মেহেন্দির ফটোশ্যুট

in Incredible India12 days ago

নমস্কার বন্ধুরা,

সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে আমার গত দিনের পোস্টের বাকি পর্ব শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।

গত দিনের পোস্টে আপনাদের তো জানিয়েইছিলাম যে আমার মেহেন্দি করার মেইন উদ্দেশ্য ছিল ফটো তোলা। মেহেন্দি পরতে আমার মোট ৪ ঘন্টা সময় লেগেছিল। মাঝে খানিকটা ব্রেক নেওয়া হয়েছিল বটে। খুব সুন্দর করে ধীরে ধীরে ও আমাকে মেহেন্দি পরিয়ে দিয়েছিল। ও সাধারণত ব্রাইডাল মেহেন্দি একা পরাতে যায় না। ওর সঙ্গে ওর আর এক বান্ধবী যায়। যার ফলে সময়টা একটু কম লাগে। তবে যেদিন ও আমাকে মেহেন্দি পড়াতে এসেছিল সেই দিন ওর বান্ধবীর অন্য আরেক জায়গায় কাজ ছিল তাই আসতে পারিনি। আমাদের মেহেন্দির পড়া শেষ হয়েছিল রাত ৮ টার সময় আর ও শুরু করেছিল বিকেল ৪ টের দিকে।

1000408655.jpg
মেহেন্দি আর্টিস্ট যখন এলো তখন আমার শ্বশুরবাড়ির সবার সাথে ওর পরিচয় করিয়ে দিলাম। তারপর কিছুক্ষণ শাশুড়ি মা ও মাসি শাশুড়ি বসে বসে মেহেন্দি পরানো দেখছিল আর গল্প করছিল। তারপর ওরা উঠে গেল। কিছুক্ষণ পর শাশুড়ি মা চা ও স্ন্যাক্স এনে দিয়েছিল। আমরা খাচ্ছিলাম আর গল্প করছিলাম সঙ্গে ও ওর মেহেন্দি পরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। ধীরে ধীরে আমার হাতটা মেহেন্দির সুন্দর ডিজাইনে ভরে উঠছিল। এটা যথেষ্ট ধৈর্যের কাজ। যে মেহেন্দি পরাচ্ছে তার যেমন ধৈর্য্য থাকা দরকার তুই তেমনি যে মেহেন্দি পরছে তারও কিন্তু যথেষ্ট ধৈর্য্য থাকতে হবে।

1000407834.jpg
মেহেন্দির ডিজাইনটা আমি নিজেই পছন্দ করেছিলাম। যদিও আগে থেকে কিছু ভেবে রাখেনি, তবে ওর করা কিছু কাজ আমাকে দেখিয়েছিল, তার মধ্য থেকেই একটা আমি বেছে রেখেছিলাম। মেহেন্দি করতে করতে আমরা ছোটবেলার অনেক গল্প করছিলাম। যেহেতু আমরা ছোটবেলায় ওর মাসির বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাই ছোটবেলাতে ওকে অনেকবার দেখেছি। তাই সেই সমস্ত দিনের গল্পও কিন্তু আমাদের তালিকায় ছিল। আর মেহেন্দির ফটোশ্যুট উপলক্ষ্যে আমি যে ড্রেস এবং জুয়েলারি ছিলাম সেগুলো কিন্তু অনেক ভেবেচিন্তে কেনা হয়েছিল। বেশ অনেকদিন সময় নিয়েছিলাম ভাবতে যে কি রকম ড্রেস পরে ফটোশুট করব। তারপর অনেক জায়গা থেকে রেফারেন্স নিয়ে নিজের পছন্দমত একটা ড্রেস আমি একটা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে কিনেছিলাম। সেই সব ডিটেলস আমি আপনাদের সাথে পরে শেয়ার করব।

1000407836.jpg
গল্প করতে করতে, দু'ঘণ্টা কেটে গিয়েছিল। আমার একটা হাতের মেহেন্দিও করা হয়ে গিয়েছিল। তারপর আমি ওকে একটু রেস্ট নিতে বলেছিলাম। তারপর আবার ও কাজ শুরু করেছিল। এই ড্রেসের সাথে যে জুয়েলারি পরেছিলাম সেটাও কিন্তু আমার অনলাইন থেকেই কেনা। এগুলো সবই এক এক করে আপনাদের সাথে পরে শেয়ার করব। এরপর আরো দুই ঘন্টা সময় লেগেছিল আমার আরো একটি হাত কমপ্লিট করতে। মেহেন্দি পরা হয়ে গেলে দাদা কে ফোন করেছিলাম। সেইদিন ক্যামেরাম্যান ছিল আমার দাদা। বাই প্রফেশন আমার দাদা একজন ফটোগ্রাফার। তাই আলাদা করে আর ফটোগ্রাফার বুক করতে হয়নি। দাদা এসে আমার ফটো তুলে দিয়েছিল।

1000407838.jpg
এই সবকিছুর মাঝে আমার হবু বর সকলের জন্য বিরিয়ানি কিনে এনেছিল। সকলে মিলে বিরিয়ানি খেয়েছিলাম। তারপর আমি চলে গিয়েছিলাম নিজের বাড়ি আর মেহেন্দি আর্টিস্ট যে ছিল, তাকে আমার দাদা পৌঁছে দিয়েছিল।

1000407708.jpg
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...
Thank you for your valuable efforts! Keep posting high-quality content for a chance to receive more support from our curation team
1000040721.png
Curated By @ crismenia

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.32
JST 0.061
BTC 66821.91
ETH 2049.59
USDT 1.00
SBD 0.51