মজাদার স্বাদের লাচ্ছা সেমাই এর রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? অনেকদিন পর আজকে আবার চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটি মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য। বেশ কয়েকদিন ধরেই ফেসবুক কিংবা ইউটিউব খুললেই একটি রেসিপি বারবার আসছে। সেটি হল লাচ্ছা সেমাই তৈরীর রেসিপি। প্রত্যেকেই এত সুন্দর করে এটি তৈরি করছিল যে আমারও বেশ কয়েকদিন ধরে এটা বানিয়ে খেতে ইচ্ছে করছিল।
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। সঙ্গে সঙ্গেই বললাম অফিস থেকে ফেরার পথে অবশ্যই যেন মনে করে লাচ্ছা সেমাই কিনে আনে। যদিও প্রথম দিন বর কোনো দোকানে পায়নি। তবে পরের দিন অনেক খুঁজে একটা দোকান থেকে কিনে এনেছিল। তাই আমিও সঙ্গে সঙ্গেই বানাতে শুরু করলাম। আর ভাবলাম আপনাদের সাথেও রেসিপিটা শেয়ার করি। এত সুস্বাদু একটি খাবারের রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার না করলে চলে। সত্যি কথা বলছি এটা খেতে দারুন হয়। আপনারাও আপনাদের বাড়িতে এটা ট্রাই করতে পারেন। আর যারা মিষ্টি জিনিস খেতে ভালোবাসেন তারা তো অবশ্যই এটা বাড়িতে বানিয়ে খাবেন।
আমি নিচে উপকরণ সহ এটি বানানোর পদ্ধতি আপনাদের সাথে বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করছি যাতে আপনারা সহজেই বাড়িতে এই রেসিপিটি বানাতে পারেন।
|
|---|
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | গরুর দুধ | ১ লি. |
| ২ | চিনি | ১০০ গ্রাম |
| ৩ | লাচ্ছা সেমাই | ১ প্যাকেট |
| ৪ | গোটা এলাচ | ৩ টে |
| ৫ | আমুল দুধ | ২ চামচ |
| ৬ | ঘি | ২ চামচ |
| ৭ | সন্দেশ | পরিমাণ মত |
|
|---|
ধাপ ১ :
প্রথমেই, ওভেনে কড়াই বসিয়ে কড়াই গরম হয়ে এলে তাতে ১ লিটার গরুর দুধ ঢেলে দেব। এরপর দুধটাকে ফুটিয়ে নেব।
ধাপ ২ :
এরপর পরিমাণ মতো চিনি নিয়ে মিক্সারে গুঁড়ো করে নেব। গোটা চিনি দিলে সেটা মিশতে সময় লাগবে তাই আমি চিনিটা গুঁড়ো করে নিয়েছিলাম।
ধাপ ৩ :
দুধটা দিয়ে যেহেতু আমরা একটা ক্ষীর বানাবো তাই খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে নেব।
ধাপ ৪ :
এরপর সেখান থেকে খানিকটা দুধ তুলে নেব। তার মধ্যে দুই চামচ গুঁড়ো আমুল দুধ মিশিয়ে নেব।
ধাপ ৫ :
এরপর তিনটে এলাচ দিয়ে দেব।এলাচ পাউডার থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়, তবে আমার কাছে এলাচ পাউডার ছিল না। আর এলাচগুলো পরে মুখে পড়লে ভালো লাগে না তাই আমি একটা ছাঁকনি করে দুধের মধ্যে দিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ রাখার পর তুলে ফেলে দিয়েছিলাম।
ধাপ ৬ :
এরপর দুধ টাকে আরো ঘন হওয়ার জন্য জ্বাল দিতে থাকবো। আর অন্য একটি ওভেনে কড়াই চাপিয়ে, কড়াই গরম হয়ে এলে তাতে দুই চামচ ঘি দিয়ে দেব।
ধাপ ৭ :
ঘি গরম হয়ে গেলে তার মধ্যে লাচ্ছা সেমাই গুলো দিয়ে দেব।
ধাপ ৮ :
লাচ্ছা সেমাই গুলো হালকা ভেজে নিয়ে তার মধ্যে দুই চামচ চিনির গুঁড়ো দিয়ে দেব।
ধাপ ৯ :
এরপর সেমাই টা নামিয়ে একটা পাত্রের মধ্যে খানিকটা সেমাই দিয়ে চেপে চেপে রাখবো।
ধাপ ১০ :
অন্যদিকে দুধটা অনেকটা ঘন হয়ে এলে তার মধ্যে গুলিয়ে রাখা আমুল দুধ দিয়ে দেব। এর ফলে দুধটা আরো বেশি ঘন হবে এবং খেতে মজাদার হবে।
ধাপ ১১ :
বাড়িতে বেশ কিছু সন্দেশ ও প্যারা ছিল। আমি স্বাদ আরো বাড়ানোর জন্য সেগুলো দুধের মধ্যে দিয়ে দিয়েছিলাম। এর ফলেই ক্ষীর টা খেতে দারুণ হয়েছিল।
ধাপ ১২ :
সবটা দুধের সাথে মিশে গেলে দুধটা একদম ঘন ক্ষীরের মতো হয়ে যাবে। আমি আরো একটু মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য এক চামচ চিনি দিয়েছিলাম। আপনারা আপনাদের স্বাদ মতন চিনি দিতে পারেন। এরপরেই আমাদের ক্ষীর তৈরি হয়ে যাবে।
ধাপ ১৩ :
এরপর সেমাইয়ের যে একটা লেয়ার তৈরি করেছিলাম তার ওপরে ক্ষীরের একটা লেয়ার করে দেবো। এরপর আবার খানিকটা সেমাই দেব ও তার উপরে আবার ক্ষীরের লেয়ার বসাবো। তাহলেই আমাদের লাচ্ছা সেমাই তৈরি হয়ে যাবে।
ধাপ ১৪ :
তবে এখানেই শেষ নয়। এরপর পাত্রটি কে ঢেকে ঠান্ডা হওয়ার জন্য ফ্রিজে রেখে দেবো। এক ঘন্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করা যেতে পারে।
ধাপ ১৫ :
তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে আমাদের লাচ্ছা সেমাই।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

















