The diary game|| Better life with steem || 31-07-2024||আজকের সন্ধ্যা ||
![]() |
|---|
| Made by Canva |
Hello,
Everyone,
আশাকরি সকলে ভালো আছেন । দুই সপ্তাহ পর আজ বাসা থেকে বের হলাম । সত্যি আমার চেনা শহরকে আজ অন্যরকম লাগছে । মনে হচ্ছে অচেনা শহরে এসেছি। অবশ্য আজকে বাইরে যাওয়ার কোন চিন্তা-ভাবনা ছিল না ।
![]() |
|---|
আজ হলো জুলাই মাসের শেষ দিন। সবার মত আমিও চাইনা এমন রক্তাক্ত জুলাই মাস আমাদের জীবনে আর দ্বিতীয় বার আসুক। রত্কাক্ত আন্দোলন, কারফিউ গোলাগুলি এইসব কারনে আর বাইরে বের হয়নি ।আজকে আমার প্রয়োজন না থাকলেও আমার প্রতিবেশীর প্রয়োজনে আজ বাইরে যেতে হবে ।
আমার প্রতি বেশি জাহিদ ভাবি। কিছুদিন আগে তার একটি ফুলকুঁটে মেয়ে সন্তান হয় ।ভাবি কসমেটিক সার্জারি করেছিলেন। বাবুটি সুস্থ থাকলেও ভাবি এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি এবং তার সার্জারিতে ইনফেকশন হয়েছে । তাকে ড্রেসিং করতে হচ্ছে এবং পুনরায় নাকি আবার তার ক্ষত জায়গা সেলাই করতে হবে।
![]() |
|---|
সাত দিন ড্রেসিং করতে হবে ।প্রথমে হসপিটাল থেকে সেবিকা নিয়ে এসেছিলেন । প্রতিদিন সেবিকা এসে তাকে ড্রেসিং করে যেতেন। যেভাবে ড্রেসিং করার নিয়ম ছিল তিনি তার কোন কিছুই করতেননা্ , ভাবির সমস্যা আরো বেড়ে যায় , বাধ্য হয়ে তাকে হাসপাতালে ছুটতে হয় এবং হাসপাতালে গিয়ে ড্রেসিং করে আসে। ভাইয়ার অফিস ২ দিন বন্ধ থাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। গতকাল আনোয়ার ভাবি নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ কোন লোক পাচ্ছিলনা তাই আমাকে তার সাথে যাবার জন্য অনুরোধ করে।
![]() |
|---|
যেহেতু বাইরের পরিবেশ এখনো থমথমে, সবকিছু স্বাভাবিক হয়নি তাই সে একা যেতে ভয় পাচ্ছে। একজন অসুস্থ মায়ের সাথে আমার থাকা উচিত আবার চিন্তা হচ্ছে সন্ধ্যা বেলা মেয়েটাকে একা বাসায় রেখে যাব? তারপরে চিন্তা করলেন যে না তার সাথে আমাকে যাওয়া উচিত । আমিও ভাবির সাথে বের হলাম ।বাসা থেকে বের হওয়ার পরে দেখি প্রধান সড়কে এখনও পুলিশ, বিডিআর, সেনাবাহিনী তখন টহল দিচ্ছেন। ভাবির সাথে সাথে আমারও একটু ভয় ভয় লাগছিল কারণ চেনা শহরটা আজ অনেকটাই অচেনা।
![]() |
|---|
বাহিরের পরিবেশটা থমথম মনে হচ্ছে , এই হয় তোবা প্রশ্ন করবে , কোথায় যাচ্ছেন? আমাদেরকে কোন প্রশ্নই করেননি। সন্ধ্যাবেলা অনেকেই অফিস থেকে বাসায় ফিরছে এবং কিছু কিছু মার্কেট খুলছে । লোকজনের সমাগম রয়েছে। আমরা রিক্সা নিয়ে হসপিটালে গেলাম এবং ভাবি জরুরী বিভাগে গিয়ে ড্রেসিং করে আসেন। আসলে মা হওয়া সত্যিই অনেক কষ্ট এবং ধৈর্যের বিষয় ।
![]() |
|---|
”মা” এই ছোট্ট ডাকটি শোনার জন্য একজন নারীকে অনেক কষ্ট করতে হয় । ভাবির কষ্ট দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে । ড্রেসিং করে ফেরার পথে দেখি আর্মি ভাইয়েরা বালুর বস্তা দিয়ে ট্যাংক তৈরি করেছেন। এভাবে ট্যাংক তৈরি করা হয় যুদ্ধক্ষেত্রে বা শীতকালীন মহড়া ক্ষেত্রে। কিন্তু আমাদের এই স্বাধীন শহরের ভিতরে যেভাবে ট্যাংক করা হলো সত্যি ভেবে অবাক লাগছে। আমাদের দেশটি কি তবে যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেল ? না শীতকালীন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ? আমাদের দেশটি কবে স্বাভাবিক হবে, সকল হানাহানি বন্ধ হবে, সবাই ভালো থাকবে সুস্থ থাকবে এবং স্বাধীনভাবে তারে কাজ করতে পারবে।
![]() |
|---|
আসার পথে মেয়ের জন্য দই ফুচকা নিয়ে আসলাম। মেয়েটা ফুচকা খেতে খুবই পছন্দ করে, তার সাথে আমিও পছন্দ করি । রিক্সাওয়ালা মামাকে বলেছিলাম এখানকার রাস্তা ভালো না তাই আস্তে আস্তে চালিয়েছিলেন। বাসা থেকে হাসপাতাল অনেক কাছে ছিল তাই আমাদের বেশি সময় লাগেনি। যে জিয়াদ ভাই একসময় ভাবির গায়ে হাত তুলতেন , তার স্ত্রীর এরকম অবস্থা দেখে খুব কান্নাকাটি করেছিলেন। খুব অনুতপ্ত হয়েছেন এবং এটাও বলেছেন, আর কখনো তার গায়ে হাত তুলবে না।
সকল স্বামী- স্ত্রীর ভালোবাসা অটুট থাকুক। একজন অন্য জনের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে তাদের সংসারটা টিকিয়ে রাখুক। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদ থাকুন।
| Device | Description |
|---|---|
| Smartphone | oppo |
| Smartphone Model | oppo A83(2018) |
| Photographer | @muktaseo |









আমরাও চাই না যে এমন জুলাই মাস আবারও ফিরে আসুক। যতদিন গলাচ্ছে ততই বিষয়টা অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে প্রথমদিকে বিষয়টার সময় স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল যদি ভালোভাবেই আমাদের ভাইদের দাবি মেনে নিত তাহলে আমার মনে হয় এমন পরিস্থিতি কখনোই হতো না।
দেশের কোন ক্ষয়ক্ষতি হতো না কোন মানুষের প্রাণ যেত না সেই সাথে দেশ আরো উন্নতির দিকে যেত দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তাতে করে আমার মনে হয় মায়ানমারের রূপ ধারণ করতে আর বেশি বাকি নাই।
আপু আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সন্ধ্যার সুন্দর কিছু মুহূর্ত আমাদের কাছে উপস্থাপনা করার জন্য।
কমিউনিটিতে ডেলিগেশন বৃদ্ধির অনুরোধ জানাচ্ছি, কমিউনিটির ভোট বৃদ্ধিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন এই আশা রাখছি।
হ্যাঁ দিদি, আমিও চেষ্টা করব কমিউনিটিতে ডেলিগেশন বৃদ্ধি করার ।