ,আমরা তিন দিনের জন্য তীর্থ যাত্রায় গিয়েছিলাম ।সেখান থেকে আসার পরে ঠান্ডা ,সর্দি - কাশি ও জ্বরে ভুগছি। অলসতার জন্য প্রথমে CMH এ যাওয়া হয়নি । বাসায় নিজে নিজেই ডাক্তারি করেছিলাম কিন্তু কি হবে তাতে তো সুস্থ হয়নি বরঞ্চ বেশি অসুস্থ হয়ে গেছি । বাধ্য হয়ে আমাকে CMH যেতে হলো।
![]() | ![]() |
|---|
এতটাই অসুস্থ ছিলাম মাথা তুলে বসতে পারছি না। জ্বর সব সময় ১০২° থাকে আর কমছে না । আমি অসুস্থ বিধায় ছোট বোন আমাদের বাসায় এসেছে। একটি বোন থাকা দরকার আর যদি সে পাশাপাশি থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই। একজনের সমস্যায় অন্যজন এগিয়ে আসতে পারে। আজ ও আমার যত্ন নিচ্ছে তার সাথে সাথে আমার সন্তানের যত্ন নিচ্ছে।
আমি যে এখন পোস্টটি লিখতে বসেছি আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। বেশি সময় বসে থাকতে পারছি না। প্রচন্ড মাথা ব্যথা নিয়ে পোস্টটি শেয়ার করছি।
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ঠাকুর ঘর পরিস্কার করি । অসুস্থতার জন্য ঠাকুর ঘরে না আসায় সব এলোমেলো হয়ে আছে। পরিস্কার করতে অনেক সময় লেগেছে। পায়েস রান্না করি এবং সেই পায়েস দিয়ে ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করি।
ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি , মা আমাদের জন্মদিনে সকাল বেলায় পায়েস রান্না করত এবং ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করে আমাদের খাইয়ে দিতেন। ঐদিন আমাদের প্রথম খাবারের ছিল পায়েস । এই বিশেষ দিনে আজকে মাকে খুব মিস করছি ।
এবারের জন্মদিনে ওর পছন্দের জিনিস গুলো আমি শপিং করে দিতে পারেনি ।আমি অসুস্থ থাকার জন্য আমার ছোট বোন মামনিকে নিয়ে শপিংমলে গিয়েছিল। আমার ছোট বোন ২৬ তারিখ বিকেল বেলা ওকে নিয়ে " আড়ং" থেকে তার পছন্দ অনুযায়ী শপিং করে নিয়ে আসলো।
![]() | ![]() |
|---|
মেয়ে সবসময় আমার সাথে শপিং করতে অভ্যস্ত তাই নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এত বড় হলেও সে এখনো সমস্ত কিছু আমার উপর নির্ভর করে। আমি তাকে যা কিনে দিবো ,যা পছন্দ করে দিব তাই তার পছন্দ হয় । প্রথম মাসির সাথে শপিং করতে তার একটু সমস্যা হচ্ছিল । কারণ আমি যা টাকা দিয়েছিলাম তার অর্ধেকের বেশি সে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।
বাসায় এসে বলে,তুমি সুস্থ হয়ে আমাকে কিনে দিও। সন্তানদের ভালো রাখার জন্য মাকে সুস্থ থাকা একান্ত দরকার । ঈদের ছুটিও শেষ তাই ছোট বোন আজকে চলে যাবে বাসায় । জন্মদিনের সমস্ত আয়োজন দিনের বেলায় করা হলো । আমার অসুস্থতার জন্য এবার অন্য কাউকে নিমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি।
দুপুরে খাবার ছিল ,মামনির পছন্দ অনুযায়ী খাবার বাহির থেকে আনা হয়েছিল। ওর জন্য আমি কোন খাবার রান্না করতে পারেনি তা ভেবে আমার খুব খারাপ লাগছে । এতটাই অসুস্থ আমি ,ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করে আবার শুয়ে থাকি ।আর্মি বাবু এবং আমার ছোট বোন দুজনেই সমস্ত কিছু সাজিয়েছিল। ঘরোয়া পরিবেশে স্বল্প পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল এই বিশেষ দিনটি।
রেস্টুরেন্ট থেকে মামনির পছন্দের বাসমতি চালের কাচ্চি বিরিয়ানি নিয়ে আসা হলো ,তার সাথে বোরহানি, ভাগ্যকুল থেকে তিন ধরনের মিষ্টি ,ছানার সন্দেশ, লাড্ডুু ,মিষ্টি দই ও মামুনের পছন্দের রেড ভেলভেট কেক নিয়ে আসা হলো । ভাগ্যকুলের প্রতিটি খাবার অসাধারণ ।
জ্বর থাকার জন্য আমার মুখে কোন রুচিও ছিল না। কোন খাবারে যেন ভালো লাগছে না ,মনে হচ্ছে যেন সাদা ভাত আর একটু ডাল সিদ্ধ খেতে ভালো লাগতো।
এই বছরে আমরা প্রথম দুপুর বেলা জন্মদিন উদযাপন করেছি, যেহেতু বোন বিকেলবেলা চলে যাবে। দুপুর ২টায় সময় প্রথম কেক কাটা হলো। এই সুন্দর মুহূর্ত ধরে রাখার জন্য কিছু ছবি তুলে রাখলাম। সায়ন বাবু অনেক আনন্দে দিদির সাথে কেক কাটল ।সে কিছু কেক খেয়েছিল এ ছাড়া অন্য কিছুই খাইনি।
![]() |
|---|
| WhatsApp থেকে নেওয়া ছবি |
সন্তানগুলো দেখতে দেখতে চোখের সামনে বড় হয়ে যাচ্ছে । মনে হয় এইতো সে দিন, আমি CMH এর ওটিতে হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে সুন্দর ফুটফুটে একটি বেবি নিয়ে আসলাম ।এই জার্নিটা আমি সারা জীবনের ভুলবো না ।প্রথম মা হওয়ার গল্প কোনো মা ভুলতে পারে না ।বাসায় এত কিছু আয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমি কোন কিছু খেতে পারিনি।
প্রতিটা মেয়ে সন্তান তার বাবা-মায়ের কাছে রাজকন্যা। বাবা মা তাকে খুব আদর যত্ন করে বড় করে । সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা , সকলের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে আমাদের সন্তানদের একজন সৎ মানুষের মতো করে মানুষ করতে পারি। তাকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।পরিবার ও দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে। সকলে আমার মামনির জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন।
সকলে ভালো থাকুন এবং সুস্থ্য থাকুন।আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি।
TEAM 7







