পরমা একাদশী পালন ও পারন

in Incredible India6 hours ago
1000041999.jpg

Hello,

Everyone,

আমরা জন্মসূত্রে একটি ধর্ম পেয়েছি । আমরা যে যার ধর্ম লাভ করেছি সেই ধর্মের রীতিনীতি পালন করা উচিত ।প্রতিটি ধর্মে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। আমাদের সনাতন ধর্মে এমন কিছু নিয়ম রয়েছে। সবকিছু তো পালন করতে পারে না তারপরও চেষ্টা করি যতটুকু পারি ততটুকু পালন করার।

হিন্দু দিন পঞ্জিকা অনুযায়ী পুরুষোত্তম হলো একটি পবিত্র মাস। একে" মল মাস" বলা হয় , আবার অধিক মাসও বলা হয় ‌ ।

স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মাসের নামটি তার নিজের নামের সাথে মিল রেখে "পুরুষোত্তম " নাম রেখেছিলেন তাই এই মাসটি অনেক পবিত্র হিসেবে গণনা করা হয়। এই মাসে অনেক নিয়ম কানুন পালন করা হয় , ‌ শ্রীকৃষ্ণের চরণে ৩৩ জোড়া তুলসী পত্র নিবেদন করা অনেক শুভ ‌।

1000041975.jpg1000041981.jpg

গত শুক্রবারে ৩৩ জোড়া তুলসী পাতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিবেদন করেছিলাম। আমার কাছে তুলসী পাতা সংগ্রহ করাটা অনেক কঠিন বিষয় , ছোট বোনের বাসা থেকে তুলসী পাতা নিয়ে এসেছিলাম ।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিবেদন করেছিলাম।

প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা তুলসী তলায় ঘি এর প্রদীপ জালানো অনেক শুভ হয়। মায়ের কাছে শুনেছি যে এই মাসে গীতা পাঠ করা এবং গীতা দান করা অনেক ভালো ।যদি মাটির প্রদীপ না জ্বালানো যায় তবে ‌ শুকনো তুলসী কাঠ দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে তা ভগবানকে দর্শন করা যায় ।‌

এই মাসে একাদশী পালন করা অনেক শুভ হয়ে থাকে ।‌ ১১ই জুন পুরুষোত্তম মাসের শেষ একাদশী ছিল। ১১ই জুন ছিল বৃহস্পতিবার ‌। বৃহস্পতিবার হল' লক্ষীর দিন' মানে 'গুরুবার'। বৃহস্পতিবার এবং পুরুষোত্তম মাসের শেষ একাদশী তাই আমিও চেষ্টা করেছি এই একাদশী পালন করার । সঠিকভাবে একাদশী পালন এবং পারন করার চেষ্টা করছি ।

1000041964.jpg1000041998.jpg

গুরুজনদের কাছে শুনেছি ,বৃহস্পতিবারে যদি পূর্ণিমা, একাদশী হয় তা নাকি অনেক শুভ । আমরা লক্ষ্মীর পাঁচালীতে পড়েছি বৃহস্পতিবার মানে 'গুরুবার' যদি পূর্ণিমা হয় এবং সেই পূর্ণিমায় উপবাস করা হয়, তা অনেক শুভ । সংসারের মঙ্গল কামনা করে গৃহিণীরা এই উপবাস করে থাকে ‌ ।

এই অধিক মাসে একাদশী তিথি গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয় ।একাদশী ব্রত বিষ্ণুর আরাধনা করার জন্য আমরা পালন করে থাকি। অনেকেই কোন ফল কিংবা সবজি না খেয়ে ‌ নির্জলা একাদশী পালন করে কিন্তু আমি অসুস্থ থাকার জন্য নির্জলা একাদশী পালন করতে পারিনি । বিকেল বেলা ‌ কিছু ফল এবং সাবু খেয়ে ছিলাম।

আমরা সকলেই জানি ,একাদশী পালন করতে হলে অবশ্যই দ্বাদশী পালন করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে একাদশী পারন করতে হয় তাহলে একাদশীর পূর্ণ ফল লাভ করা যায় । এবারে দ্বাদশী ছিল শুক্রবার তাই কলেজ কিংবা অফিসের কোন তারা ছিল না ।

আমি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠাকুরের জন্য ভোগ রান্না করি ‌ ।ভুনা খিচুড়ি করেছিলাম , কাঁকরোল ভাজি, বেগুন ভাজি, পটল ভাজি এবং তার সাথে পায়েস রান্না করেছিলাম ‌ । সবকিছু সাজিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ভগবানের নিকট ভোগ নিবেদন করেছি ‌।

1000042001.jpg1000042002.jpg

‌ আমি ‌ মন্ত্রতন্ত্র জানিনা ,তবে বরাবরই পূজা অর্চনা করতে অনেক ভালোবাসি । যতটুকু সময় পাই আমি ঠাকুরের কাজগুলো করতে খুব ভালোবাসি। সব সময় আমি দেখেছি ভোগের প্রসাদ অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে ।আমরা সাধারণত রান্না করার সময় লবণ পরীক্ষা করি ,ঝাল ঠিকমতো হয়েছে কিনা সেটা আমরা পরীক্ষা করি কিন্তু ভোগের প্রসাদ কোন কিছু পরীক্ষা করার সুযোগ হয় না । সঠিক ধারণা দিয়ে রান্না করা হয় ।মনে হয় যেন ,ভগবান সে নিজেই তার প্রসাদ তৈরি করে নেয় ।তাইতো ভোগের প্রসাদ সব সময় অমৃত হয়।

তো এভাবেই কেটে গেল আমার একাদশী পালন এবং পারন ‌। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে ভালো রাখুক ওৎসুস্থ রাখুক ।এখানেই বিদায় নিচ্ছি ।আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি অনেক ভালো লেগেছে।
শুভ রাত্রি।

center>Thank You So Much For Reading My Blog📖

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPmPayXPfM22kXaj3xKw37oQ9tua3JfrnuMRWWqGHfhuyA1UYheY5qjiFbP3BW...JWNUaLb1UAxtVkvpEzFvrbCpiTVHr2qys8cnVHpyrfv38wVPMc1Luya71X8AzcNNuKjF1rHwqMTUWN8r39rGXHzGTLWtLUbqpNh6DHaWG6eK2zUkgnx8ShFKdg.png

Sort:  
Loading...