গাজরের হালুয়া
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটা দারুন মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য। এই রেসিপিটা আমি নিজেও সদ্য শিখেছি। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথেও শেয়ার করি।
গতকাল আমি পড়াতে গিয়েছিলাম। পড়ানোর বাড়িতে প্রায় দিনই আমাকে ব্রেকফাস্ট দেয়। না খেলেও জোর করে খাওয়াই। তাই ইদানিং আমি আর না করি না। খেয়ে নিই। গতকাল আমাকে গাজরের হালুয়া দিয়েছিল। সত্যি কথা বলতে এর আগে আমি কখনো কাজের হালুয়া খাইনি। আমাদের বাড়িতে এর আগে কখনো এটা রান্না করা হয়নি। তাই কেমন খেতে হবে এই নিয়ে আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। গাজরের হালুয়া বানানো যায় সেটা আমি জানি। তবে কখনো খাইনি বলে প্রথমে খেতে চাইছিলাম না। তবে বৌদি আমাকে বলেছিল," একবার খেয়ে তো দেখো, আমাদের তো সকলের খুব ভালো লাগে, তোমারও আশা করছি ভালো লাগবে।" বৌদি এতবার বলার কারণে আমি বললাম, "ঠিক আছে, অল্প করে দাও আগে খেয়ে দেখি কেমন লাগে।"
সত্যি কথা বলছি, আমার খেয়ে অসাধারণ লেগেছিল। আমি তো সঙ্গে সঙ্গে বৌদির কাছ থেকে রেসিপিটা জেনে নিলাম। আর বাড়িতে যেহেতু গাজর ছিল তাই ভাবলাম যে একবার চেষ্টা করে দেখি। বাড়িতে এসে রাতের বেলায় একা একাই গাজরের হালুয়া বানাতে বসলাম। রেসিপিটা এত সহজ যে, যে কেউ চাইলে বানাতে পারে।
চলুন তাহলে আপনাদের সাথে শেয়ার করি আমি কিভাবে এই রেসিপিটা বানিয়েছিলাম----
|
|---|
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | গাজর | ৪০০ গ্রাম |
| ২ | চিনি | পরিমাণ মতো |
| ৩ | বাদাম | পরিমাণ মত |
| ৪ | কিসমিস | ৫০ গ্রাম |
| ৫ | গোটা এলাচ | ৪ টে |
| ৬ | দুধ | ১.৫ লিটার |
| ৭ | ঘি | এক চামচ |
|
|---|
ধাপ ১:
প্রথমে গাজরের গা গুলোকে হালকা করে ঘোষে ছুলে নিতে হবে। তারপর গাজর গুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে নেব।
ধাপ ২ :
এরপর সমস্ত গাজরগুলোকে ঝিরিঝিরি করে কুচি কুচি করে নেব। এই কাজটা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। তাই এখন অনেকে এই কাজকে সহজ করে নেওয়ার জন্য মিক্সারে পেস্টও করে নেন।
ধাপ ৩ :
এরপর কড়াই ওভেনে বসিয়ে গরম করে নেব এবং গরম হয়ে এলে তার মধ্যে এক চামচ ঘি দিয়ে দেব।

ধাপ ৪ :
ঘি গরম হয়ে গেলে কুচি কুচি করে রাখা গাজর গুলোকে দিয়ে দেব। তারপর হালকা আঁচে গাজর গুলোকে ভেজে নেব।

ধাপ ৫ :
গাজর গুলো যখন ভেজে নেব তখন অন্যদিকে একটি পাত্রে দুধটা গরম করে নেব। দুধ গরম হয়ে এলে তার মধ্যে চারটে এলাচ দিয়ে দেব।

ধাপ ৬ :
এরপর গাজর গুলো একটু ভাজা হয়ে এলে তার মধ্যে অল্প অল্প করে সমস্ত দুধ টা ঢেলে দেব।
ধাপ ৭ :
এরপর মিডিয়াম আঁচে দুধটা ফুটিয়ে গাজরটাকে সিদ্ধ করে নেব।

ধাপ ৮ :
গাজরটা খানিকটা সিদ্ধ হয়ে এলে তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখা বাদাম খোসা ছাড়িয়ে দিয়ে দেব আর দেব পরিমাণ মতো কিসমিস। আপনারা কাজুবাদাম ও ব্যবহার করতে পারেন। সেইদিন যেহেতু বাড়িতে কাজুবাদাম ছিল না তাই আমি কাঁচা চিনা বাদাম ব্যবহার করেছিলাম।

ধাপ ৯ :
গাজরটা খুব ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে গেলে তার মধ্যে পরিমাণ মতো চিনি দিয়ে দেব। আমি দেড় বাটি মতো চিনি দিয়েছিলাম। গাজর সিদ্ধ হওয়ার আগে চিনি দেবেন না তাহলে গাজরটা সিদ্ধ হতে অনেক সময় লাগবে।

ধাপ ১০ :
এরপর বেশ অনেকটা সময় নিয়ে গাজরটাকে দুধের মধ্যে ফোটাতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত দুধটা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মিডিয়াম আঁচে রেখে দিতে হবে। তারপর দুধটা সম্পূর্ণ শুকিয়ে ক্ষীরের মত হয়ে আসবে এবং গাজরটা খুব সুন্দর ভাবে সিদ্ধ হয়ে যাবে। তাহলেই আমাদের গাজরের হালুয়া তৈরি হয়ে যাবে।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আপনারা সকলে অবশ্যই জানাবেন রেসিপিটা আপনাদের কেমন লাগলো। আগামীকাল আবার অন্য কোন লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।






Delicious 😋🤤 thanks for sharing 😊.