তীর্থযাত্রার শেষ দিন ।
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আমরা চাইলে যেখানে সেখানে যেতে পারি কিন্তু তীর্থ যাত্রা / এই পবিত্র ধর্ম যাত্রায় আমরা চাইলে সেই সুযোগ সব সময়পাই না । আমরা যে ধর্মই হয় না কেন, সবার আরাধ্য দেবতা/ ঈশ্বর /আল্লাহ থাকেন। আমাদের নিজ ধর্মের রীতিনীতি মেনে চলতে চেষ্টা করি।
কিছুদিন পরে হতে যাচ্ছে ” ঈদুল আজহা” এই পবিত্র মাসে অনেক মুসলিম ভাই-বোন হজ পালনের জন্য সেই মক্কা মদিনাতে যাওয়ার স্বপ্ন থাকে।তাদের জীবনের একটা পার্ট হল হজ পালন করা । সে যদি চাকরিজীবী হয় কিংবা ব্যবসায়িক হয় ,তার উপার্জিত অর্থ থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করে রাখেন, এই হজ পালনের জন্য।
সুন্দর এই মানব ..জীবন যে দান করেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমরা প্রার্থনা করি ।আমাদের নিজ নিজ ধর্মগুলো সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি। আজ আমাদের তীর্থ যাত্রার তৃতীয় দিন এবং শেষ দিন ।এই দিন আমরা আরো কিছু মন্দির দর্শন করব এবং রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। আমাদের তীর্থ যাত্রার শেষের দিন ছিল, মহেশখালী দ্বীপের গোরকঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামে মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় ”আদিনাথ মন্দির” দর্শন।
মহেশখালী একটি দ্বীপ, যা কক্সবাজার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই দ্বীপে যাতায়াতের জন্য একমাত্র মাধ্যম হলো ট্রলার বা স্পিডবোট , ছোট জাহাজ রয়েছে। একসময় এই দ্বীপে বিদ্যুৎ ছিল না, চিকিৎসা ছিল না,কোন স্কুল ছিল না, দ্বীপে বসবাসকারী জনগণের কষ্টের শেষ ছিল না ।এখন আধুনিতার ছোঁয়া দ্বীপে এসে লেগেছে। এখানে বসবাসরত মানুষ সকল সুবিধা পাচ্ছে।
![]() | ![]() |
|---|
ছোট বেলা থেকে এই গানটা শুনে বড় হয়েছে "যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম, মহেশখালীর পানের খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম “ চট্টগ্রামের কিংবদন্তি শিল্পী [শেফালী ঘোষের] () বিখ্যাত গান ।পানগুলো অনেক ছোট কিন্তু অনেক সুস্বাদু। সারা দেশে এই পানের সুনাম রয়েছে ।
আমাদের হাতে সময় খুবই কম ছিল তাই আমরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে সকাল দশটার দিকে রুমে চলে আসি ।যা আমি ,বিগত পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। সমুদ্রের পানিতে গোসল করা মানে সম্পূর্ণ বালি মাখা লবণাক্ত পানি। বালি যেন শরীর এবং পোশাক থেকে ছাড়ছে না।
প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ,আমরা স্প্রিডবোট করে মহেশখালীতে যাব ।যেহেতু আমাদের সাথে ছোট বাচ্চারা ছিল তাই সিদ্ধান্ত হলো জাহাজে করে যাওয়া।আমরা এগারোটার জাহাজ ধরার চেষ্টা করব ,সেই উদ্দেশ্যে আমাদের গাইড চন্দন দাদা সবার রুম গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার জন্য বলল।
![]() | ![]() |
|---|
সকলকে নিয়ে এমন সুন্দর একটি যাত্রা করতে পেরেছি , ঈশ্বরের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।আমি এর আগে অনেকগুলো পোস্টে আমার যাত্রা শুরু থেকে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি ।সত্যিই সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করতে পেরে আমার খুব ভালো লাগলো । যাত্রা পথে কিছু কষ্ট হয়েছিল তারপরও একত্রে এতগুলো মন্দির কখনোই দেখা হতো না, যদি চন্দন দাদার সাথে আমরা না যেতাম ।
আমরা জাহাজ আসার অপেক্ষা করছি ,তার মাঝে সুন্দর কিছু ছবি তুলে নিলাম কারণ এই স্মৃতিগুলো ধরে রাখার জন্য । এই ছবিগুলো একদিন স্মৃতি হয়ে কথা বলবে। ছোট হলেও জাহাজের উপর থেকে এত সুন্দর দৃশ্য দেখে সত্যি চোখ জুড়িয়ে যায়। মনে হচ্ছে মানব জনম ধন্য ।
![]() | ![]() |
|---|
জাহাজ থেকে নেমে আবার অটোরিক্সা করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম । আমাদের টিমে ৪৬ জন তীর্থ যাত্রী ছিলেন তাই আমাদের অনেকগুলো অটোরিক্সা প্রয়োজন ছিল ।আমরা সবাই দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং চন্দন দাদা আমাদের জন্য অটোরিক্সা নির্ধারণ করে দিলেন। আমরা যে রিক্সায় গিয়েছিলাম সেই রিক্সায় আবার ফিরে আসি।
পাহাড়ের চূড়ায় এত সুন্দর মন্দির সত্যি দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় । এই মন্দির সম্বন্ধে জানতে হলে অবশ্যই অনলাইন মাধ্যম ঘুরে আসতে হবে। আমি আর বিস্তারিত কিছু বললাম না । সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে এখানে ধর্মের কোন ভেদাভেদ নেই ।এখানে সকল ধর্মের মানুষ জন আসা-যাওয়া করে। সবার প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন।
মন্দিরের কাছাকাছি রয়েছে রাখাইন বৌদ্ধ বিহার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মসজিদসহ ভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে । পূজা দেওয়ার জন্য সমস্ত সামগ্রী মন্দিরের সামনে কিনতে পাওয়া যায় । এই মন্দিরের ভেতরে দুটি গর্ভগৃহ রয়েছে, যার একটিতে শিবলিঙ্গ এবং অন্যটিতে দুর্গার প্রতিমা রয়েছে। প্রতিদিন অনেক দূর দূরান্ত থেকে তীর্থযাত্রী আসে এখানে ।
একটি বিষয় আমার কাছে অবাক লেগেছে , এখানে পূজা দেবার সময় যাদের জন্য সংকল্প করব তাদের জন্য আলাদা আলাদা টিকিট কাটতে হবে এবং পূজার প্রণামী আলাদা দিতে হয়। সাধ্যমত আমরা কোন মন্দির দর্শন করলে অবশ্যই প্রণামী দিব। সেটা আমার ভক্তি মত ,আমার সাধ্যমত আমি দিব ।কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ তা নির্ধারণ করে রেখেছেন এই বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগেনি ।
আমরা পুজো দিয়ে কিছু সময় মন্দিরে বসলাম । বেশি সময় বসে থাকা যাবে না কারন আমাদের দুপুর ২ টার জাহাজ ধরতে হবে। এখানে মাত্র দুটি জাহাজ। নির্দিষ্ট সময় পৌছাতে হবে তা না হলে সেই বিকেল পাঁচটায় আবার জাহাজ আসবে। যেহেতু আজ রাতে আমাদের ফিরতে হবে।
অনেক উপজাতিরা খুব সুন্দর সুন্দর তাদের হাতে তৈরি করা জিনিসপত্র বিক্রি করছে । দেখে ভালো লাগছে কিন্তু প্রতিটি জিনিসের মূল্য আকাশ ছোঁয়া, তাই কিনতে আর সাহস পেলাম না। শুধুমাত্র মহেশখালীর সেই বিখ্যাত কিছু পান কিনে চলে আসি । আমরা কক্সবাজার আমাদের রুমে চলে আসি এবং এসে দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা বার্মিজ মার্কেটে চলে আসি ।
কক্সবাজার এসেছি আর এখান থেকে প্রিয়জনদের জন্য কিছু নেব না তা তো আর হতে পারে না ।এখানে আকর্ষণীয় জিনিস গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বার্মিজ আচার। বিভিন্ন ধরনের আচার এখানে পাওয়া যায়। এখন সমস্ত কিছুতেই নকল পণ্য বের হয়েছে তাই সে পুরনো দিনের মত সুস্বাদু আচার আমি খুঁজে পাচ্ছি না। তারপরও নিতে হল যেহেতু প্রিয় মানুষদেরকে দিতে হবে ।
আমরা কিছু কেনাকাটা করলাম । এখানে যেহেতু অনেক পর্যটক আসে তাই প্রতিটি পন্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া । রাত সাড়ে নয়টায় আমাদের বহনকারী গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ।
তীর্থ যাত্রার এই পথ চলা আমার সারা জীবন মনে থাকবে ।এত কম সময়ে এতগুলো মন্দির একত্র দর্শন করতে পারব তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। তার তার সাথে বাড়তি পাওনা ছিল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ ।
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই ভালো থাকবেন ,সুস্থ থাকবেন । শুভ রাত্রি ❤️







